logo

মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮ | ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫

header-ad

আগাম বোরো কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত

খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি | আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

সাম্প্রতিক দিনাজপুরে বয়ে যাওয়া বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত আগাম রোপন করা ধান। কৃষক আগাম বোরো রোপন করে বন্যার ক্ষতচিহ্ন কিছুটা মুছিয়ে দিতে চেয়েছে। চেয়েছে স্ত্রী-সন্তানদের দু’মুঠো অন্ন সংস্থান করতে। কিন্তু সেখানে বাধ সেধেছে নিষ্ঠুর প্রকৃতি। বিস্তর মাঠ জুড়ে দিনাজপুরের খানসামায় কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে আগাম বোরো।

উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, বেলান নদীতে রোপিত বোরো আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত আগুনে পোড়ার মতো লাল হয়ে শুকিয়ে গেছে। কৃষকরা বালাই নাশক ব্যবহার করছেন, কিন্তু আশানুরুপ ফল পাচ্ছেন না। শুধু বালাই নাশকের দোকানে বাকির হিসেবটা হুহু করে বাড়ছে।

কথা হয় পশ্চিম হাসিমপুরের আব্দুল বারীর সঙ্গে। সে এবার পুলের হাটের পশ্চিম পাশে বেলান নদীতে প্রায় ৪৫ শতক জমিতে আগাম বোরো ধান রোপন করেছেন। নদীতে স্রোত আসার আগেই ধান সংগ্রহ করবে বলে অগ্রহায়নের ১০-১২ তারিখে আগাম বোরো রোপন করেন। ধানের গোছাও লক্ষনীয়ভাবে দেখা যায়।

আব্দুল বারী বলেন, ধান দেখে আমার মন শান্তি হয় যখন দেখি বড় বড় ধানের থোপ। কিন্তু এই পৌষ মাসেই এ্যামন করে ক্ষ্যাতটাত পালা ধরলো আর সামাল দিতে পারলাম না। এখন ধানবাড়ী আর আসতে মোনায় না।’ বালাই নাশক ব্যবহার করেছেন কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি পালার ঔষধের সঙ্গে ফলিকুর স্প্রের কথা বলেন। দক্ষিণ পাশেই পুলের হটের নিচে আর একটি বোরো ক্ষেত সাদা হয়ে যাচ্ছে।

গোয়ালডিহি ইউপির মাঝাপাড়ার রশিদুল প্রায় এক বিঘা জমিতে আগাম বোরো রোপন করেছেন। কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা জানায় এ পর্যন্ত কৃষি অফিসার তাদের ক্ষেতে আসেনি। কোন পরামর্শও দেয়নি। ধানের বীজতলাও একই রকমভাবে অত্যাধিক কুয়াশায় সাদা হয়ে গেছে।

কথা হয় হসিমপুরের মোতার ছেলে মহসিনের সাথে। তারা প্রায় বিশ কেজি ধানের বীজ বপন করেছেন কিন্তু বীজতলা একবারে সাদা  হয়ে গেছে। পাশেই দেখা গেল গোয়ালডিহি’র ধনেশ্বাপাড়ার লুতফর রহমান ধানের বীজতলা কোল্ড ইনজুরি থেকে রক্ষা পেতে বালাইনাশক দোকানের পরামর্শে এগ্রোভেট এমজেড এবং এমিস্টার টপ তার জমিতে প্রয়োগ করছেন।

ফেমাসনিউজ২৪/এসআর