logo

মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ | ৫ আষাঢ়, ১৪২৫

header-ad

মাধ্যমিকে ঝরবে পৌনে তিন লাখ শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ২৬ মে ২০১৮

চলতি বছরের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হলেও কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন ১৩ লাখ ৯ হাজার ৪৭৫ জন। সেই হিসেবে এবার মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েও ২ লাখ ৬৮ হাজার ২২২ শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে আবেদন করেনি।

যাদের বেশিরভাগই ঝরে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বোর্ড কর্মকর্তারা। এ ছাড়া পরীক্ষায় ফেল করে কলেজে ভর্তির সুযোগ হারিয়েছে আরও ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৫ জন।

গত ৬ মে সারা দেশের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এক সপ্তাহ পর ১৩ থেকে শুরু হয় কলেজে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া। চলে ২৪ মে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। নির্ধারিত এ সময়ের মধ্যে ১৩ লাখ ৯ হাজার ৪৭৫ জন শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য অনলাইন ও এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করেছে।

শুক্রবার ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মো. হারুন-আর-রশিদ জানিয়েছেন, ২৪ মে রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে যারা টাকা জমা দিয়েছে, বিকাল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যারা আবেদন করেনি, তাদের অনেকে ঝরে পড়বে। কেউ কেউ দেশের বাইরে পড়তে যাবে।

কলেজ পরিদর্শক জানান, এবার ৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫১ জন অনলাইনে এবং ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮১ জন এসএমএসের মাধ্যমে কলেজে ভর্তির আবেদন করেছে। এর মধ্যে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৫৯৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ২৫ থেকে ২৭ মের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবেদন যাচাই-বাছাই ও আপত্তি নিষ্পত্তি করা হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, ১০ জুন প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে বলে অধ্যাপক হারুন জানান।

এবার ঢাকা বোর্ডের ৩ লাখ ৮১ হাজার ৮৪৮ (ময়মনসিংহ বোর্ডসহ), রাজশাহীর ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৩৬, চট্টগ্রামের ৯৩ হাজার ৭৩৩, কুমিল্লার ১ লাখ ২৫ হাজার ৪৬৮, যশোরের ১ লাখ ২০ হাজার ৯৮, বরিশালের ৬৬ হাজার ১৮০, সিলেটের ৬৮ হাজার ৫১৯ এবং দিনাজপুর বোর্ডের ১ লাখ ২০ হাজার ৮৭২ জন শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হতে আবেদন করেছে।

এ ছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডের ১ লাখ ৬৯ হাজার ৪৯৬, কারিগরি বোর্ডের ২৮ হাজার ৫৭ এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৫৯৩ জন শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তির আবেদন করেছে বলে জানান ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক।

শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে আবেদন করতে পেরেছে। তবে মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটি কলেজে তার ভর্তির সুযোগ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

অভিন্ন প্রশ্নপত্রে ২০১৮ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা গত এক ফেব্রুয়ারি শুরু হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা, যা শেষ হয় ৪ মার্চ। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এ বছর ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৯৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যাদের মধ্যে পাস করে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ শিক্ষার্থী।

এ বছর ১০টি বোর্ডের তিন হাজার ৪১২টি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ২৮ হাজার ৫৫১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। সাধারণ আট বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৮ জন। এখানে ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা বেশি।

এ ছাড়া দাখিলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৮৯ হাজার ৭৫২ জন। এসএসসি ভোকেশনালে পরীক্ষার্থী ছিল এক লাখ ১৪ হাজার ৭৬৯ জন।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ