logo

মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১ | ২৫ ফাল্গুন, ১৪২৭

header-ad

ফেঁসে যাচ্ছেন চসিকের সাবেক সচিবসহ ১১ প্রকৌশলী!

ফেমাস নিউজ রিপোর্ট, চট্টগ্রাম | আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

নিয়োগ ও পদোন্নতিতে দুর্নীতির অভিযোগে ফেঁসে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ১১ প্রকৌশলী। ২০১৩ সালে নিয়োগ পাওয়া সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ প্রক্রিয়ার নথি তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পদোন্নতি কমিটি গঠন ছাড়া এবং জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে তাদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

২ ফেব্রুয়ারি দুদক চট্টগ্রামের উপ-সহকারী পরিচালক এসএম আকতার জামান চসিকে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেন। একই সঙ্গে চসিকের সাবেক সচিব মো. সামসুদ্দোহার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। এর আগে ২০১৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে করপোরেশনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ করে বিধিবহির্ভূতভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ/পদোন্নতি দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের তদন্ত শুরু করেন দুদক চট্টগ্রাম-২-এর উপপরিচালক মোশারফ হোসেইন মৃধা।দুদক যাদের নথি চেয়েছে, তারা হলেনথ চসিকের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, সহকারী স্থপতি আবদুল্লাহ আল ওমর, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জসীম উদ্দিন, সহকারী প্রকৌশলী জয়সেন বড়ূয়া, ফজলুল কাদের, এসএম আইয়ুব, সাইমুর ইসলাম, আবু সাদাত মো. তৈয়ব, ফরহাদুল আলম, মজিবুল হায়দার ও জয়নাল আবেদীন।

দুদক থেকে পত্র পাওয়ার কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) আলী আহম্মদ সমকালকে বলেন, 'চসিকে যোগদান করার আগে থেকে ১১ প্রকৌশলীর পদোন্নতি নিয়ে একটি জটিলতা চলেআসছে। যোগদানের পর এ বিষয়ে করণীয় জানতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পত্র লিখেছিলাম। মন্ত্রণালয় থেকে পদোন্নতিটি বিধিসম্মতভাবে হয়নি বলে মতামত দেওয়া হয়। পদোন্নতি বোর্ড গঠন ছাড়াই ১১ প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া এতে আপত্তি জানিয়ে আসছেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চট্টগ্রাম শাখার নেতারাও। এর মধ্যে দুদক ১১ প্রকৌশলীর নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি চেয়ে পত্র পাঠিয়েছে। দুদকের পত্রের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে চসিক।'

চসিকের সাবেক সচিব মো. সামসুদ্দোহা বলেন, 'দুদক থেকে অনুসন্ধানের জন্য সিটি করপোরেশনে একটি চিঠি গেছে। তাতে কী আছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। চসিকে দায়িত্ব পালনকালে নিয়োগ ও পদোন্নতি আমার একার নয়। মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ, অনুমোদন ও সিদ্ধান্তক্রমেই তা হয়েছে। আমার একার সিদ্ধান্তে কিছু হয়নি।'

২ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রামের উপ-সহকারী পরিচালক এসএম আকতার জামান স্বাক্ষরিত এক পত্রে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে চসিকের ১১ প্রকৌশলীর নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, নিয়মিতকরণ ও পদোন্নতি দেওয়ার যাবতীয় নথি তলব করা হয়। ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব নথি দুদককে সরবরাহ করার জন্য বলা হয়েছে। চসিকের প্রধান নির্বাহী বরাবর এ পত্র পাঠানো হয়। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রধান নির্বাহীর দফতর থেকে সংস্থাপন শাখাকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন ও পদোন্নতি বোর্ড গঠন ছাড়াই তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ারা বেগম সহকারী প্রকৌশলী শাহীন-উল ইসলাম, আবু সাদাত মো. তৈয়ব ও ফরহাদুল আলমের চাকরি সরাসরি স্থায়ী করেন। একই দিন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মির্জা ফললুল কাদের, এসএম আইয়ুব ও জয়সেন বড়ূয়াকে নিয়ম-নীতি না মেনে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এমনকি পাঁচজন জ্যেষ্ঠ উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে ডিঙিয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুদীপ বসাককে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতিও দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২০১৩ সালের ১৬ এপ্রিল জ্যেষ্ঠ পাঁচ প্রকৌশলী বিধিবহির্ভূত পদোন্নতিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করেন।এসব অভিযোগে ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ারা বেগমকে ওএসডি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।