logo

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০ | ২১ শ্রাবণ, ১৪২৭

header-ad
সুস্থতার নতুন ফর্মুলা স্বাস্থ্য অধিদফতরের

পরীক্ষা ছাড়াই ছাড়পত্র!

স্টাফ রিপোর্টার | আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২০

করোনায় আক্রান্ত রোগী ১৪ দিন পর এমনিতেই সুস্থ্য, অপ্রয়োজনীয় নমুনার পরীক্ষা বন্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে সুস্থ রোগীর সংখ্যা—এমন দাবি করে স্বাস্থ্য অধিদফতর নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই সুস্থতার ছাড়পত্র দিচ্ছে! এতদিন নমুনা পরীক্ষায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যেকোনো রোগী শনাক্তের পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে সুস্থতার ছাড়পত্র নিতে আরও দুই দফা নমুনার পরীক্ষা করাতে হতো। পরীক্ষায় পরপর দুবার ‘নেগেটিভ’ রিপোর্ট না হলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সুস্থতার ছাড়পত্র দেয়া হতো না। কিন্তু এখন কারো করোনা শনাক্ত হলে পরবর্তীতে দুই দফা পরীক্ষা না করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানান, এখন আর করোনায় আক্রান্ত রোগীকে সুস্থ বলে ঘোষণার জন্য আগের মতো দুবার নমুনা পরীক্ষা করতে হবে না। কী প্রক্রিয়ায় করোনা আক্রান্ত রোগীকে সুস্থ ঘোষণা করা হবে— জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যেকোনো রোগীর করোনা শনাক্ত হলে ১৪ দিন তাকে আইসোলেশনে কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হবে। ১৪ দিনের শেষের তিনদিন যদি ওই রোগীর করোনার কোনো উপসর্গ দেখা না যায় তাহলে তিনি সুস্থ বলে বিবেচিত হবেন।

আবার যদি দেখা যায় ১৪ দিন পর্যন্ত ওই রোগীর করোনার উপসর্গ রয়েছে তাহলে যেদিন উপসর্গ শেষ হবে অর্থাৎ পরপর তিনদিন যদি তিনি ওষুধ ছাড়া সুস্থ থাকেন তাহলে সুস্থ বলে বিবেচিত হবেন।

গত ৮ মার্চ থেকে শুক্রবার (১৭ জুলাই) পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের নমুনা পরীক্ষা করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সন্দেহভাজনদের মধ্যে ‘রোগী’ হিসাবে শনাক্ত হয়েছেন প্রায় দুই লাখ। মোট নমুনা পরীক্ষার হিসাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশের কম।

বর্তমানে রাজধানীসহ সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ৮০টি আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরিতে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। নমুনা পরীক্ষার কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়েনি বরং কমেছে। নমুনা পরীক্ষা কমার কারণ হিসেবে অনেকে নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে সরকারি পর্যায়ে জনপ্রতি ২০০ টাকা (হাসপাতালে এসে করালে) ও ৫০০ টাকা (বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করলে) এবং বেসরকারি পর্যায়ে সাড়ে তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা ফি নির্ধারণের বিষয়টিকে দায়ী করছেন।

এছাড়া পরীক্ষা করাতে গিয়ে সিরিয়াল পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি তো রয়েছে। এসব কারণে অনেকে নমুনা পরীক্ষা করাতে যাচ্ছেন না, এমনকী খুব প্রয়োজন ছাড়া হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন না।

কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের দাবি, শুরুতে করোনা সংক্রমণ নিয়ে জনমনে ব্যাপক ভীতি ছিল। এ কারণে অনেকে প্রয়োজন ছাড়াই পরীক্ষা করাতে হাসপাতালে বা নির্ধারিত কেন্দ্রে ছুটে আসতেন। আগে একজন রোগীর নমুনা পরীক্ষায় করোনা ‘পজিটিভ’ রিপোর্ট এলে পরবর্তীতে সুস্থ হওয়ার পর দুবার ‘নেগেটিভ’ রিপোর্ট পাওয়ার জন্য পরীক্ষা করাতে আসতেন। এ কারণে পরীক্ষাগারে বা কেন্দ্রে ভিড় লেগেই থাকত। কিন্তু বর্তমানে নেগেটিভ রিপোর্টের জন্য দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার পরীক্ষা না করানোর সিদ্ধান্তের ফলে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষার হার কমেছে। এ প্রক্রিয়ায় রোগীর সুস্থতার হারও অনেক বেড়েছে— দাবি স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।