logo

বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

কাফনের কাপড়ে এক ছেলে, আরেক ছেলে উদ্ধার

আইন-অপরাধ ডেস্ক | আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮

রাজধানীর বাংলামোটরে একটি বাসা থেকে কাফনের কাপড়ে মোড়ানো এক ছেলের মৃতদেহ ও আরেক ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে মাদকাসক্ত বাবা নুরুজ্জামান কাজলকে। ৬ ঘণ্টা পর পিতা কর্তৃক সন্তানদের জিম্মি নাটকের অবসান ঘটলো। জীবিত সন্তানকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

সাফায়েত নামে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে স্থানীয়দের এমন খবরের ভিত্তিতে ৫ ডিসেম্বর বুধবার সকাল থেকে বাংলামোটর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টেলিভিশনের সাব-অফিসের পাশের একটি ভবন ঘিরে রাখে পুলিশ ও র‍্যাব। কিন্তু বাসার ভেতরে ঢুকতে পারছিল না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কারণ ভেতরে মরদেহের পাশে ধারালো দা হাতে বসেছিলেন শিশুটির বাবা নুরুজ্জামান কাজল। তিনি কাউকে বাসায় প্রবেশ করতে দেননি। অন্যদিকে কাজলের ভাই নুরুল হুদা উজ্জ্বলের দাবি, শিশুটিকে তার বাবাই খুন করেছে।

জানা গেছে, নেশাগ্রস্ত স্বামী নুরুজ্জামান কাজলকে ছেড়ে চলে যান স্ত্রী। তবে কাজলের দুই ছেলেশিশু তার কাছেই থাকে। নুরুজ্জামান কাজল তার ছোট শিশুকে হত্যা করে কাফনের কাপড় পরিয়ে টি টেবিলের ওপর রেখে দেন। বড় সন্তানকে বুকে জড়িয়ে হাতে বড় রামদা নিয়ে বসে থাকেন তিনি।

র‍্যাব কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, ওই ব্যক্তি কাউকে ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছিলেন না। কোনো সহযোগিতা লাগবে কিনা জানতে চাইলে মাদকাসক্ত কাজল তখন বলেন, আমি ১টার দিকে বের হয়ে আমার সন্তানকে আজিমপুরে দাফন করব। কারো কোনো সহযোগিতার দরকার নেই। এখানে আপনাদের ডাকছে কে?

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ বুধবার সকাল আটটার দিকে বাসা থেকে বের হন কাজল। বাসায় দোয়া পড়ানোর জন্য মৌলভী ডেকে নিয়ে আসেন।

কাজলের বাসা থেকে বেরিয়ে মৌলভী বলেন, সেখানে এক শিশু-সন্তানকে অচেতন অবস্থায় দেখেছেন তিনি। বিষয়টি শাহবাগ থানাকে অবহিত করা হয়েছে।

নুরুল হুদা উজ্জ্বল বলেন, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কাজল বাসা থেকে বের হয়ে পাশে থাকা মাদ্রাসায় গিয়ে জানান, তার ছোট ছেলে নূর সাফায়েত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। এটা যেন মাইকে ঘোষণা করা হয়। তারপর মাদ্রাসার ছাত্রদের কোরআন খতম দেয়ার জন্য নিয়ে যেতে চান। এ কথা শোনার পর আবদুল গাফফার নামে একজন খাদেম মাদ্রাসা থেকে তার সঙ্গে যান। মাইকে সংবাদ শুনে আমি আসি। ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করি। কিন্তু কাজল ঢুকতে দেননি। দরজা আটকে দিয়েছেন। কাজলের সঙ্গে তার বড় ছেলে সুরায়েত (৪) ছিল।

তিনি বলেন, কাজলের দুই সন্তান। একজন সাফায়েত, বড়জন সুরায়েত। আমরা সাফায়েতের মৃত্যুর সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে যাই। সকালে বাসায় ঢুকতে গিয়েও পারিনি। আমরা যখন বাসায় ঢুকতে গেছি, তখন কাজল আমাদের দিকে দা নিয়ে তেড়ে আসেন। সুরায়েত বাবার কাছেই ছিল। কাজল মাদকাসক্ত। সাফায়েতকে তার বাবাই খুন করেছেন।

স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ওই বাসার দোতলায় থাকতেন কাজল। পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মাসখানেক আগে তার স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান ফেমাসনিউজ২৪ ডটকমকে জানান, দুটি ছেলের একটির লাশ ও আরেক ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে ঘাতক বাবা কাজলকে। শিশুর বাবা এর আগে মাদক গ্রহণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জেলেও পাঠানো হয়েছিল।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম