logo

রবিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১ | ১০ মাঘ, ১৪২৭

header-ad

সংসদে জাপাকে নিয়ে বিতর্ক

ফেমাস নিউজ রিপোর্ট | আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

সোমবারের অধিবেশনে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর পয়েন্ট অর্ডারে দাঁড়িয়ে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুস্তম আলী জাতীয় পার্টির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তার জবাব দেন জাতীয় পার্টি থেকে সরকারে যোগ দেয়া শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। তার পক্ষে দাঁড়ান কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীও।

রুস্তম আলী বলেন, বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের, ঐকমত্যের, না জাতীয় ঐকমত্যের, তা নিয়ে আলোচনা আছে। এটা কোন ধরনের সরকার। সরকার ঐক্যমত্যের হলে আমরা আছি কোন জায়গায়? এই প্রশ্ন করে তিনি বলেন, পৃথিবীতে কোথাও সংসদীয় গণতন্ত্রে এ ধরনের কোনো নজির নেই।

বিএনপিবিহীন দশম সংসদে জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের আসনে বসার পাশাপাশি মন্ত্রিত্বও নিয়েছে। এর ফলে তাদের কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বে পালনের সমালোচনা শুরু থেকেই হচ্ছে।

রুস্তম আলী বলেন, যারা মন্ত্রী হয়েছেন, কোনো বিল আনলে তারা কী করবে? দল যদি বিপক্ষে ভোট দেয়, তাহলে তো তিনি সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন না।

এর জবাব দিতে দাঁড়িয়ে জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজিবুল হক এক সঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলে থাকার কয়েকটি নজির তুলে ধরেন।

ইসরাইল ও জার্মানিতে এর নজির আছে। পাকিস্তানেও আছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামা ডেমোক্রেটিক দলের, কিন্তু তার ডিফেন্স মিনিস্টার রিপাবলিকান দলের। এতে সাংবিধানিক কোনো ধারার ব্যত্যয় হয়নি বলেও জানান মুজিবুল হক।

দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যপদ থাকে না। যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল আগে বলেছিলেন, জটিলতা এড়াতে প্রয়োজনে তার হয়ে অন্য কোনো মন্ত্রী বিল আনবেন।

রুস্তম আলীর উদ্দেশে মুজিবুল সংসদে বলেন, “সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে তিনি খুব উদ্বিগ্ন। উনার ওরিড হওয়ার কিছু নেই। আমরা উনার চেয়ে সচেতন। উনি একসময় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ছিলেন। পরে দল বদল করে এখন আবার স্বতন্ত্র সদস্য। এজন্য বোধ হয় উনি চিন্তায় অস্থির।”

জাতীয় পার্টি সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় পালন করবে জানিয়ে তিনি বলেন, “সরকার যদি গণবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আমরা দলের পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ করব। সংসদে ওয়াকআউট করব, আবার আসব, আবার ওয়াকআউট করব। প্রয়োজনে মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করব। কিন্তু লাগাতার সংসদ বর্জন করব না।

গণতন্ত্র ও সাংবিধান সমুন্নত রাখার স্বার্থে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল দাবি করে মুজিবুল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তাই আমরা মন্ত্রিসভায়ও এসেছি।”

এরপর আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও বর্তমানে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করলেই শক্তিশালী বিরোধী দল বলে না।

জাতীয় পার্টি নিয়ে বিতর্কের আগে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিম ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 'ছাত্রলীগ লাঠি, বন্দুক, ছুরির তত্পরতা চালাচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘মাথা হেঁট হয়ে গেছে’। মাথা উঁচু করার ব্যবস্থা করুন।'

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘ঠিক’ আছে না বলে তা ‘ঠিক’ রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের টিকিট না পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী এই নেতা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আনতে হবে, এর গভীরে যেতে হবে। নইলে মানুষ আমাদের সঙ্গে থাকবে না।”