logo

শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৭ | ৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪

header-ad

স্বামীর খোঁজে কাঁদছেন রোহিঙ্গা নারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনী ও সরকার সমর্থকদের নির্যাতন অব্যাহত আছে। এরই অংশ হিসেবে দেশটি ছেড়ে পালিয়েছেন অসংখ্য নারী-পুরুষ-বৃদ্ধা-শিশু। কিন্তু বাংলাদেশে অাশ্রয় নেয়া শরনার্থীদের মধ্যে নারী ও শিশু বেশি। তুলনামূলক পুরুষের সংখ্যা কম। এর পিছনে কারণ কি? পুরুষরা কি মারা গেছেন, না দেশটিতে আছেন; না যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনটি সম্ভাবনাই কম বেশি ঘটেছে। কক্সবাজারের নানা অাশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে এমনটাই মনে হয়েছে। এদিকে পুরুষহীন নারীরা তাদের স্বজনের খোঁজে উদ্ধিগ্ন।

সপ্তাহখানেক আগে টেকনাফের কুতুপালং ক্যাম্পে এসেছেন আলমাস খাতুন। এখনো থাকার বন্দোবস্ত হয়নি। ক্যাম্পে এক পরিচিতজনের সঙ্গে আছেন। প্রশ্ন করা হয়েছিল-তার সঙ্গে পরিবারের আর কে কে এসেছেন বাংলাদেশে? 

আলমাস খাতুন বলছিলেন তার স্বামী এবং একমাত্র ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এরপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের ধরে নিয়ে গেছে। তিনি জানেন না আদেৌ তারা বেঁচে আছেন কিনা।

আলমাস খাতুনের মতো অনেক নারী ও শিশু বাংলাদেশের কক্সবাজার এলাকার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবারের পুরুষ সদস্যরা তাদের সাথে আসেনি। তাহলে তাদের পরিণতি কী হয়েছে?

রাখাইন রাজ্য থেকে আসা আরেকজন নারী শরণার্থীর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। কথা বলার সময় তিনি কান্নায় ভেংগে পড়ছিলেন।

এই নারী বলছিলেন তার স্বামী এবং তার তিন ছেলেকে তার সামনেই হত্যা করা হয়েছে। দুই ছেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় পিছন থেকে গুলি করা হয়। সেখানেই মৃত্যুর কোলে লুটিয়ে পড়ে।

তিনি আরো বলছিলেন পৃথিবীতে এখন আমার কেউ নেই। সব শেষ হয়ে গেছে।

গত ২৫ অগাষ্ট হতে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শরণার্থী বাংলাদেশে এসেছে বলে ধারণা করছে ত্রাণ সংস্থাগুলো। কিন্তু স্থানীয় মানুষ এবং জনপ্রতিনিধিরা বলছে শরণার্থীর সংখ্যা আসলে সাড়ে ৫ লাখের বেশি। এই বিপুল সংখ্যাক শরণার্থীর বড় অংশই নারী এবং শিশু।

পালিয়ে আসা এসব মানুষ বলছে তাদের পরিবারের পুরুষ সদস্যদের বেশির ক্ষেত্রেই হত্যা করা হয়েছে। অথবা নিখোঁজ আছে।

মোহাদ্দেসা নামে এক নারী বলছেন তার স্বামী, এক ছেলে এবং শ্বশুরকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী হত্যা করেছে। তিনি বলছিলেন সেনাবাহিনীর সন্দেহ ছিল তার স্বামী আল ইয়াকিন নামের একটি গ্রুপের সদস্য।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের উপর হামলার কারণ হিসেবে আরাকান রোহিংগা স্যালভেশন আর্মি বা আরসাকে দায়ি করছে। এই সংগঠনটি স্থানীয় ভাবে হারাকাহ আল ইয়াকিন নামে পরিচিত ছিল।

তবে স্থানীয়ভাবে একটা গুঞ্জন রয়েছে বেশ কিছু পরিবারের পুরুষ সদস্যরা মিয়ানমারে রয়ে গেছেন তাদের ভাষায় লড়াই এ অংশ নেয়ার জন্য। তবে এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সেনাবাহিনীর গুলিতে আহত হয়েছেন আবুল কালাম। তিনি অবশ্য এই তথ্যকে নাকচ করে দিলেন।
তিনি বলছিলেন তাকে গুলি করার সময় তারা বলেছে এই দেশ মুসলমানদের জন্য নয়।

তথ্যসূত্র : বিবিসি বাংলা

ফেমাসনিউজ২৪/আরঅ্যা/আরইউ