logo

রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩ পৌষ, ১৪২৪

header-ad

৭ মার্চের ভাষণের বিশ্ব স্বীকৃতি : আজ নাগরিক সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০১৭

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ 'বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য' হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে। ৩১ অক্টোবর মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর প্রেক্ষিতে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, যেখানে বঙ্গবন্ধু ওই ভাষণ দিয়েছিলেন, সেখানে আজ ১৮ নভেম্বর শনিবার বেলা আড়াইটায় নাগরিক কমিটির ব্যানারে নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের সাত দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই নাগরিক সমাবেশের ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে সার্বজনীন রূপ দিতে নাগরিক কমিটির ব্যানারে সমাবেশটি আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।

ইতিমধ্যে সমাবেশটিকে ঘিরে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। সমাবেশে সর্বোচ্চ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার প্রস্তুতিও রয়েছে ক্ষমতাসীন দলে।

প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সমাবেশে বক্তৃতা করবেন পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক। তারা হলেন, অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী এবং বাংলাদেশে ইউনেস্কোর কান্ট্রি ডিরেক্টর বিট্রিস কালদুল। ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে ইউনেস্কোর প্রতিনিধির হাতে একটি ধন্যবাদ স্মারকও তুলে দেওয়া হবে।

আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে আবৃত্তি করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও কবি নির্মলেন্দু গুণ। একক সঙ্গীতায়োজনে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের মধ্যে সাজেদ আকবর, শাহীন সামাদ এবং চন্দনা মজুমদার সঙ্গীত পরিবেশন করবেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় থাকবেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আবদুল আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী।

নাগরিক সমাবেশ সফল করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক ছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ নেতারা কয়েকটি বর্ধিত সভা করেছেন। দলের সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো কর্মিসভা ও প্রস্তুতি সভা করেছে।

নাগরিক সমাবেশকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে বর্ণাঢ্য সাজসজ্জাও করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ওপর রঙবেরঙের ডিসপ্লে ছাড়াও ব্যানার-ফেস্টুন এবং নাগরিক কমিটির পক্ষে শত শত পোস্টার লাগানো হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও সংলঘ্ন এলাকাকেও মনোরম সাজে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। সমাবেশের মূল মঞ্চ বানানো হয়েছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য সামনে থাকছে আলাদা একটি মঞ্চ। সমাবেশ কার্যক্রম সরাসরি প্রচারে সমাবেশস্থলে কয়েকটি বড় এলইডি মনিটর স্থাপন এবং সংলঘ্ন বিভিন্ন সড়কে কয়েকশ' মাইক স্থাপন করা হয়েছে। নাগরিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও এর আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় সাজানো হয়েছে এই এলাকা।

১৭ নভেম্বর শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশের মঞ্চ নির্মাণসহ সার্বিক প্রস্তুতি কাজ দেখতে যান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এটি বিএনপির পাল্টাপাল্টি কোনো সমাবেশ নয়। আওয়ামী লীগের সমাবেশও নয়। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বিশ্বের ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় নাগরিক কমিটি এই সমাবেশের আয়োজন করেছে।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতায় বিশ্বাসী দেশের প্রতিটি নাগরিক, যারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন- তারা সবাই এই নাগরিক সমাবেশে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এই সমাবেশ এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় সমাবেশ হবে।

এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, একেএম এনামুল হক শামীম, অসীম কুমার উকিল, আমিনুল ইসলাম আমিন ও শাহে আলম মুরাদসহ দল এবং সহযোগী-ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা তার সঙ্গে ছিলেন।

ফেমাসনিউজ২৪/আরঅ্যা/আরইউ