logo

রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩ পৌষ, ১৪২৪

header-ad

প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০১৭

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়েও বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানার সুযোগ পায়নি বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি যেন আর কখনো ক্ষমতায় এসে ইতিহাস বিকৃতি ঘটাতে না পারে সে জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানান। 

১৮ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ 'বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য' হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়া উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার একটাই অনুরোধ আর যেন কখনো ওই পাকিস্তানের প্রেতাত্মা, ওই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পদলেহনকারী, তোষামোদি চাটুকারের দল বাংলার মাটিতে ইতিহাস বিকৃতি করবার সুযোগ না যায়। তার জন্য সমগ্র বাংলাদেশের মানুষকে জাগ্রত হতে হবে।

বক্তব্যের শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ৩০ লাখ শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। এ সময় শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতাও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বাংলাদেশ স্বাধীন। এই স্বাধীনতা ২৩ বছরের সংগ্রাম এবং নয় মাসের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এসেছে। বাঙালি জাতি হিসেবে পাওয়া গেছে বিশ্বদরবারে মর্যাদা। আর এই মর্যাদা এনে দিয়েছেন মহান নেতা বঙ্গবন্ধু।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের কথা উল্লেখ করে সেদিনের কিছু স্মৃতিচারণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভাষণের আগে তার মা বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী ফজিলাতুন্নেসা মুজিব শেখ মুজিবুর রহমানকে বলেছিলেন, তিনি যেন নিজের মনের মতো ভাষণ দেন। কোনো লিখিত বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করেন। ফজিলাতুন্নেসা বলেছিলেন, তোমার মনে যেই কথা আসে শুধু সেই কথাই বলবে। মায়ের এই পরামর্শকে শ্রেষ্ঠ পরামর্শ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রনায়ক ভাষণ দিয়েছেন, তা অনেক স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে সেগুলো ছিল লিখিত। কিন্তু ৭ মার্চের ভাষণের কোনো লিখিত বক্তব্য ছিল না, ছিল না কোনো নোট। ওই এক ভাষণেই তিনি সব দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। কারণ বঙ্গবন্ধু জানতেন কী ঘটতে পারে। এই ভাষণে তিনি বাংলাদেশের সব মানুষের ২৩ বছরের নিপীড়ন, অত্যাচার, শোষণের কথা বলেছিলেন। কী কী করণীয় তার নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫-এর পর যারা ক্ষমতা দখল শুরু করেছিল, যারা এই মাটিতে জন্ম নেয়নি। তাই তারা বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না।

যারা একদিন এই ভাষণ বাজাতে বাধা দিয়েছে, নাম মুছতে বাধা দিয়েছে আজকে যখন ইউনেস্কোর স্বীকৃতির কথা জেনেছে তখন তারা লজ্জা পেয়েছে কি না সেই প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই দেশের মানুষ ২১ বছর স্বাধীনতার আসল ইতিহাস জানতে পারেনি, কী দুর্ভাগ্য। বিজয়ী জাতি তাদের বিজয়ের ইতিহাস জানতে পারে না, এর থেকে দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে?’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে নাগরিক কমিটির ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বক্তৃতা করেন পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক, অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী এবং বাংলাদেশে ইউনেস্কোর কান্ট্রি ডিরেক্টর বিট্রিস কালদুল।

সমাবেশে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে ইউনেস্কোর প্রতিনিধির হাতে একটি ধন্যবাদ স্মারকও তুলে দেওয়া হয়।

নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আবদুল আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরীল সঞ্চালনায় আয়োজনে বক্তব্যের ফাঁকে-ফাঁকে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সেখানে আবৃত্তি করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও কবি নির্মলেন্দু গুণ। একক সঙ্গীতায়োজনে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের মধ্যে সাজেদ আকবর, শাহীন সামাদ ও চন্দনা মজুমদার সংগীত পরিবেশন করেন।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ