logo

শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ | ৫ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

তনু হত্যার দুই বছর আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ২০ মার্চ ২০১৮

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার দুই বছরপূর্তি আজ মঙ্গলবার। দেখতে দেখতে চলে গেল দুটি বছর। কিন্তু তনুর ঘাতকরা এখনো অধরা। যতই দিন যাচ্ছে সুষ্ঠু তদন্ত আর বিচার পাওয়া নিয়ে স্বজনদের মাঝে সংশয় আর হতাশা ততই বাড়ছে। মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে সোমবার গভীর হতাশা প্রকাশ করেন নিহত তনুর মা আনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না। গত ৮ মার্চ সিআইডির জালাল (মলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি কুমিল্লার এএসপি জালাল উদ্দীন আহমেদ) দেখা করে গিয়েছে। মামলার অগ্রগতির বিষয়ে সিআইডি পুলিশের কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা দেখতাছি। আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, পুলিশ আসামিদের ধরছে না। আমার মেয়ে তো অ্যাকসিডেন্টে মারা যায়নি, মেরে ফেলেছে। তিনি আরও বলেন, তনুর বাবা তিন মাস ধরে অসুস্থ। বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। কেউ এখন আর আমাদের খোঁজ নেয় না। তিনি তার মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার চান।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরের একটি জঙ্গল থেকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। থানা-পুলিশ ও ডিবির পর ওই বছর ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। ওই বছরের মে মাসে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজনের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল এবং হত্যার আগে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে তারা নিশ্চিত হয়েছিল। তবে কেন-কোথায় এবং কীভাবে তনুকে হত্যা করা হয়েছে, তা নিয়ে এখনো সব মহলে গুঞ্জন চলছে। তনুর স্বজনরা জানান, ঘটনার পর পর ঘাতকদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও ধীরে ধীরে সবই থেমে গেছে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক, সামাজিক সংগঠন, গণজাগরণ মঞ্চ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো একসময় সরব থাকলেও এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে এখন কেউ কথা বলছে না। মামলার অগ্রগতিও জিজ্ঞাসাবাদেই আটকে আছে।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ