logo

শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ | ৫ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

হাওড়ে ৯ লাখ হেক্টরে আবাদ হবে বোরো

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি | আপডেট: ২০ মার্চ ২০১৮

হাওড়াঞ্চলের জেলাগুলোয় এবার নয় লাখ ১৫ হাজার ৯২৪ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জে এক লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ হেক্টর, সুনামগঞ্জে দুই লাখ ২৪ হাজার, নেত্রকোনায় এক লাখ ৮২ হাজার ৪০০, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক লাখ সাত হাজার ৫৫২, সিলেটে ৭৪ হাজার ১২০, মৌলভীবাজারে ৫২ হাজার ৩৫২ এবং হবিগঞ্জে এক লাখ ১০ হাজার হেক্টর রয়েছে।

আর চাল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ লাখ ২৬ হাজার ৩০৭ টন। ১ মাস পরেই কিশোরগঞ্জের হাওড়াঞ্চলের কৃষক ধান কাটা শুরু করবেন। কিন্তু ফসল হারানোর শঙ্কা তাদের পিছু ছাড়ছে না। কারণ গত বছর চৈত্র মাসে পাহাড়ি ঢল ও অকাল বন্যায় জেলার কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। চলতি বছর নতুন ধান গোলায় উঠবে কি না তা নিয়ে তারা শঙ্কায় পড়েছেন।

চলতি বছর শীতের শুরুতে হাওড়ের জমি থেকে পানি নামতে থাকে। চাষিরা আবাদ করেন বোরো ধান। হাজার হাজার একর জুড়ে ধানের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে। চারদিকে এখন সবুজের সমারোহ। গত কয়েক মাস আগে যেসব হাওড় বন্যায় প্লাবিত ছিল, এখন সেখানে সবুজের বান ডেকেছে। ধানক্ষেতের দামাল হাওয়ায় কৃষকের স্বপ্নও দুলছে। গোলায় নতুন ধান তোলার মধ্য দিয়ে সব দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্ত হবেন। মাথা থেকে নামবে ঋণের বোঝা। আবার ভাবছে হড়কা বানে হাওরের ধানবিলীন হয়ে যাবে না তো!

গত মৌসুমে বন্যায় ফসল হারানোর ক্ষত এখনও তারা বয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যা মোকাবেলায় এবার সরকারি উদ্যোগে আট উপজেলায় নয়টি হাওড়ে দুইশ কিলোমিটার কাঁচাবাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। যার উচ্চতা চার ফুট ও প্রস্ত ২৫ থেকে ৩০ ফুট। তাছাড়া ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ২০টি স্লুইস গেইট। সরকারি এ উদ্যোগকে হিসেবে রেখে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে হাওড়ের কৃষক।

বোরো আবাদ নিয়ে কথা হয়, ইটনা উপজেলার পূর্বগ্রাম, লাইমপাশা, বাদলা, থানেশ্বর, মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া, চারিগ্রাম, ঢাকি, মহিষাকান্দি, অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল, দেওঘর, বাংগালপাড়া ও আদমপুর এবং নিকলী উপজেলার ছেত্রা, ছাতিরচর, সিংপুর, দামপাড়া ও গুরুই এলাকার কৃষকদের সঙ্গে। তারা জানান, গত মৌসুমে ফসল হারিয়ে দুর্গতির সীমা ছিল না। সরকারি প্রণোদনা ও ধারকর্জ করে কোনোরকমে টিকে আছেন তারা। আগের বারের কষ্টের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে এ মৌসুমে কোনো জমি অনাবাদি রাখেননি। ফসল উৎপাদনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তাদের আশা, সময়মতো সেচ, সার ও কীটনাশক পাওয়া গেলে গত মৌসুমের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন তারা।

কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, হাওড়বেষ্টিত জেলায় এবার নয় লাখ ১৫ হাজার ৯২৪ হেক্টরে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জে হয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ হেক্টর। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকরা এবার ঘরে ধান তুলতে পারবেন।

তা ছাড়া কৃষি বিভাগ ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত সব ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। বন্যা দেখা দিলে আধা-পাকা এবং খাওয়ার উপযোগী ধান কেটে নেওয়ার কৌশলও বলে দেওয়া হয়েছে। যদি আগাম বন্যা হয়, তাহলে তা প্রথমে সুনামগঞ্জে হবে। তার দুই-তিন দিন পর কিশোরগঞ্জে ঢলের পানি আসা শুরু করবে। এবার এমন কিছু হলে দুই-তিন দিনের মধ্যে দেশি প্রযুক্তির মাধ্যমে সংকট উত্তরণের চেষ্টা করা হবে।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ