logo

শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮ | ৪ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

শ্যামলী পরিবহনে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

এসএসসির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার আগে চট্টগ্রামের এক স্কুলের পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে পাওয়া গেছে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন। যা পরীক্ষার আসল প্রশ্নের সঙ্গে মিলেও গেছে।

বন্দরনগরীর ওয়াসা মোড়ে পরীক্ষার আগে দাঁড়িয়ে থাকা শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে অভিযান চালিয়ে ওই প্রশ্ন পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ আলী খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। 

ওই বাসে পটিয়া আইডিয়াল স্কুলের ৫০ জন পরীক্ষার্থী ছিল। বাংলাদেশ মহিলা সমিতি (বাওয়া) উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসার জন্য তারা ওয়াসার মোড়ে বাসের ভেতরে অপেক্ষা করছিল। প্রাথমিকভাবে ওই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসতে দিয়ে তাদের মোবাইল ফোনে পাওয়া প্রশ্ন মিলিয়ে দেখা হয়েছে বলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে পাওয়া পাঁচটি ফোনেই পদার্থ বিজ্ঞানের এমসিকিউ প্রশ্ন ছিল। সেসব প্রশ্ন মিলে গেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুরাদ আলী জানান, মঙ্গলবার সকালে পরীক্ষা শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা আগে ওয়াসা মোড়ে একটি বাসে পরীক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। বাসে উঠে তারা দেখতে পান, শিক্ষার্থীরা কোনো কিছু পড়ছে। পরে তাদের তল্লাশি করে বেশ কিছু মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। সেসব ফোনে কিছু প্রশ্নের সফট কপি পাই আমরা। সেগুলো তারা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পেয়েছে বলে আমাদের জানিয়েছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেছেন, পরীক্ষা পরিচালনার বিধিমালা অনুযায়ী তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) হাবিবুর রহমান জানান, পরীক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম আইডিয়াল স্কুলের পটিয়া শাখার শিক্ষার্থী। পরীক্ষার্থীরা শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি ওই বাসের শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র আছে। পরে ওই তথ্যের ভিত্তিতে সকাল সোয়া ৯টার দিকে কোতোয়ালি থানাথীন জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের সামনে ওই বাসে তল্লাশি চালায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোরাদ আলীর নেতৃত্বে একটি টিম। এ সময় ওই বাসে থাকা ৭/৮জন শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনে প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। ওই প্রশ্নপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার জন্য প্রদত্ত প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়া যায়।

তিনি আরো বলেন, আটক পরীক্ষার্থীদের বিশেষ নজরদারিতে রেখে একটি আলাদা কক্ষে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এরপর তাদের নিয়মিত মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখানো হবে।

চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে কোনো উদ্যোগ কাজে না আসায় গত রোববার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (মাউশি), সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের নতুন নির্দেশনা পাঠানো হয়।

সেখানে বলা হয়, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে সব পরীক্ষার্থীকে হলে ঢুকে আসনে বসতে হবে। ওই সময়ের পরে আর কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।

আর পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে কিংবা পরীক্ষা কেন্দ্রর ভেতরে মোবাইল ফোনসহ কাওকে পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার পরীক্ষায় ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৯৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়ছে আর শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই তা মোবাইলের মাধ্যমে পেয়ে যাচ্ছে। চলতি এসএসসি পরীক্ষায় এ পর্যন্ত আট দিনে আটটি বিষয়েরই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, যা প্রশ্নপত্র ফাঁসের রেকর্ড।

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে পরীক্ষার সময় কোচিং সেন্টার বন্ধ, পরীক্ষার্থীদের আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষাকক্ষে বসা এবং কেন্দ্রের ভেতর মোবাইল ফোন না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। কিন্তু কোনো পদক্ষেপই কাজে আসেনি। পরে প্রশ্ন ফাঁসকারীদের ধরিয়ে দিলে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণাতেও লাভ হয়নি। পরীক্ষার দিন ইন্টারনেট সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধের চেষ্টা করেও প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো যায়নি। 

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ