logo

সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক, ১৪২৬

header-ad

নিচে নেমে কোথায় গেল মা?

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা এক হাসপাতালের মর্গ থেকে ছুটে বেড়াচ্ছেন আরেক হাসপাতালের মর্গে। অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেশ কয়েকজনের মরদেহ হাসপাতাল থেকে নিয়ে গেছেন স্বজনরা। তবে যেসব মরদেহ চেনার উপায় নেই তাদের স্বজনরা জানেন না কোথায় আছে মরদেহ। অনেককে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। তাই লাশ শনাক্ত করতে স্বজনদের ডিএনএ নমুনা নিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২২ জনের লাশ শনাক্ত করা যায়নি। খোঁজ মেলেনি অনেকের। পরিচয়হীন ২২টি লাশ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ডিএনএ নমুনা দিতে মামার কোলে চড়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছে শিশু সানিন। পাঁচ বছরের শিশুটি বুঝে উঠতে পারছে না, কী হয়েছে তার মা'র! সবাই বলছে, তার মা আর নেই। কিন্তু সে জানে— তার মা একটু বাড়ির নিচে গিয়েছিল। তারপর কোথায় গেল সে জানে না। সানিনের পাঁচ মাস বয়সী ছোট্ট বোনটাও মায়ের জন্য সারাক্ষণ কাঁদছে।

রাজধানীর চকবাজারে গত বুধবার রাতে আগুনের ঘটনায় সানিনের মা বিবি হালিমা বেগম শিলা নিখোঁজ হন। আজ শুক্রবার মামার সঙ্গে সানিন এসেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের স্থান থেকে ২০০ গজ দূরেই পরিবার নিয়ে থাকতেন শিলা। শিলার স্বামী মোহাম্মদ সুমন। তিনি চকবাজারেই ব্যাগের ব্যবসা করেন। বুধবার রাতের আগুন তাদের বাসা পর্যন্ত যায়নি। তবে নির্মম ভাগ্য শিলাকেই আগুনের কাছে নিয়ে গেছে।

শিলার বোনের স্বামী মো. বেলাল হোসেন জানান, ঘটনার দিন রাতে সানিন একটু অসুস্থ ছিল। তার বাবা সুমন ছিলেন কর্মস্থলে। শিলা তার এক বোন ও দুই শিশু-সন্তানকে বাসায় রেখে নিচে গিয়েছিলেন ওষুধ কিনতে। সেই যে নিচে গেছেন, আর ফেরেননি তিনি।

শিলার পরিবারের ধারণা, নিচে ওষুধ কিনতে গিয়ে শিলা হয়তো ভয়াবহ আগুনের কবলে পড়ে গেছেন। হয়তো তিনি আর নেই। শনাক্ত না হওয়া লাশের ভেতরে শিলা থাকতে পারেন— এমনটা ভেবে ডিএনএ নমুনা দিতে এসেছে তার শিশুকন্যা।

বেলাল হোসেন জানান, শিলারা পাঁচ বোন ও তিন ভাই। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে তাদের গ্রামের বাড়ি।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম