logo

রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ | ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪

header-ad

খালেদার রাষ্ট্রদ্রোহসহ ১১ মামলার কার্যক্রম স্থগিত

আদালত প্রতিবেদক | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

হরতাল অবরোধে রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় গাড়িতে আগুন ও বোমা বিস্ফোরণ সংক্রান্তে ৯টি, গাড়িতে বোমা মেরে মানুষ হত্যা মামলাসহ রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষের মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন আদালত। এদিন অন্য আসামিদের সময় আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার হাজিরাসহ চার্জ শুনানির দিন ধার্য ছিলো।

মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক ১১ মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে মামলার স্থগিত করার কারণে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে হয়নি। সকল মামলায় আগামী ১৫ অক্টোবর অন্য আসামিদের আদালতে হাজিরাসহ উচ্চ আদালতের পরবর্তী আদেশ প্রাপ্তিসহ চার্জ শুনানির জন্য রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক হাফিজুর রহমান সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে হাজিরার জন্য ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

১১ মামলার মধ্যে কয়েকটি মামলার সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত হয়েছে বলে আদালতকে জানান খালেদা জিয়ার আইনজীবী মো.সানাউল্লাহ মিয়া। এদিন আদালতে এসকল মামলার জামিনে থাকা অন্য বিএনপি নেতা আসামিরা হাজিরা দেন।

খালেদার বিরুদ্ধে মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে দারুস সালাম থানার নাশতার ৮ মামলা, রাষ্ট্রদ্রোহের ১টি ও যাত্রাবাড়ী থানার বিস্ফোরক আইনে ১টি মামলা। যাত্রাবাড়ী থানার গাড়িতে বোমা মেরে মানুষ হত্যা মামলা। এ মামলাগুলির মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য ছিল।

আগেই এ সকল মামলার পলাতক আসামি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপি নেতা মীর সরাফত আলী সফু, মারুফ কামাল খান সোহেল ও সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়াসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে পত্রিকা বিজ্ঞপ্তি প্রদানের আদেশ দিয়েছেন।

গত বছর ১০ আগস্ট এ সকল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। গত বছর ১০ আগস্ট বড়পকুুরিয়া, নাইকো দুর্নীতি মামলায় ও রাষ্ট্রদোহের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলাসহ ১২ মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

গত বছরের ১০ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাজধানীর দারুস সালাম থানার বিশেষ ক্ষমতা আইনের পাঁচ মামলা আমলে গ্রহণ করেন আদালত। খালেদার উপস্থিতিতে নাশকতার ওই পাঁচ মামলার অভিযোগ আমলে নেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হাসান মোল্লার আদালত। এর আগে গৃহীত হয়েছিল একই থানার আরও তিন মামলা। তাকে আট মামলায়ই জামিন দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেন।

গত বছরের ১০ আগস্ট গেল ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে দারুস সালাম থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা থানার ৬২ (১) ১৫, ৫ (২) ১৫, ৬ (২) ১৫, ৮ (২)১৫, ১২(২)১৫, ২৯(২)১৫, ৩১(২)১৫ ও ৩(৩)১৫ নম্বরের মামলাগুলোতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছিলেন খালেদা।

গেল ২০১৫ সালের দারুস সালাম থানা এলাকায় নাশতার অভিযোগে ৮টি মামলা দায়ের করা হয়। এ ৮ মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দায়ের করা মামলা

এ মামলার অভিযোগ, গেল ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজকে বলা হয় এত লক্ষ শহীদ হয়েছে, এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে। খালেদা আরো বলেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন।

জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না।’ অতপর গত ২৩ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যে ‘দেশদ্রোহী’ মনোভাব পাওয়া যাচ্ছে অভিযোগ করে তা প্রত্যাহার করতে উকিল নোটিশ পাঠান । নোটিশের জবাব না পাওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারা মোতাবেক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে।

চলতি সালের ২১ জানুয়ারি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদন দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম রাশেদ তালুকদার আদালতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী ১২৩ এর ‘ক’, ১২৪ এর ‘ক’ ও ৫০৫ ধারায় পিটিশন মামলা করেন।

গত ২০১৬ সালের ৩ মার্চ আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন আদালত। সেদিন বেগম জিয়া আদালতে হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করলে ৫ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশন দেন।গত ৫ এপ্রিল খালেদা জিয়া সিএমএম আদালত থেকে জামিন নেয়।পরে এ মামলাটি বিচার নিস্পওির জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলী মুলে আসে।

গত ১০ আগস্ট রাষ্ট্রদোহের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলাসহ ১২ মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।ওই দিনও তার আইনজীবীরা অভিযোগ গঠন শুনানি পিছানোর জন্য সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

গাড়িতে পেট্রল বোমা মেরে যাত্রীহত্যা

গাড়িতে পেট্রলবোমা মেরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় যাত্রীহত্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে গঠনের শুনানির জন্য ৩১ জুলাই নির্ধারণ করেছেন আদালত। এদিন এমামলায় অভিযোগ আমলে নেয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল। এ ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। একই ঘটনায় খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদে বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলাটি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রুহুল আমিনের আদালতে চার্জ শুনানির এ দিন ধার্য আছে।

গত ৫ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এমামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে প্রেরণ করেন।এ মামলায় ও আগে গত ২৭ এপ্রিল ও ১৮ জুলাই এবং ১৫ নভেম্বর খালেদা জিয়া আদালতে আসেনি।তার সময়ের আবেদন আদালত মঞ্জুর করেন। এর আগে ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন খালেদা জিয়া।

একই ঘটনার দুই মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, সিনিয়ার যুগ্ম-মহাসচিব রহুল কবির রিজভী, সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানসহ ১১ জন জামিনে রয়েছেন। বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, (বর্তমানে জামিনে), বিএনপির নেতা বরকত উল্লাহ বুলু, (বর্তমানে জেল হাজতে) আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরাফত আলী সফু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ ২২জন পলাতক রয়েছেন।

গত ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ খালেদাসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র আমলে গ্রহণ করে খালেদা জিয়াসহ পলাতক ২৮ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগপত্র আমলে গ্রহন করে উপরোক্ত আদেশ দেন। এমামলায় খালেদা জিয়াকে পলাতক দেখানো হয়ে ছিলো।বর্তমানে অভিযুক্ত ৩৮ জনের মধ্যে ৫ জন কারাগারে ১১ জন জামিনে রয়েছেন।আদালত এমামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াসহ ৪৩ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন ।

গত ২০১৫ সালের ৬ মে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই বশির উদ্দিন ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। এতে খালেদা জিয়াসহ ৩১ জনকে পলাতক দেখানো হয়েছে।আদালতে বেগম খালেদা জিয়াসহ পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। মামলার অভিযোগপত্রে ৮১ জনকে সাক্ষী করা হয় ।

অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, ভাইস-চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, শওকত মাহমুদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও সাবেক ছাত্রনেত্রা হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ ৩৮ জন।

গত ২০১৬ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম (৬০) নামে এক যাত্রী। এ ঘটনায় ২৪ জানুয়ারি বিকেলে খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন থানার এসআই কে এম নুরুজ্জামান।

দায়ের করা মামলায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫/২৫(ঘ) ধারায় পেট্রলবোমা নিক্ষেপের পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিএনপির ১৮ নেতার নাম উল্লেখ করা হয়। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী হিসেবে যাত্রাবাড়ী বিএনপির ৫০ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম এজাহরে আসামির তালিকায় উলে¬খ করা না থাকালেও এজাহারের বক্তব্যের মধ্যে হুকুমদাতা হিসেবে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।

ফেমাস নিউজ২৪ডটকম/এফ/এন