logo

রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ | ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪

header-ad

প্রধানমন্ত্রী নোবেল পেলে খুশি হবে কি বিএনপি?

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে ছুটে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দিয়ে নজির স্থাপন করে সারাবিশ্বে আলোচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্যাতত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের সার্বিক সহায়তাসহ মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ করায় শেখ হাসিনাকে মানবতার প্রতীক হিসেবে মনে করছেন বিশ্ব নেতারা।

দেশের জনগণের সব বিপদ-আপদে যাকে পাশে পেয়েছেন তিনি হলেন শেখ হাসিনা, যার সারাটা জীবনই কাটছে মানবতার সেবায়। শুধুমাত্র রোহিঙ্গাদের পাশেই নয় দেশের প্রতিটি জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। দেশের প্রাকৃতিক থেকে শুরু করে সবরকম দুর্যোগে শেখ হাসিনাকে পাশে পেয়েছে জনগণ। আগামীতে একইভাবে তিনি জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন বলে দাবি আওয়ামী লীগের নেতাদের।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবিকতা এবং শান্তির অনন্য নজির স্থাপনের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করার দাবি করছেন সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।

তবে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নোবেল পুরস্কার প্রস্তাবকে আমলে নিচ্ছে না বিএনপির নেতারা। তাদের মতে, এটি একটি কাল্পনিক বিষয়। এটিকে আমলে নেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। যে দেশে কোনো শান্তি নেই, রাষ্ট্রে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও গুম-খুনের ঘটনা ঘটছে সেখানে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার আশা করেন। কে কাকে নোবেল পুরস্কার দেবে এটা সম্পূর্ণ নোবেল কমিটির একান্ত বিষয়। এটি নিয়ে বিএনপির কোনো ভাবনা নেই। তবে বাংলাদেশের যে কেউ এ পুরস্কার পেলে জনগণের মত বিএনপির নেতাকর্মীরাও খুশি হবে।

প্রধানমন্ত্রী নোবেল পুরস্কার পেতে পারে এমন খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে- এ বিষয়ে বিএনপির ভাবনা কি জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যা একটা বিরাট সমস্যা। এটি শুধুমাত্র দেশের নয় এটি বিশ্ব দুর্যোগ। এ দুর্যোগ আমরা বাংলাদেশের মানুষ, সরকার, প্রশাসন এবং বিশ্ব নেতারা মিলে মোকাবেলা করছি। এ দুর্যোগে মানবতা সম্পূর্ণরূপে পর্যদস্ত। এ দুর্যোগে আন্তর্জাতিকভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের যিনি রাষ্ট্রপ্রধান তিনি আবেদন জানাচ্ছেন, প্রশাসন চেষ্টা করছে, সেনাবাহিনী, পুলিশ, দেশের জনগণ সবাই মিলে বিরাট একটা কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘে এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশের এ অবদানকে বিশ্ব সম্প্রদায় অভিনন্দন জানিয়েছে। চীনও বলছে, বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের আলোচনার ব্যবস্থা করে দেবে। সমস্যা সমাধানে মিয়ানমার সরকারকে চাপ দেবে। তবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে চীনের কাছ থেকে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, সবকিছু মিলিয়ে নোবেল কে পাবে আর কে পাবে না তা নিয়ে আমার বলার কিছু নেই। তবে আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী এখানে একটা রোল পালন করছেন। এখানে শুধু আওয়ামী লীগ নয় অন্যান্য দলও করছে। ত্রাণ দেয়ার কাজে অর্থবান এবং বিত্তবানেরাও কাজ করছে। যদি নোবেল কমিটি মনে করে তাহলে হয়তো পেতে পারেন। এটা তাদের ব্যাপার।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা, বিএনপি ঘরানার বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নোবেল পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন অথচ তার রাষ্ট্রে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও গুম-খুনের ঘটনা ঘটছে। অস্থির দেশের প্রধানমন্ত্রী কীভাবে নোবেল বিজয়ের স্বপ্ন দেখেন তা আমার মাথায় আসে না।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, নোবেল প্রাইজের এখন আর কোনো মূল্য নেই। পেলেও আশ্চর্য হব না, যেখানে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী এটা পেয়েছে। এ জন্য এ প্রাইজের কোনো মূল্য আমি দেখি না।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নোবেল পুরস্কার পাওয়াকে কোনো ভাবনাতেই দেখছি না। কাল্পনিক বিষয় নিয়ে ভাবার কিছু নেই। কারণ নোবেল কে পাবে, কে পাবে না- এ নিয়ে তো কোনো আলোচনা শুনিনি; যতক্ষণ না মিডিয়ায় তালিকা আসে। এ ধরনের জল্পনা-কল্পনা আগেও হয়নি। নতুন করে যা শুনছি তা কাল্পনিক, তবে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমাদের দেশের কেউ নোবেল পুরস্কার পেলে যেভাবে ড. ইউনূসের মত খুশি হয়েছিলাম ঠিক অন্যের বেলায়ও খুশি হবো।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম