logo

বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

উচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে ইউরিয়া, বিপাকে কৃষকরা

ইসমাইল হোসেন বাবু, কুষ্টিয়া | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৮

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আমনের ভরা মৌসুমে সরকারী মুল্যের চেয়ে বেশী দামে বিক্রয় হচ্ছে ইউরিয়াসহ অন্যান্য সার। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষককে অতিরিক্ত মুল্যে সার কিনতে হচ্ছে। তাছাড়া বিসিআইসির ইউনিয়ন ভিত্তিক ১৪ জন ডিলার কাগজে থাকলেও অধিকাংশ ডিলারের অস্তিত্ব সরেজমিনে খুজে পাওয়া যায়নি। এই সুযোগে খুচরা ফড়িয়া, ব্যবসায়ীরা বেশী দামে সার বিক্রয় করছে।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৮ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ও রোপা আমনের চাষ হচ্ছে এবং আমনের চাহিদা অনুযায়ী উপ বরাদ্ধসহ বিসিআইসির ইউনিয়ন ভিত্তিক ১৪ জন ডিলারের বিপরীতে আগষ্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৩ হাজার ২ শত ৬০ মেট্রিক টন ইউরিয়া বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। উপজেলার নাটনাপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুস সোবহান জানান, আমরা স্থানীয় বাজারে ১৯ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে ইউরিয়া কিনছি।

একই কথা জানালেন গোয়ালগ্রাম মহলদার পাড়ার কৃষক জনির উদ্দিন। শশীধর পুর গ্রামের কৃষক মহাবুল জানান, ১৮ থেকে ১৯ টাকা দরে ইউরিয়া কিনতে হয়েছে। আমদহ গ্রামের কৃষক আশরাফুল জানান, খুচরা বাজারে ১৮ থেকে ১৯ টাকা দরে ইউরিয়া কিনতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, বিসিআইসির ইউনিয়ন ভিত্তিক ১৪ জন ডিলার থাকা সত্ত্বেও এলাকায় তাদের কোন অস্তিত্ব না থাকায় তারা খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে উচ্চমুল্যে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা জানান, দৌলতপুরের বিসিআইসির ডিলাররা অধিকাংশই জেলার বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেন। সারের বরাদ্ধ পত্র নিয়ে তারা কি করেন তা তারা জানেন না। যে কারণে খুচরা বিক্রেতারা অন্য উপজেলায় থেকে বেশী দামে সার কিনে আনায় মুল্য বেড়ে যাচ্ছে। উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নে ইউনিভার্সেল ট্রেডার্স এর কোন অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়নি।

একই ভাবে প্রাগপুর ইউনিয়নে মেসার্স আব্দুর শুকুর, রেফাইতপুর ইউনিয়নে গোলাম রহমান, বোয়ালিয়া ইউনিয়নে মেসার্স আলমগীর হোসেন, পিয়ারপুর ইউনিয়নে মেসার্স পদ্মা ট্রেডিং, চিলমারী ইউনিয়নে মেসার্স আছাবুল হকের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। গত ৩ থেকে ৪ বছরে ঐ সকল ডিলারদের এলাকার কোনো স্থানে সার বিক্রয় কেন্দ্র ছিল কিনা তা এলাকাবাসী বলতে পারেনি। আড়িয়া ইউপির বড়গাংদিয়া বাজারে খুচরা বিক্রেতা মো. শুকুর আলীর দোকানে গ্রীণ এন্টারপ্রাইজের সাইনবোর্ড লাগানো দেখা গেছে। তবে, শুকুর আলী বিসিআইসির ডিলার নন বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম কামরুজ্জামান, ডিলারদের পর্যাপ্ত সার বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। ডিলারদের সার্বক্ষনিক মনিটরিং করা হয় বলে তিনি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, যদি ডিলাররা কর্তব্যে গাফিলতি করে থাকেন তাহলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফেমাসনিউজ২৪/কেআর/এস