logo

রবিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১ | ৪ মাঘ, ১৪২৭

header-ad

চোখের সামনে ভাইয়ের পুড়ে মরার বর্ণণা দিলেন ভাই

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ঢাকার চকবাজারে কসমেটিকসের ব্যবসা করেন ফিরোজ। তার ভাই হীরা মারা গেছেন আগুনে। তার দাবি, পুরো ঘটনাই তার চোখের সামনে ঘটেছে।

পুরনো ঢাকার চকবাজারের ব্যস্ত এলাকায় চুড়িহাট্টায় যে ভবনে আগুনে লেগেছে তার থেকে তিনটি বাড়ি দূরে কসমেটিকস ব্যবসায়ী ফিরোজ থাকেন। তিনি জানিয়েছেন যে, আগুনে তার ভাই হীরা মারা গেছে। এছাড়া এ এলাকায় নিয়মিত যাদের সাথে আড্ডা দেই বন্ধু-বান্ধব সব মিলিয়ে অন্তত ২৫ জনের খোঁজ পাচ্ছি না। সব মৃতদেহ এখনো দেখতে পারিনি।

ফিরোজ বলেন, আগুন লাগার ঘটনাটি তিনি নিজেই দেখেছেন, কিন্তু এমন হবে তা ভাবতে পারেননি।
ঘটনাটা রাত ৮:৪৫ মিনিটের দিকে। চুড়িহাট্রার ওই কোনায় রাস্তায় একটি মাইক্রোবাস দাঁড়ানো ছিল। উপরে ছিল বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার। হঠাৎ ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ হয়ে মাইক্রোবাসটিতে পড়ে। এর মাইক্রোবাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে পাশে কেমিক্যাল দোকান ছিল সেখানে লেগে গেলে মুহূর্তের মধ্যে তা পুরোপুরি ছড়িয়ে যায়।

যদিও ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ উভয় পক্ষই বলেছে, 'ওয়াহিদ ম্যানশন' নামে একটি ভবনের বেজমেন্টে কেমিক্যাল মজুত ছিল।

ফিরোজ বলেন, ওয়াহিদ ম্যানশন এরপর প্লাস্টিকের মার্কেটে আগুন ছড়িয়ে পড়লো আরো বেশি। আর ওদিকে ক্যামিকেল মজুতে একটার পর একটা বিস্ফোরণ। এভাবে আশপাশের ৮/১০ টা দোকান। যতই পানি মারে আরও তা বিকট হয়। ওয়াহিদ ম্যানশন, হায়দার মেডিকেল, হোটেলে আগুন লেগে যায়। বন্ধু-বান্ধব সার্কেলের ২৫ জনকে পাচ্ছি না।

তিনি বলেন, ফার্মেসিতে থাকা লোকজন ভেবেছিল- সামনে কেউ বোমা মেরেছে এবং এই ভেবে তারা দোকানের শাটার বন্ধ করে দেয়। আমার ভাই ফার্মেসির মধ্যে ছিল। শাটার বন্ধ করেছিল ভয়ে। আশঙ্কা করছি- তারা ভেতরেই মারা গেছে কিনা। ভোর ৫টা পর্যন্ত টানা অপেক্ষা করেছি কিন্তু মৃতদেহ পাইনি।

বুধবার রাতে চকবাজারের অগুনে এখন পর্যন্ত ৮১টি জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে নারী ও চার শিশু রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৩ জুন পুরানো ঢাকার নিমতলীর একটি মহল্লায় বড় ধরনের আগুনের ঘটনা ঘটে। সেই আগুনে প্রাণ হারান ১২৪ জন।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম