logo

রবিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১ | ৪ মাঘ, ১৪২৭

header-ad

শাহজাহান খানের নেতৃত্বে কমিটি নিয়ে সংসদে প্রশ্ন

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে শাজাহান খানের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জাতীয় সংসদে। ১৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার এক সম্পূরক প্রশ্নে জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে প্রশ্ন করেন, বদিকে (কক্সবাজারের সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদি) দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ আর শাহজাহান খানকে দিয়ে সড়ক নিয়ন্ত্রণ কতটা সম্ভব? গরু-ছাগল চিনলে লাইসেন্স দেয়া যাবে, শাজাহান খানের এমন মন্তব্যে সারাদেশ তোলপাড় হয়েছিল। ওনার এক হাসি ওই সময় দেশে কী পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। তাকে দিয়ে সরকারের কতখানি কমিটমেন্ট রক্ষা হবে?

জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, অভিজ্ঞ মানুষ হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ কমিটিতে শাহজাহান খানের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তাকে প্রধান করার বিষয়ে উপস্থিত কারও কোনো বিরোধিতা আসেনি। এখানে তার কোন স্মিত হাসির জন্য কী সমস্যা হয়েছে, সেটা দেখব না। এখানে ব্যক্তি বিষয় না। দেখা হবে তারা সড়কে শৃঙ্খলা আনতে কী সুপারিশ তৈরি করেন। এ কমিটির কাছ থেকে যতটা আশা করা হচ্ছে তার থেকে ভালো প্রতিবেদনও তো আসতে পারে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিককালে দেশে দুর্ঘটনাজনিত পরিস্থিতির কিছু অবনতি ঘটায় আমরা জরুরি ভিত্তিতে সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভা ডেকেছিলাম। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজন মন্ত্রী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ, ইলিয়াস কাঞ্চন, সৈয়দ আবুল মকসুদসহ সড়ক বিশেষজ্ঞরাও ছিলেন। সবার উপস্থিতিতে সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে একটি সুপারিশমালা তৈরির জন্য ১৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে শাজাহান খানের নেতৃত্বে ১৫ জনের কমিটি করা হয়েছে। কাজেই এখানে ব্যক্তি বিষয় নয়। একজনই পুরো প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করবেন না। তিনি যেহেতু অভিজ্ঞ, সে জন্য তার নামটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা ভিআইপি হয়ে উল্টো পথে যাই। এটা তো স্বাভাবিক বিষয় নয়। ভিআইপিরা অসাধারণ মানুষ, তারা যদি উল্টো পথে চলেন তাহলে সাধারণ মানুষ কী করবে?

সড়কে দুর্ঘটনার বিষয়টি সবথেকে দুর্ভাবনার মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, কেবল সড়ক বিভাজক দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। পাশে ফুটওভার ব্রিজ (পদচারী সেতু) থাকলেও দেখা যায়, মানুষ লাফ দিয়ে ডিভাইডারের ওপর দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। মা বাচ্চা কোলে নিয়ে রাস্তা পার হন। সড়কে সব থেকে জরুরি হচ্ছে শৃঙ্খলা রক্ষা করা। কিন্তু কেউ এটা মানতে চান না। মোবাইল কানে দিয়ে মধুর স্বরে কথা বলতে বলতে রাস্তা পান হন, আর বাস চাপা দিয়ে চলে যায়।

সরকারি দলের সাংসদ আয়েন উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে সড়ক পরিবহনের আওতায় রাস্তার পরিমাণ ২১ হাজার ৫৯৫ দশমিক ৪৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক তিন হাজার ৯০৬ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক চার হাজার ৪৮২ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার ও জেলা সড়ক ১৩ হাজার ২০৬ দশমিক ৯২ কিলোমিটার। সড়ক বিভাগের সবথেকে বেশি রাস্তা রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৭৭ দশমিক ৫২ কিলোমিটার এবং সবথেকে কম মেহেরপুর জেলায় ১২৪ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার।

এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে সেতু মন্ত্রী বলেন, সড়ক পরিবহন আইনে পরিবারপ্রতি গাড়ির সংখ্যা নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে। সরকার গেজেটে প্রজ্ঞাপন দিয়ে কোন ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান বা কোন এলাকার জন্য কী পরিমাণ মোটরযান রেজিস্ট্রেশন করা যাবে তা নির্ধারণ করে দেয়া হবে। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে মেট্রোরেল বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনাও শিগগিরই বাস্তবায়ন করা হবে। এগুলো হলে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার অনেকাংশে কমে আসবে।

সাংসদ শহিদ ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, উত্তরা (তৃতীয় পর্ব) থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এবং ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত মেট্রোরেল চালুর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী নির্মাণকাজ চলছে।

সাংসদ মাহবুবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, বরিশাল জেলাকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্যে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে ঢাকা থেকে পদ্মাসেতু হয়ে বরিশালের পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ সংযোগ স্থাপন করা হবে।

ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের আওতাধীন ছোট পাটকল ১৩টি, মাঝারি ৭টি ও বৃহৎ পাটকল ৬টি। বেসরকারি পাটকলের সংখ্যা ২৮১টি।

এর আগে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে চারটায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম