logo

মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮ | ১০ মাঘ, ১৪২৪

header-ad

‘সাক্ষ্য–প্রমাণে প্রমাণ করতে পারেনি দুদক’

আইন-অপরাধ ডেস্ক | আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৮

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে ৯ম দিনের মতো যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার সমস্ত সাক্ষ্য–প্রমাণ পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই দুর্নীতি দমন কমিশন প্রমাণ করতে পারেনি। ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে না পারলে এর সুবিধা পাবেন আসামি। তিনি আদালতকে উদ্দেশ করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার চান, ন্যায়বিচার করুন।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে ৯ম দিনের মতো যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।

১১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটে রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে হাজির হন বেগম খালেদা জিয়া। এ সময় জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দেন তিনি।

এরপর বেলা ১১টা ১০ মিনিটে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার পক্ষে ৯ম দিনের মতো যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। আজ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য ছিল।

এর আগে গতকাল বুধবার অষ্টম দিনের মতো জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় এজে মোহাম্মদ আলী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

এর আগে ৪ জানুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সপ্তম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

১৯ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। এ দিন রাষ্ট্রপক্ষ খালেদা জিয়াসহ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।

এরপর ২০, ২১, ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর এবং ৩ ও ৪ জানুয়ারি খালেদার পক্ষে যুক্ত উপস্থাপন করেন তার আইনজীবীরা। ৪ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় ১০ ও ১১ জানুয়ারি পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।

এরও আগে চলতি বছরের ১২ অক্টোবর বিদেশে থাকাকালে বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় প্রথম মামলাটি করা হয়।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় আরেকটি মামলা করে দুদক।

এ মামলায় বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর সাবেক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম