logo

মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১ | ২৫ ফাল্গুন, ১৪২৭

header-ad

প্রধানমন্ত্রী বলার পরই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ফেমাস নিউজ রিপোর্ট | আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে দায়ের করা মোট চারটি মামলার কোনোটিতেই ছাত্রলীগের কোনো নেতার নাম ছিল না। তবে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী সংসদ অধিবেশনে তাঁদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়ার কথা বলায় রাত থেকেই পুলিশ অস্ত্রধারী ছাত্রলীগের নেতাদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে বুধবার বিকেলে হামলায় অংশগ্রহণকারী দেলোয়ার হোসেন ওরফে ডিলস নামের ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সহসভাপতি ও মাদার বকশ হল শাখার সাধারণ সম্পাদক। তিনি নৃবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করতে গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকেই জোর তত্পরতা শুরু করে। রাতেই তাদের কাছে খবর আসে, বাঘা ও লালপুর সীমান্ত এলাকার একটি বাড়িতে ছাত্রলীগের তিন অস্ত্রধারী অবস্থান করছেন। রাতেই তারা সেখানে অভিযান চালায় কিন্তু তাদের অভিযান ব্যর্থ হয়। তারা সেখানে গিয়ে কাউকে পায়নি। যোগাযোগ করা হলে বাঘা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সমীর কুণ্ডু প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা রাজশাহী মহানগরের মামলা, তাই হয়তো সরাসরি তাঁরা এসে অভিযান চালিয়েছেন। এ বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না।’ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলার পর নয়, তাঁরা সব সময় এই আসামিদের ধরার ব্যাপারে তত্পর রয়েছেন।

নগরের মতিহার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামসুন নূর বলেন, মতিহার থানার পুলিশ নগরের ভেড়িপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সহসভাপতি ও মাদার বকশ হল শাখার সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ডিলসকে আটক করেছে। এর পরই তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়ের করা ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনের দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহারে দেলোয়ারের নাম নেই। কীভাবে তাঁকে আসামি দেখানো হবে? জানতে চাইলে শামসুন নূর বলেন, এজাহারে অনেক অজ্ঞাত আসামির নাম রয়েছে। তাদের মধ্যেই তাঁকে দেওয়া হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ধিত ফি ও সন্ধ্যাকালীন মাস্টার্স কোর্স বন্ধের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গত রোববার অস্ত্র উঁচিয়ে হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এরপর পুলিশও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজনের হাতে অস্ত্র দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সময় অস্ত্র হাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান ইমনের পাশেই ছিলেন দেলোয়ার হোসেন।