logo

মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১ | ২৫ ফাল্গুন, ১৪২৭

header-ad

হরতালে প্রায় স্বাভাবিক ঢাকা

ফেমাস নিউজ রিপোর্ট | আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

চট্টগ্রামের ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে জামায়াতের ডাকা হরতালে সারা দেশে তেমন প্রভাব পরেনি৷ ঢাকা ছিল প্রায় স্বাভাবিক।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় দেখা যায় তীব্র যানজট৷ জামায়াতের নেতা-কর্মীদেরও কোনো পিকেটিং বা মিছিল করতে দেখা যায়নি৷ রাস্তায় ছিলনা জামায়াতের প্রধান শক্তি ছাত্রশিবিরও৷

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সময় এটাই ছিল প্রথম সারা দেশে হরতাল৷ রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের জনজীবনে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি৷ যানবাহন চলাচল করেছে৷ দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছে৷ আর সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালতে কাজকর্ম হয়েছে যথারীতি৷ রাজধানীতে যারা হরতালে রাস্তা-ঘাট ফাঁকা দেখতে পাবেন বলে রাস্তায় বের হয়েছেন, তারা হতাশ হয়েছেন৷ উলটে তারা দেখতে পেয়েছেন চির পরিচিত যানজট৷

রাজধানীর ফার্মগেট, যাত্রাবাড়ি, ফকিরাপুল, মতিঝিলসহ নানা এলাকা ঘুরে হরতালের কোনো আমেজ পাওয়া যায়নি৷ সকাল থেকেই রাজধানীর সড়কগুলোর ব্যস্ততা ছিল স্বাভাবিক দিনের মতই৷ ট্রাফিক পুলিশকেও দেখা যায় ব্যস্ত থাকতে৷

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির প্রতিবাদে হরতাল ডেকেছিল জামায়াত ফার্মগেটে যানজটের একটুও কমতি ছিলনা৷ ট্রাফিক কনস্টবল হায়দার আলি জানান, আগের হরতালে তাদের ব্যস্ততা কম থাকত৷ কারণ রাস্তাঘাটে যানবাহন থাকত কম৷ কিন্তু এবার তা নয়৷ স্বাভাবিক দিনের মতই তাকে গাড়ি ও পথচারীদেরও সামলাতে হচ্ছে৷ গণপরিবহন ছাড়াও ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটর সাইকেল, অটোরিকশা এবং রিকশাও চলেছে রাজধানীতে যথারীতি৷

ঢাকার দোকানপাট এবং বিপণী বিতানগুলোও হরতালে ব্যস্ত সময় কাটায়৷ ক্রেতাদেরও কমতি ছিলনা৷

ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের দোকান কর্মচারী জানান, তাঁরা স্বাভাবিক দিনে মতই সকালে দোকান খুলেছেন৷ আর ক্রেতারাও আসছেন৷ এক ক্রেতা বলেন, হরতালের কোনো প্রভাব নেই৷ তিনি বাসা থেকে নিরাপদেই কেনাকাটা করতে এসেছেন৷

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার এনায়েতুল্লাহ জানান, সকালে ঢাকা থেকে দূর পাল্লার বাস-মিনিবাস কম চললেও সকাল ১০টার পর থেকে সব রুটে দূরপাল্লার বাস-মিনিবাস চলাচল শুরু হয়৷ ঢাকার বাইরে থেকেও বাস-মিনিবাস ছেড়ে আসে ঢাকার পথে৷

তিনি আরও জানান, তাঁরা হরতালে যানবাহন আর বন্ধ না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ কারণ এমনিতেই তাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে৷ আর ক্ষতির মুখোমুখি হতে চাননা তাঁরা৷ এদিকে ঢাকার সঙ্গে দেশের সব অঞ্চলের রেল ও নৌ যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে৷ কাজ হয়েছে চট্টগ্রাম এবং মংলাসহ সব বন্দরে৷

হরতালের আগে ২ দিন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা মিরপুর এবং ধানমন্ডিতে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা করলেও হরতালের দিন বৃহস্পতিবার তাদের মাঠে দেখা যায়নি৷ পিকেটিং বা মিছিল দেখতে পাওয়া যায়নি৷ শুধু ঢাকা নয়, চট্টগ্রামসহ দেশের অধিকাংশ বিভাগীয় শহরে একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে৷ তবে বগুড়া এবং রাজশাহীতে হরতালের সমর্থনে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়ছে৷ এ ব্যাপারে কথা বলতে জামায়াত-শিবিরের কোনো শীর্ষ নেতাকে পাওয়া যায়নি৷