logo

শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৯ ফাল্গুন, ১৪২৫

header-ad

লক্ষ্মীপুরে চরম পানি সংকট, বোরো চাষে শঙ্কা

অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০১৯

লক্ষ্মীপুরে বোরো ধানের আবাদে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে কৃষকরা জমিতে আবাদ করতে পারছেন না। মজুচৌধুরীর হাটের মেঘনা নদী সংলগ্ন রহমতখালী খালে নির্মিত স্লুইসগেটের নেভিগেশন লকসহ ১৪ ভেন্টের দুটি রেগুলেটর বিকল হয়ে পড়েছে। রেগুলেটর দুটির বেশিরভাগ গেট বন্ধ থাকায় নদী থেকে পানি খালে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে পর্যাপ্ত পানির অভাবে রোপণ করা যাচ্ছে না ধানের চারা। এতে কয়েক হাজার কৃষক পড়েছেন বিপাকে। এমন পরিস্থিতে চলতি মৌসুমে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি বোরো চাষ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, রেগুলেটর দুটির মোট ২৮টি গেট আছে। মূল রেগুলেটরের ১৪ গেটের মধ্যে দুটি ছাড়া বাকি ১২টি বিকল হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। পুরনো রেগুলেটরের ১৪টি গেটই বন্ধ। এর মধ্যে তিনটি ভেঙে গেছে। জোয়ারের সময় গেট খুলতে না পারায় রহমতখালী খালে পানি ঢুকতে পারে না। ভাঙা গেট দিয়ে কিছু পানি প্রবেশ করলেও ভাটার টানে ফের নদীতে চলে যায়। ভরা মৌসুমে পানির অভাবে জমিতে লাঙল দিতে পারছেন না কৃষকরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন লক্ষ্মীপুরের কয়েক হাজার কৃষক। ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন।

জকসিন বাজার সেচ পাম্পের মালিক সেলিম, চন্দ্রগঞ্জ সেচ পাম্পের মালিক নাছির খাঁন এবং মান্দারীর সেচ পাম্পের মালিক জিল্লালসহ বেশ কয়েকজন কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে লক্ষ্মীপুরের কৃষকরা মেঘনা নদীর জোয়ারের পানির ওপর ভরসা করেন।

বিগত বছরগুলোতে মৌসুমের এমন সময় পানির প্রয়োজন হলে রেগুলেটরের গেটগুলো খুলে দেয়া হতো। মেঘনার জোয়ারের পানি রহমতখালী খাল হয়ে আশপাশের বিভিন্ন খালে ঢুকত। খালের মাধ্যমে এসব পানি পৌঁছে যেত কৃষকের দ্বারপ্রান্তে। পর্যাপ্ত পানি প্রাপ্তির পর গেট বন্ধ করে দেওয়া হতো। কিন্তু চলতি মৌসুমে রেগুলেটরের বেশিরভাগ গেট বন্ধ থাকায় পানি প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।

সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ, হাজিরপাড়া, জকসিন, মান্দারী ও ভবনীগঞ্জের চর উভুতি ঘুরে দেখা গেছে- খালে পানি নেই। বোরো রোপণ করতে পারছেন না বেশিরভাগ কৃষক। কেউ কেউ বিকল্প উপায়ে পুকুর-দীঘি থেকে পানি নিয়ে চারা রোপণের চেষ্টা করছেন।

কৃষকরা জানান, বোরো মৌসুমে অমাবশ্যা ও পূর্ণিমার আগে-পরে চার থেকে পাঁচ দিন জোয়ার আসে। ওই জোয়ারের পানি খালে প্রবেশ করলে সে পানি পাম্প দিয়ে ক্ষেতে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় সব গেট বন্ধ থাকায় পানি খালে পৌঁছায় না।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ, চৌপল্লী, টুমচর, কালিরচর, চর উভুতি, ভবানীগঞ্জ, জকসিন, মিরিকপুর, উত্তর জয়পুর, দত্তপাড়া, তেওয়ারীগঞ্জ, কুশাখালীসহ জেলার পূর্বাঞ্চল এবং কমলনগর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ কৃষক পানির অভাবে বোরো আবাদ করতে পারছেন না।

উত্তর লরেন্স কৃষি উন্নয়ন সমিতির সভাপতি ও সেচ মালিক আবদুল গণি জানান, পানি না পেয়ে কৃষকরা হতাশ। পানির অভাব না মিটলে কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়বেন।

মজুচৌধুরীরহাট রেগুলেটরের গেট অপারেটর মো. ফয়েজ জানান, দুটি রেগুলেটরের ২৮টি গেটের মধ্যে ৫টি ভেঙে গেছে। বাকি ২৩টি গেটের ওঠা-নামার তার ছিঁড়ে গেছে। যে কারণে গেটগুলো খুলে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। গেট খুলতে না পারায় ধান চাষে কৃষকরা পানি পাচ্ছে না। বিষয়টি কতৃপক্ষকে জানিয়েছি।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলাম বলেন, রেগুলেটরের গেট খুলতে না পারার বিষয়টি জেনেছি। মেরামতের জন্য লোকজনকে খবর দেয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।

বোরো আবাদে কৃষকদের পানির অভাব কাটবে। এদিকে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহামম্মদ শাহজাহান আলী বলেন, ইতোমধ্যে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। খাল খনন শেষ হলে আর পানির অভাব থাকবে না।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি