logo

মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮ | ৩০ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

ইশা’র সম্মানহানির দায় নেবে কে?

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০১৮

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত আরা ইশার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। কমিটির তদন্তে তাকে নির্দোষ বলা হয়েছে।

শুক্রবার ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, ইশরাত জাহান ইশা (সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কবি সুফিয়া কামাল হল শাখা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুসারে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তার ওপর আরোপিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে স্বপদে পুনর্বহাল করা হলো।

গতকাল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নুসরাত জাহান নুপুর ও নিশীতা ইকবাল নদী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। আজ কমিটির দেয়া প্রতিবেদন অনুসারে তাকে নির্দোষ প্রমাণ করা হয়।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হলের ছাত্রীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দিতে গেলে ইশার নেতৃত্বে ছাত্রলীগকর্মীরা তাদের বাধা দেন। পরে আন্দোলন থেকে ফিরে এলে তাদের গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে মারধর করে রক্তাক্ত করেন। একপর্যায়ে ইশা নিজ হাতে উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের চতুর্থবর্ষের ছাত্রী মোরশেদা বেগমের পায়ের রগ কেটে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। হলের সিঁড়ি ও মেঝেতে রক্তের ফোঁটা দাগ দেখা গেছে- এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সেই রাতে রগ কাটার ঘটনা ছড়িয়ে যাওয়ার পর কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়াই তাৎক্ষণিক ইশাকে সুফিয়া কামাল হলের সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। রাতে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

একইসঙ্গে ঘটনার সঠিক তদন্ত ছাড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ইশাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিশ্চিত করেন। এর আগে তিনি ইশাকে হল থেকে বহিষ্কারের আদেশও দেন।

সেই রাতেই ইশাকে সবার সামনে জুতার মালা পরিয়ে দেয়া হয়। সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হয়, যা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল।

ঘটনার একদিন পর অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিকেলে ইফফাত জাহান ইশার বাসায় গিয়ে তার প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক একদল নেতা। এসময় প্রত্যেকেই ইশাকে ফুলের মালা পরিয়ে দেন।

তবে এসব ঘটনা নিয়ে অনেক নেতাই প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, প্রথমে জুতার মালা পরানো হলো, সেটি ভিডিও করে ভাইরাল করা হলো, ছাত্রলীগের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। আবার একজন ছাত্রীকে কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বহিষ্কার করা হলো।

'তাকেই আবার ফুল দিয়ে বরণ করা হলো। সবই ঠিক আছে। আজ সে আবার তার পদ ফিরে পেয়েছে। হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ও তার শিক্ষাজীবন ফিরে দিয়ে বহিষ্কার আদেশ তুলে নেবে। কিন্তু ইশার যে সম্মানহানি হলো তার দায় নেবে কে? এ দায় ছাত্রলীগ নেবে নাকি বিশ্ববিদ্যালয় নেবে। যদি তারা নেয়ও তবে কি ইশা তার সম্মান ফিরে পাবে, যা তিনি হারিয়েছেন।

ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইশা ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলের একজন সভাপতি। তাকে জেনে বুঝেই এ দায়িত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। তার বিরুদ্ধে এমন একটা সিদ্ধান্ত হুট করে নেয়া তাদের কি উচিত হয়েছে? ছাত্রলীগ হয়ে যদি তার পাশেই না দাঁড়ালাম তবে কেন ছাত্ররা ছাত্রলীগ করবে? একজন সভাপতি যদি অন্যায় না করেও জুতার মালা পরে তবে সাধারণ ছাত্রলীগ কর্মীর কী হবে?

ছাত্রলীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যে সম্মান ইশা হারিয়েছেন তা আর ফিরে আসবে না। এর দায়ভারও কেউ নিতে পারবে না। হয়তো সবই ঠিক হবে তবে ইশার জীবনে যা ঘটে গেল তা পূরণ হবার নয়। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেবার আগেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে একটু সতর্ক থাকা উচিত। কারণ এটা ছোট কোনো সংগঠন নয়।

ইশার স্বপদ ফিরে পাওয়া এবং নির্দোষ প্রামাণিত হওয়ায় অনেকেই তাকে অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি আপেল মাহমুদ লিখেছেন, 'এশা নির্দোষ, ধন্যবাদ প্রাণপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে'।

ছাত্রলীগের অনুসারী সুব্রত মণ্ডল নামের একজন লিখেছেন, 'অভিনন্দন ইশা! সত্যের জয় হল। কৃতজ্ঞ প্রাণপ্রিয় সংগঠনের নীতিনির্ধারকদের।

ফেমাসনিউজ২৪/এমআরইউ/এফএম/এমএম