logo

শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ়, ১৪২৫

header-ad

‘বন্দুকযুদ্ধে’ আজ রাতেই নিহত ১২

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ২২ মে ২০১৮

মাদকবিরোধী অভিযানে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আজ মঙ্গলবার রাতেই ১২ জন নিহত হয়েছেন। তবে র‌্যাব ও পুলিশের দাবি- নিহতরা সবাই মাদককারবারির সঙ্গে জড়িত। কারও কারও বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে মামলাও রয়েছে।

জানা গেছে, মাদকবিরোধী অভিযানকালে সোমবার রাতে কুমিল্লা ও নীলফামারীতে দুজন করে এবং নীলফামারী, চট্টগ্রাম, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, দিনাজপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গায় একজন করে নিহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত মাদকবিরোধী অভিযানে যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, নরসিংদী, টাঙ্গাইলে ও গাজীপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’৯ জন নিহত হন। তারাও মাদককারবারি বলে দাবি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে, সোমবার রাতে কুমিল্লা ও নীলফামারীতে দুজন করে এবং নীলফামারী, চট্টগ্রাম, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা, দিনাজপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গায় একজন করে নিহত হয়েছেন।

কুমিল্লায় দুজন নিহত

বন্দুকযুদ্ধে কুমিল্লায় শরীফ ও পিয়ার আলী নামে দুজন নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১টায় জেলা সদরের অদূরে বিবিরবাজার অরণ্যপুর (বাজগড্ডা) এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকা থেকে মাদকের একটি বড় চালান আসার খবরে পুলিশের একাধিক টিম ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত পৌনে ১টার দিকে মাদক বিক্রেতারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।

অভিযানে অংশ নেয়া ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম জানান, ঘটনাস্থলে শরীফ (২৬), পিয়ার আলী (২৮) ও সেলিম গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার মাদক ব্যবসায়ী শরীফ ও পিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে মো. শরীফ জেলা সদর দক্ষিণ উপজেলার মহেষপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে। আর নিহত পিয়ার আলী আদর্শ সদর উপজেলার শুভপুর গ্রামের আলী মিয়ার ছেলে।

চুয়াডাঙ্গায় সাধু নিহত

আলমডাঙ্গায় বন্দুকযুদ্ধে কামরুজ্জামান সাধু নামে একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে আলমডাঙ্গা স্টেশনের অদূরে পুলিশের সঙ্গে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত কামরুজ্জামান আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের মৃত ইমদাদুল হকের ছেলে। এ নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বন্দুকযুদ্ধে পর পর দুদিনে দুজন নিহত হলেন।

আলমডাঙ্গা থানা সূত্রে জানা গেছে, রাত ১টার দিকে আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে পুলিশ অভিযান শুরু করে। মাদকপাচারকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। বেশ কিছুক্ষণ গুলির লড়াইয়ের একপর্যায়ে পাচারকারীরা পিছু হটে। ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গার সহকারী পুলিশ সুপার আহসান হাবীব বলেন, নিহত কামরুজ্জামান সাধুর (৪৫) বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে। তিন বছরের সাজাও হয়েছে তার। সম্প্রতি সাজা খেটে বাড়ি ফিরে আবারও মাদকপাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

এর আগে রোববার রাতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলীর মাদক ব্যবসায়ী জনাব আলী পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। এ দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় দুজন নিহত হলেন।

নীলফামারীতে দুই মাদক বিক্রেতা নিহত

নীলফামারীর ডিমলা ও সৈয়দপুরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- সৈয়দপুর পৌর শহরের ইসলামবাগ মহল্লার আব্দুল হান্নানের ছেলে মো. জনি হোসেন (২৭) ও নিচু কলোনি মহল্লার ইউসুফ হোসেনের ছেলে শাহিন আহমেদ (৩০)। সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সৈয়দপুর উপজেলার বাইপাস মহাসড়কের গোলাহাট বধ্যভূমি এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল বলেন, নিহতরা এলাকার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সৈয়দপুর থানায় আটটি করে মামলা রয়েছে।

চট্টগ্রামে শুক্কুর আলী নিহত

নগরীর বায়েজিদ থানাধীন ডেবারপাড় এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শুক্কুর আলী (৪৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। র‌্যাব ৭-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিমতানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধন মিয়া নিহত

জেলার বাঞ্ছারামপুরে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ধন মিয়া (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। র‌্যাব-১০ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, র‌্যাব সদস্যরা মঙ্গলবার ভোররাতে বাঞ্ছারামপুরে উপজেলার সোনারামপুর এলাকায় অবস্থান নেন।

তিনি জানান, এ সময় নারায়ণগঞ্জ থেকে একটি মাদকের চালানসহ ধন মিয়া সেখানে পৌঁছলে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলিবর্ষণ করলে র‌্যাবও পাল্টা গুলি করে। এ সময় বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন। নিহত ধন মিয়া উপজেলার মরিচাকান্দি গ্রামের হোসেন মিয়ার ছেলে। তার স্ত্রী আরজিনা বেগমকে আটক করা হয়েছে।

নেত্রকোনায় অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ী নিহত

নেত্রকোনায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মঙ্গলবার ভোরে আমজাদ নামে এক অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ সময় সদর থানার ওসিসহ আরও ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন।

পুলিশ জানায়, সোমবার রাত ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী আমজাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্যমতে সদর উপজেলার মেদনী ইউনিয়নের বড়য়ারী এলাকায় অভিযান চালানোর সময় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা তার সহযোগীরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। এ সময় আমজাদ নিহত হয়।

নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানান, আমজাদ ভাড়াটে খুনি ও অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে থানায় ১৩টি বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে বাচ্চু খান নিহত

আড়াইহাজার উপজেলায় মঙ্গলবার ভোরে র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বাচ্চু খান (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ সময় র‍্যাব তাদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করে।

র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক উদ্ধারে গেলে বাচ্চুসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে ও র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় র‍্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই বাচ্চু নিহত হয় এবং বাকি দুজন পালিয়ে যায়।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি