logo

বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ, ১৪২৫

header-ad

নিয়ম মানে না মোটরসাইকেল!

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ১৯ মার্চ ২০১৮

ঢাকার রামপুরায় ব্যস্ত ডিআইটি রোড। ঝাঁকে ঝাঁকে মোটরসাইকেল রাস্তা কিংবা ফুটপাত দিয়ে এঁকেবেঁকে এগিয়ে যাচ্ছে। দূর থেকে দেখা গেল, একজন মোটরসাইকেল আরোহী এবং একজন মাইক্রোবাসচালকের মধ্যে ঝগড়া চলছে। ঝগড়ার  এগিয়ে জিজ্ঞেস করতেই মাইক্রোবাসচালক মো. সিরাজ তীব্র ক্ষোভ ঝাড়লেন মোটরসাইকেল আরোহীর বিরুদ্ধে। ততক্ষণে মোটরসাইকেল আরোহী চলে গেছেন।

সিরাজ বলেন, ‘কিচ্ছু বুঝে না। হের (মোটরসাইকেল আরোহী) কথা অইলো হের আগে যাইতে অইবো। রঙ সাইড দিয়া ঢুইকা বলে আমরা আগে যাইয়া লই।’

এমন ঝগড়া রাজধানীতে হরহামেশা হচ্ছে। একটি গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে, বিশেষ করে ঢাকা শহরে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশ বেড়েছে। এ বাহনটি দিন দিন যেমন জনপ্রিয় হচ্ছে, তেমনি মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া আচরণের অভিযোগও জোরালো হচ্ছে। একইসঙ্গে মোটরসাইকেল আরোহীদের দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানও ভারী হচ্ছে। বিপজ্জনক বাহন হিসেবে মোটরসাইকেলের পরিচিতি থাকলে ঢাকার মতো শহরগুলোতে চলাচলের জন্য অনেকেই এটিকে বেছে নিচ্ছেন।

মোটরসাইকেলের যখন এমনিতেই বাড়ছে, তখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল পরিবহন সেবা। এ সেবা আসার পরেও অনেকে নতুন করে মোটরসাইকেল কিনেছেন বাড়তি লাভের আশায়। তীব্র যানজটের ঢাকা শহরে দ্রুতগতিতে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার জন্য মোটরসাইকেলের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন আরোহীরা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক শামসুল আলম বলছেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মোটরসাইকেল একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাহন। চার চাকার বাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ঝুঁকি ৩০ গুণ বেশি বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক শামসুল আলম। মানুষ নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বাহনটির দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে বলে অধ্যাপক আলম মনে করেন।

শহরের বিভিন্ন জায়গায় সুযোগ পেলেই বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো কিংবা ফুটপাতের ওপর দিয়ে মোটরসাইেকেল চালানো একটি নিত্যনৈমিত্ত্যিক ঘটনা। পথচারীদের অভিযোগ অনেক মোটরসাইকেল আরোহী ফুটপাতের উপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালানো তাদের অধিকার বলে মনে করে। তা ছাড়া রাস্তার সিগন্যালে অপেক্ষার ধৈর্যও তাদের থাকে না বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এমন পরিস্থিতির জন্য মোটরসাইকেল আরোহী ফরহাদ হোসেন দায়ী করলেন অন্য বাহনকে।

ফরহাদ হোসেন বলেন, আমাদের জন্য রাস্তার বাঁ পাশে কয়েক ফুট জায়গা ছেড়ে দিক। তাহলে তো আমরা যেতে পারি। কিন্তু বাস কিংবা প্রাইভেটকারগুলো সে সুযোগ দিতে চায় না।

মোটরসাইকেল যাতে ফুটপাতের ওপর দিয়ে চলতে না পারে সে জন্য ২০১২ সালে হাইকোর্ট একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। ঢাকা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ফুটপাতের উপর যাতে মোটরসাইকেল উঠতে না পারে সে জন্য স্টিলের পাইপ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে।

অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক শামসুল আলম বলছেন, তীব্র যানজটের কারণে সাবাই দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য ব্যাকুল। যানজট সমস্যার সমাধান না হলে এ প্রবণতা ঠেকানো বেশ মুশকিল বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক আলম।

পুলিশ বলছে, বেপরোয়া কিংবা ফুটপাতে মোটরবাইক চালানোর বিরুদ্ধে শহরের বিভিন্ন জায়গায় জরিমানা করা হচ্ছে। কিন্তু আরোহীদের সচেতনতা এবং মানসিকতা না বদলালে এটি পুরোপুরি বন্ধ করা মুশকিল বলে মনে করছে পুলিশ।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ