logo

বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ | ৩০ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

যে কারণে এমপি-পুত্র অনিকের আত্মহত্যা

বিশেষ প্রতিবেদক | আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০১৮

রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকার এমপি হোস্টেলের একটি কক্ষে আত্মহত্যা করেছেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহর ছেলে অনিক আজিজ। রোববার সকাল ৮টার দিকে ৫ নম্বর ভবনের (এমপি হোস্টেল) ৬০৪ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ অনিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গনেশ গোপাল বিশ্বাস অনিকের আত্মহত্যার এ বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। অনিকের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শেরেবাংলা নগরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মফিজুল হক জাহাঙ্গীর জানান, ন্যাম ভবনে সংসদ সদস্য দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে থাকতেন। স্ত্রী সাধারণত সাতক্ষীরাতেই থাকেন। ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ও সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ সাতক্ষীরার নিজ নির্বাচনী এলাকা থেকে রোববার ভোরেই ঢাকায় ফেরেন। ফ্ল্যাটে এসে তিনি ছেলেকে ডাকলেও কোনো সাড়াশব্দ পাচ্ছিলেন না। তখন ঘরের মধ্যে ছেলের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান বলে জানান মফিজুল হক জাহাঙ্গীর।

তবে তারা ধারণা করছেন, শনিবার রাতের কোনো এক সময় আত্মহত্যা করেছে অনিক।

অনিক আজিজ এমপি লুৎফুল্লাহর একমাত্র ছেলে। তিনি দুই ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড়। অনিক খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে বিএসসি শেষ করে ঢাকার ড্যাফডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএসসি পড়া-লেখা করছিলেন।

সংসদ মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, তিনি ও তার স্ত্রী আজ ভোরে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকার বাসায় ফিরে ছেলের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। পরে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। অনিক তার একমাত্র ছেলে। এ ছাড়া তাদের একটি মেয়েও রয়েছে।

পুলিশ বাসা থেকে অনিকের ব্যবহৃত ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে বলেও জানান মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।

শেরেবাংলা নগর থানার ওসি গনেশ গোপাল বিশ্বাস বলেন, রোববার সকালে খবর পেয়ে তারা ৫ নম্বর ভবনে সাংসদের বাসা থেকে অনিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেন।

তিনি জানান, ২৭ বছর বয়সী অনিক খুলনার সিটি পলিটেকনিক থেকে ইলেক্ট্রিক্যালে ডিপ্লোমা করে বিদেশে পড়তে যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে আইইএলটিএস করছিলেন। পাশাপাশি পাঠশালায় ফটোগ্রাফির কোর্স করছিলেন তিনি।

শেরেবাংলা নগর থানার এসআই শফিকুর জানান, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের তার গলায় পেঁচানো অবস্থায় অনিকের দেহ শোবার ঘরের ফ্যান থেকে ঝুলছিল। তার শরীরে আর কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে মনে করছে। তবে এমপি লুৎফুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘পোস্ট মর্টেম হলেই সব বোঝা যাবে।’

অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য। সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসন থেকে এবারই প্রথম তিনি এমপি হয়েছেন।

জানা যায়, গতকাল শনিবার রাতে ন্যাম ভবনের ওই বাসায় ছিলেন অনিক, তার বোন অদিতি আদৃতা সৃষ্টি এবং তাদের পরিবারের এক ড্রাইভার।

সংসদ সদস্যর ব্যক্তিগত সহকারী মফিজুল হক জাহাঙ্গীর বলেন, ‘রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই ঘুমাতে যায়। সকালে সবাই উঠলেও অনিক উঠছিলেন না। অনেক ডাকাডাকির পরও তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বিকল্প চাবি দিয়ে ঘরের দরজা খুলে ভেতরে তার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায় 

তিনি জানান, ময়নাতদন্ত শেষে অনিকের মরদেহ হেলিকপ্টারে করে সাতক্ষীরা সদরের পলাশপোলে নেয়া হবে। সেখানেই তার দাফন হবে।

নিহতের চাচা শরিফুল্লাহ কাইসার সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে, ঘটনা শোনার পর সাতক্ষীরায় এমপির স্থানীয় বাড়িতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ভিড় করছেন।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআই/আরবি