logo

মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

হঠাৎ শিলা বৃষ্টি, দু:শ্চিন্তায় চাষিরা

নাজমুল হাসান নাহিদ, নাটোর | আপডেট: ২৬ মার্চ ২০১৮

নাটোরের গুরুদাসপুরে হঠাৎ শিলা বৃষ্টি ও হালকা ঝড় হাওয়ার কারনে রসুন, কালাই, মশুর চাষিরা এবং আম, জাম, লিচু, কাঁঠালসহ বিভিন্ন বাগান মালিকরা চিন্তায় পরে গেছেন। গত বছরের তুলনায় অধিক মুনাফার আশায় ব্যাপকহারে রসুন চাষ করেছেন। রসুনের আশানুরুপ ফলনও হয়েছে। মার্চ মাসের মাঝের দিকে ক্ষেত থেকে রসুন উত্তোলন এবং বেচাকেনা শুরু হয়েছে। কিন্তু বাজারদর ভাল পাচ্ছে না। রুসনের বাম্পার ফলন হয়েছে কিন্তু রসুনের দাম নেই। যে দাম আছে সে দামে বিক্রি করলে অনেক লোকসান হবে বলে জানান চাষিরা। এ বছরে আম, জাম, লিচু, কাঠাল বাগানগুলোতে বিপুল পরিমান মুকুল আসার কারনে প্রত্যেক বাগানে গুটি এসেছে প্রচুর পরিমানে। কিন্তু হঠাৎ শিলা বৃষ্টি ও হালকা ঝড় হাওয়ার কারনে বিপাকে পরেছেন চাষিরা।

রসুন চাষি আব্দুর রাজ্জাকের সাথে কথা বললে জানান, রসুনের জমিতে রসুন পরে আছে এখনও কাটা ও শুকানো হয়নি। এমনিতেই দাম নেই আবার বৃষ্টির কারনে পিছিয়ে গেলো রসুন ঘরে উঠানো। এদিকে রসুন বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরী দিতে হবে এবং দোকান বাকি পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টির কারনে সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেলো। এখন বৃষ্টি না কমলে আমরা ঘরে রসুন উঠানোর আগেই পচে যাবে। এমনিতেই রসুনের দাম নেই আবার যদি রসুন পচে যায় তাহলে আমরা অনেক লোকসানের মধ্যে পরে যাবো।

বাগান মালিক জালাল আহম্মেদ ও মিজানুর রহমান জানান,আমরা গত বছর ১০টি আম বাগান, ৮টি লিচু বাগান, ৫টি কাঁঠাল বাগান ও কয়েকটি জাম গাছ দুই বছরের জন্য বর্গা নিয়েছিলাম। গত বছর বেশি ভাল ফলন না হওয়ায় সম্পূর্ন খরচ উঠেনি কিন্তু আশায় ছিলাম এ বছরে খরচা তোলার পরেও অনেক লাভবান হবো। শুরুতে প্রত্যেকটা বাগানে বিপুল পরিমানে মুকুল এসেছিলো। কিন্তু হঠাৎ আজকের শিলা বৃষ্টি ও হালকা ঝড় হওয়ার কারনে অনেক গুটি গুটি আম পরে গেছে এবং বৃষ্টি বেশিদিন থাকলে গুটিগুলো পচে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, যে সব চাষিরা রসুন উঠিয়েছেন কিন্তু জমি থেকে বাড়িতে আনতে পারেননি তাদের জন্য ক্ষতিকর হবে এবং আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু বাগানের জন্য শুধু বৃষ্টি হলে ভাল। কিন্তু শিলা বৃষ্টি ও ঝরে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি।
ফেমাসনিউজ২৪/প্রতিনিধি/এসআর