logo

মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

জামালপুরে বোরোতে ব্লাস্ট আক্রমণ

জামালপুর প্রতিনিধি | আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৮

জামালপুরের সাত উপজেলার চলতি বছর ১৪ হাজার হেক্টর ধানক্ষেত নেক ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়েছে। ধানগাছে থোড় আসার পর পরই চাষিরা মনে করেছিলেন তা পেকে গেছে। কিন্তু পরে তারা বুঝতে পারেন অধিকাংশ ক্ষেত নেক ব্লাস্টে আক্রান্ত হয়ে সোনালি রঙ ধারণ করেছে। এখন শত শত চাষি পরিবার চরম হতাশায় ভুগছেন। বিশেষ করে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে যারা ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছেন তারা পড়েছেন চরম বিপাকে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জামালপুর জেলায় এবার ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষ হয়েছে ৪৬ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত ১৪ হাজার হেক্টরে। তবে স্থানীয় চাষিরা বলেছেন, আক্রান্ত ক্ষেতের পরিমাণ ১৮ হাজার হেক্টরের ওপরে।

সরেজমিন দেখা যায়, জামালপুর সদরের ডেফুলিবাড়ি, লাঙ্গলজোড়া, কেন্দুয়া কালিবাড়ী, নান্দিনা, ইসলামপুর উপজেলার পাথর্শী, সিরাজাবাদ, হাড়িয়াবাড়ী, পঁচাবহলা, নটারকান্দা, ঋষিপাড়া, ধর্মকুড়া ও মাদারগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে ব্রি-২৮ জাতের বোরো ক্ষেতে নেক ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। এতে করে ধানক্ষেতগুলো সোনালি রঙ ধারণ করলেও তার শীষ মারা যাচ্ছে। ধানের শীষ চিটা হয়ে গেছে।

সিরাজাবাদ গ্রামের কৃষক তাজুল ও মিনারা বেগম জানান, ধানক্ষেত নেক ব্লাস্টে আক্রান্ত হওয়ার পরও কৃষি অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আমরা পাইনি, যারা আমাদের পরামর্শ দেবেন। কৃষি অফিস সময় মতো এ রোগ সম্পর্কে চাষিদের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করলে এত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতো না।

ইসলামপুর উপজেলার পলবান্ধা ইউনিয়নের সিরাজাবাদ গ্রামের কৃষক ডিহিদার জানান, তিনি ১২০ শতাংশ জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষ করেছেন। দুই দিন আগে ক্ষেতে গিয়ে দেখেন ধানের শীষ মরে যাচ্ছে। পরে দেখি পুরো ক্ষেতের ধানের শীষ চিটা হয়ে গেছে। এখন তিনি কিভাবে ছেলেমেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকবেন তা তিনি জানেন না। একই উপজেলার নটারকান্দা গ্রামের কৃষক রহমত আলী জানান, তার ক্ষেত্রে প্রথমে দু-একটি শীষে এ রোগ দেখা দেয়। দু-তিন দিনের মধ্যে সমস্ত ধানক্ষেতে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকবার কীটনাশক স্প্রে করেও কোনো ফল পাননি।

ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মতিয়ার রহমান জানান, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। ধানক্ষেতে ব্লাস্ট একটি ছত্রাকজনিত রোগ। এ রোগে ধানের শীষ মরে ধান চিটা হয়ে যায়। ব্লাস্ট রোগ যাতে ধানক্ষেতে ছড়াতে না পারে এজন্য আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চাষিদের মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে পরামর্শ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

জেলার খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, কৃষকরা আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে তা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ নেক ব্লাস্ট রোগ ধানক্ষেতে যাতে ছড়াতে না পারে এবং চাষিরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্যে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সঠিক সময়ে কৃষকদের সঠিক পরামর্শ ও লিফলেট বিতরণ করেও সর্তক করা হয়েছে। তবে একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে প্রায় ১০-১২টি গ্রামের দায়িত্ব পালন করতে হয়।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ