logo

মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮ | ৩০ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

শাড়িতে বদলে গেলেন খালেদা!

  মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০১৮

বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া বাসা থেকে বের হলে বা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হলে সব সময় এক রংয়ের শাড়ি পড়তে দেখা গেলেও আজ তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। খালেদা জিয়া সাধারণত আকাশী, গোলাপী, সাদা বা বেগুনী রং এর শাড়ি পরে বাসা থেকে বের হন বা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন।

তবে আজ পরেছিলেন সাদা প্রিন্টের শাড়ি। যেখানে সাদা শাড়ির আচলে কালো রং এর গাছের পাতার নকশা করা হয়েছে। এমন শাড়ি পড়া অবস্থায় কখনই দেখা যায়নি বিএনপি চেয়ারপারসনকে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) আনা হয়। কিছু পরীক্ষা শেষে হাসপাতাল থেকে আবারও তাকে কারাগারে নেয়া হয়। বেলা ১টা ৩০মিনিটের দিকে খালেদাকে বহনকারী গাড়িটি কারাগারের উদ্দেশে রওনা হয়।

জানা যায়, কারা কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। এর আগে সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে বের করা হয়। চিকিৎসার হাসপাতালের কেবিন ব্লকের ৫১২ রুমে নেয়া হয় সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে। আগে থেকেই খালেদা জিয়ার জন্য ওই কেবিনটি প্রস্তুত রাখা ছিল।

খালেদা জিয়া হাসপাতালে পৌঁছালে গাড়ি থেকে নামার সময় বরাবরের মতই সাংবাদিকদের দিকে তাকান। এসময় তাকে হাস্যজ্জ্বল দেখা গেছে। যাবার সময়ও একইভাবে সাংবাদিকদের দিকে হাস্যজ্জ্বলভাবে তাকিয়ে বিদায় নেন।

হাসপাতাল থেকে বিদায়ের সময়কার খালেদা জিয়ার হাস্যজ্জ্বল ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই তার ছবি পোষ্ট করে লিখেছেন, আপোষহীন নেত্রী খালেদা জিয়া। মিথ্যা মামলায় নিজের শক্তিকে ঠিক রেখে হাস্যজ্জ্বল রয়েছেন তিনি।

খালেদাকে হাসপাতালে নেয়া উপলক্ষে সকাল থেকেই রাজধানীর কেন্দ্রীয় কারাগার, পুরান ঢাকা, আলিয়া মাদ্রাসা চত্বরসহ আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা নেওয়া হয়। সব ধরনের যান চলাচল শিথিল করা হয়। সকাল থেকে বিএসএমএমইউতেও পুলিশের তৎপরতা দেখা গেছে।

খালেদা জিয়া দুই মাস ধরে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে বন্দি হিসেবে রয়েছেন। তার চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় যার নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. শামসুজ্জামান। বোর্ডে সদস্য রয়েছেন ডা. মনসুর হাবীব (নিউরোলজি), টিটু মিয়া (মেডিসিন) ও সোহেলী রহমান (ফিজিক্যাল মেডিসিন)।

গত ৪ এপ্রিল খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান শাহীন জানান, আগের সমস্যাগুলোর পাশাপাশি খালেদা জিয়ার নতুন কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। অপাতত তার রক্ত পরীক্ষার পাশপাশি দুই হাঁটুতে এক্স-রে করাতে হবে। পরীক্ষার পরই বোঝা যাবে তার অসুস্থতা গুরুতর কি না। এরপরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

ডা. শাহীন বলেন, খালেদা জিয়ার দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা। তার হাঁটুতে এখন যে ব্যথা, তা তাঁর বয়স থেকে হতে পারে। আগের অপারেশনের জেরেও হতে পারে, আবার নতুন হতে পারে।

তিনি জানান, তার কোমর ও ঘাড়ে বড় ধরনের কোনো সমস্যা আছে কিনা তা জানতে সিটিস্ক্যান বা এমআরআই করানো লাগতে পারে। তার ব্যথা কেবল শিনশিন-ঝিনঝিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাকি হাড় পর্যন্ত পৌঁছেছে তা জানতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসান খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এ মামলায় অন্য আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই বন্দি রয়েছেন তিনি।

গত ১২ মার্চ খালেদার চার মাসের অন্তবর্তী জামিন মঞ্জুর করেন উচ্চ আদালত। কিন্তু ১৯ মার্চ আপিল বিভাগ ৮ মে পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করেন।

এদিকে, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছে দলটি। আগে চার দফায় বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন, অবস্থান, গণঅনশন, গণস্বাক্ষর অভিযান, স্মারকলিপি পেশ, কালো পতাকা প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে চলেছে দলটি।

ফেমাসনিউজ২৪/এসএ/এস