logo

শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮ | ৮ বৈশাখ, ১৪২৫

header-ad

‘মায়ের সঙ্গে মেয়ে সুরক্ষিত নয়, সেই দেশ স্বাধীন নয়’

| আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮

সাম্প্রতিক সময়ে বাসে মেয়েদের একা পেয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ এবং প্রমাণও হয়েছে অনেক। তবে এবার একা নয়, মায়ের সঙ্গে বের হয়েও নিরাপদ নয় একজন মেয়ে। প্রায় প্রতিদিনই ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমগুলোতে এলেও এর সমাধান হচ্ছে না। বরং প্রতিনিয়তই বাড়ছে এসব ঘটনা।

গতকাল রোববার এমনই এক ঘটনা ঘটে খোদ রাজধানী ঢাকায়। আব্দুল্লাহপুর থেকে রামপুরা আসার জন্য মায়ের সঙ্গে সুপ্রভাত পরিবহনের বাসে ওঠেন এক মেয়ে। মাঝপথে বাসটির বাতি নিভিয়ে দেয়া হয়। ওই ছাত্রী ও তার মা রামপুরায় বাস থেকে নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে মা নেমে যান। কিন্তু ওই ছাত্রী নামতে চেষ্টা করলে তার হাত টেনে ধরে ৪/এ নম্বর রুটে সদরঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া গাজীপুরা পর্যন্ত চলাচলকারী পরিবহনটির এক কর্মী। তখন হাতে থাকা টিফিন বক্স দিয়ে পরিবহন কর্মীকে আঘাত করে বাস থেকে লাফিয়ে নেমে যান ওই ছাত্রী।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রামপুরায় এ ঘটনা ঘটে।

ওই ছাত্রীর নাম ফারাহ শারমিন। তিনি এবার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছেন। পরে তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা লিখে পোস্ট করেন-

‘একটা স্টিলের টিফিন বক্স আজকে আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।’

আব্দুল্লাহপুর থেকে রামপুরা আসার জন্য বাসে উঠেছিলাম সাড়ে ৬টার দিকে। বাসে দুজন কন্ডাক্টরের একজন মনে হয় ড্রিংক করেছিল। অনেক ভিড় ছিল, তবে রামপুরা আসতে আসতে প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। পেছনের দিকে কয়েকজন ছেলে বসেছিল আর সামনের দিকে আমি আর আম্মু। বাসের লাইটগুলো বনশ্রীতে এসে বন্ধ করে দেয় ড্রাইভার, বলে যে তার হেডলাইট নষ্ট এজন্য বন্ধ করেছে। কালকে (আজ সোমবার) সকালে পরীক্ষা, হাতে সময় নেই বলে কেউ এটা নিয়ে ঝামেলা করিনি। রামপুরায় পৌঁছে গেলে বাস জ‍্যামে পড়ে; আর আমরা নামার জন্য দরজার দিকে যেতে থাকি। আম্মু প্রথমে নামে। আমি দরজা পর্যন্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন আমার হাত চেপে ধরে, আম্মু ততক্ষণে নেমে গেছে। আমি নামার চেষ্টা করি। কিন্তু বাস সামনের দিকে যেতে থাকে আর পেছনে কয়েকজন বলছিল- ‘মাইয়াটারে ধর’।

ওই ছাত্রী লেখেন, ‘কী করব বোঝার মতো সময় ছিল না। অন্য হাতে একটা স্টিলের টিফিন বক্স ছিল। ওইটা দিয়ে লোকটাকে বাড়ি মারলাম। কতটা লেগেছিল জানি না, কিন্তু আমাকে ধরে রাখা হাতটার শক্তি কমে গেল। ধাক্কা দিলাম লোকটাকে, বাস থেকে লাফ দিলাম। আমার ভাগ্য ভালো ছিল যে বাস আস্তে যাচ্ছিল আর মধুবনের সামনে জ‍্যাম ছিল। নেমে পেছনে দৌড় দিলাম। দূর থেকে আম্মুকে দেখতে পেলাম, আমাকেই খুঁজছে। জানতাম, রাস্তায় একা বের হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে আজকে জানলাম মায়ের সঙ্গেও বের হয়েও আমি নিরাপদ না।’

কালকের খবরের কাগজে আমিও হয়তো একটা কলাম হয়ে যেতাম- আমার রক্ত-মাংসের শরীরটার জন্য, কিছু জানোয়ারের জন্য। যে দেশে একটা মেয়ে তার মায়ের সঙ্গেও সুরক্ষিত নয়, সেই দেশ আর যাই হোক স্বাধীন নয়।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি/এমআরইউ