logo

রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯ | ২ আষাঢ়, ১৪২৬

header-ad
চকবাজার ট্রাজেডি

শিল্পমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত ডিএসসিসির

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া ভবন হাজী ওয়াহেদ ম্যানসন নিয়ে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদের বক্তব্যের দ্বিমত পোষণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) গঠিত তদন্ত কমিটি।

আজ শুক্রবার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় হাজী ওয়াহেদ ম্যানসনসহ আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো পরিদর্শন করে ডিএসসিসির ১১ সদস্যের তদন্ত দল।

পরে এক ব্রিফিংয়ে তদন্ত কমিটির সদস্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এস এম জুলফিকার রহমান বলেন, ভবনে আগুন নেভানোর জন্য কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। প্রচুর কেমিক্যাল ছিল। যে কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াহেদ ম্যানসন পরিদর্শন শেষে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ জানিয়েছিলেন, এই ভবনে কেমিক্যালের কোনো গোডাউন ছিল না।

মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে ডিএসসিসির তদন্ত দলের প্রধান বলেন, ওয়াহেদ ম্যানসনে অবশ্যই কেমিক্যাল ছিল। এখানকার যে পাউডার, সেগুলো কেমিক্যাল। এখানে যেসব প্লাস্টিকের বোতল পাওয়া গেছে, সেগুলোও কেমিক্যাল মাখানো। আমি এ নিয়ে মন্তব্য করব না, তিনি এমন বক্তব্য কোন পরিপ্রেক্ষিতে দিয়েছেন তা জানা নেই। কেমিক্যালের জন্যই আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লেগেছে বেশি।

কমিটির প্রধান ও ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, এবার যে কোনো মূল্যে পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গোডাউন সরিয়ে নেয়া হবে। আগুনে পাঁচটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ভবন প্রাথমিকভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী বলে মনে হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনার পর নতুন করে আর কোনো লাইসেন্স দেয়া হয়নি। এ ঘটনায় কয়েকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মেয়র (সাঈদ খোকন) বলেছেন, যে কোনো মূল্যে সবাই মিলে এসব এলাকার কেমিক্যাল গোডাউন সরিয়ে নেয়া হবে।’

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো ব্যবহারের উপযোগী কিনা তা এক সপ্তাহ পর জানা যাবে বলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী (পুর কৌশল বিভাগ)।

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হওয়া ওয়াহিদ ম্যানশনের গ্রাউন্ড ফ্লোর ও দ্বিতীয় তলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিম ও কলামগুলো বিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ তলার বিম ও কলাম তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে কতটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

অন্যদিকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউকের) অনুমোদিত কিনা, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি কমিটির আরেক সদস্য রাজউকের অথরাইজড অফিসার মো. নুরুজ্জামান জহির।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা কমিটির সদস্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লে. কর্নেল এস এম জুলফিকার রহমান বলেন, ভবনের ভেতরে গ্যাস লাইটার রিফিলের পদার্থ ছিল। এটা নিজেই একটা দাহ্য পদার্থ। এ ছাড়া আরও অন্যান্য কেমিক্যাল ছিল। প্রত্যেকটা জিনিসই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করেছে। পারফিউমের বোতলে রিফিল করা হতো এখানে। সেই বোতলগুলো ব্লাস্ট হয়ে বোমের মতো কাজ করেছে।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি