logo

মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

বাঁচলেন ১৪১ বাংলাদেশি

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ২২ মে ২০১৮

বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলেন ১৪১ বাংলাদেশি। সৌদি আরব থেকে ঢাকাগামী একটি বিমানে গতকাল সোমবার এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ফ্লাইটটিতে ১৫১ জন আরোহী ছিল বলে জানা গেছে। এদের ১৪১ জনই বাংলাদেশি। সৌদি এয়ারলাইন্সের SV3818 এ বিমানটি মদিনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। আকাশে ওড়ার পর বিমানটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। বিষয়টি পাইলট বুঝতে পেরে দ্রুত বিমানটি জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে জরুরি অবতরণ করাতে বাধ্য হন। এতে ল্যান্ডিং গিয়ার ভেঙে বিমানটি রানওয়েতে মুখ থুবড়ে পড়ে এবং গিয়ারে আগুন ধরে যায়।

জেদ্দা বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশন এবং ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানায়, পাইলট কয়েকবার চেষ্টা করে বিমানটি অবতরণ করাতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয় সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটে বিমানটি জরুরি অবতরণ করাতে সক্ষম হন।

বিমানটি অবতরণ করার আগে সৌদি সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা মাথায় রেখেই সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। বিমানটি মাটি স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকারী দল দ্রুত যাত্রীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

সৌদি গেজেটের খবরে বলা হয়, নামার সময় নোজ গিয়ার না খোলায় বিমানের সামনের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উদ্ধারকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রীদের সরিয়ে নেন এবং ৭০ জনকে বিমানবন্দরেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। আরও চারজনকে পাঠানো হয় হেলথ সেন্টারে।

সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র আবদুর রাহমান আল-তাইয়েবের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, মদিনা থেকে রাত ৮টায় উড্ডয়নের পরপরই ফ্লাইট এসভি ৩৮১৮ এ হাইড্রলিক সিস্টেমে গোলযোগ ধরা পড়ে। ওই পরিস্থিতিতে পাইলট গতিপথ বদলে জেদ্দায় জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, জেদ্দার আকাশে ঘণ্টাখানেক চক্কর দিয়েও পাইলট জটিলতা ঠিক করতে না পারায় সামনের লান্ডিং গিয়ার ভেতরে রেখেই বিমানটি বিমানবন্দরের ইমার্জেন্সি রানওয়েতে অবতরণ করে।

এ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

সৌদি এয়ারলাইন্স তাদের অফিসিয়াল টুইটারে জানায়, বিমানটিতে ১৫১ জন আরোহী ছিল, যাদের সবাইকে নিরাপদে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। তারা সবাই সুস্থ আছেন।

বিমানটির যাত্রী আহাদুল হাসান জানান, ‘আলহামদুল্লিলাহ, আমরা প্রাণে বেঁচে এসেছি। আল্লাহর হাজার শুকরিয়া। প্রায় দশবার বিমানটি অবতরণে চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে আমরা বেঁচে আসব- এ আশা ছিল না। বিমানের ভেতরে কান্নার রোল পড়ে যায়। যে যার মতো দোয়া দরুদ পড়ছিলেন।’

বর্তমানে ফ্লাইটটির যাত্রীদের জেদ্দা হজ টার্মিনালের লাউঞ্জে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি