logo

শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮ | ২ ভাদ্র, ১৪২৫

header-ad

বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছুড়ে ফেলল ছাত্রলীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ২০ জুলাই ২০১৮

‘তোর ছেলেকে রাজনীতি ছাইড়া দিতে বলবি। নইলে ওরে মাইরা ফালামু। মন্ত্রী মহোদয়ের অর্ডার, কালকে থেকে ওকে যেন রাজনীতির মাঠে না দেখা যায়’Ñকামরাঙ্গীর চর থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোরসালিন হোসেনের মাকে এভাবেই হুমকি দেন দুই ক্যাডার পারভেজ হোসেন বিপ্লব এবং শিমুল।

গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পশ্চিম ইসলামনগর এলাকায় ছাত্রলীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগও উঠেছে। বিপ্লব ও শিমুলের নেতৃত্বে শতাধিক দুর্বৃত্ত ছাত্রলীগ কার্যালয়ে থাকা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ফেলে চরম অবমাননা করেছে।

শিমুলের কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি না থাকলেও পারভেজ হোসেন বিপ্লব বর্তমানে কামরাঙ্গীর চর থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক। ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হয়েও জাতির জনক ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননা করায় আওয়ামী লীগের প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগেও দলীয় কোন্দলের জের ধরে বিপ্লব এলাকার প্রবীণ আওয়ামী লীগ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ উঠেছে, বুধবার রাতে প্রথমে ছাত্রলীগের কার্যালয়ে হামলা চালায় শতাধিক দুর্বৃত্তের দল। এরপর যুগ্ম আহ্বায়ক মোরসালিনের বাড়িতে হামলা চালায় তারা। বাড়িতে মোরসালিনের মাকে নানা রকম ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, এরপর হামলাকারীরা একে একে কামরাঙ্গীর চর থানা ছাত্রলীগের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক এম এইচ মাসুদ মিন্টু, কামরাঙ্গীরচর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান রতন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এম এ রহমান এবং মনোনয়নপ্রত্যাশী শাহীন আহমেদের অনুসারী মধ্য ইসলামনগর গ্রামের বাসিন্দা হাবীব সজলের বাড়িতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। প্রত্যেক বাড়িতে বিপ্লব এবং শিমুলের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। এমনকি প্রতিটি বাড়িতেই হামলা করতে গিয়ে তারা খাদ্যমন্ত্রীর নামে স্লোগান দেয় বলেও জানান তারা।

এ ঘটনায় মোরসালিনের বাবা ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউনিট আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মনজুর হোসেন বাদী হয়ে কামরাঙ্গীর চর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেন মনজুর। তিনি বলেন, আমার বাড়িতে এসে হামলা করেছে। আমাদের শাসিয়ে গেছে। খাদ্যমন্ত্রীর অর্ডারে বিপ্লব ও শিমুলের নেতৃত্বে শতাধিক ক্যাডার এসে নানা রকম হুমকি-ধমকি দিয়ে গেছে। আমরা জীবন নিয়ে চরম ঝুঁকিতে রয়েছি। অথচ পুলিশ আমাদের অভিযোগ আমলেই নিচ্ছে না।

ক্ষোভ প্রকাশ করে মোরসালিন হোসেন বলেন, আমাদের একটিই দোষÑআমরা উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহামেদকে সমর্থন করি। তৃণমূল পর্যায়ে শেখ হাসিনার জয়গান করি, এটিও হয়তো দোষের।

এলাকার কয়েকজন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যারা বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার ছবি ছুড়ে ফেলে দেয়, তাতে লাথি মারে, অবমাননা করে, তারা কীভাবে নিজেদের আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী দাবি করে? তারা দল ও সরকারের শত্রু। এদের বিচার হওয়া উচিত।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ