logo

সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ | ১ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

প্রশ্নপত্রও ফাঁস করলেন, জামিনও পেলেন ‘মূলহোতা’!

বিশেষ প্রতিবেদক | আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০১৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া আসামি রাকিবুল হাসান জামিন পেয়েছেন। গত মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কামরুল হোসেন মোল্লা জামিন দেন।

ওই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি তাপস কুমার পাল বৃহস্পতিবার রাতে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

আদালত সূত্র জানায়, এ মামলায় এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া চার আসামি জামিনে বেরিয়ে গেছেন। ওই চারজনই গ্রেপ্তারের পর নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। তারা হলেন- ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশরাক হোসেন রাফি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুজাউর রহমান সানা, আজিজুল হাকিম ও তানভীর আহমেদ মল্লিক।

স্বীকারোক্তি দেওয়া অপর ৯ জন হলেন- রাকিবুল হাসানের সহযোগী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বনি ইসরাইল ও মারুফ হোসেন, ঢাকার প্রেস কর্মচারী খান বাহাদুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নাভিদ আজম তনয়, সাইফুল ইসলাম, এনামুল হক আকাশ, ফারজাদ সোবহান নাফি, আল আমিন চৌধুরী, কাজী মিনহাজুল ইসলাম ও সজীব আহমেদ।

২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৬৩ ধারা এবং ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনের ৯ (খ) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা করে সিআইডি।

মামলায় বলা হয়, আসামিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময় ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বিভিন্ন বিভাগে পড়াশোনার পাশাপাশি ভর্তি ইচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছে। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে তার উত্তরপত্র পরীক্ষাকেন্দ্রে সরবরাহ করে আসছে। আসামিরা অত্যন্ত সুচতুর প্রকৃতির। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাসহ দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যাপীঠে ভর্তি হওয়া হতে বঞ্চিত করে আসছে। এক্ষেত্রে তুলনামূলক কম মেধাবীরা টাকার বিনিময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করছে। ফলে তারা দেশকে মেধাশূন্য করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

সর্বশেষ গত রোববার গভীর রাতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেন। এই দুজন সিহাব হাসান খান ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ও সালমান এফ রহমান সমাজকল্যাণ বিভাগে পড়েন। তারা ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র পেয়েছিলেন। এই নিয়ে এখন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির দুটি চক্রের মোট ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পেয়ে ওই দুজন পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। তাদের প্রতিজনের কাছ থেকে ৪ লাখ করে টাকা নিয়ে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন হাতে তুলে দিয়েছিলেন নাটোর জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান। রাকিবুলকে ৮ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসের কর্মী সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে প্রশ্ন পান নাটোর ও পাবনা জেলার ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান। এরপর তিনি ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে ২২ শিক্ষার্থীকে সাভারের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় তার বোনের বাড়িতে নিয়ে রাখেন। সেখানেই ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সমাধান তাদের মুখস্থ করানো হয়। ওই ২২ জনের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪ লাখ করে টাকা নিয়েছিলেন রাকিবুল।

রোববার গ্রেপ্তার হওয়া সিহাব ও সালমান ওই ২২ জনের মধ্যের দুজন। ওই দুজন ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে তাদের সঙ্গে থাকা ২২ জনের মধ্যে ১৬ জনের নাম সোমবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন।

গত ১৯ অক্টোবর রাতে অভিযান চালিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল থেকে ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন রানা ও আবদুল্লাহ আল মামুনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরদিন সিআইডির পরিদর্শক মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বাদী হয়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন এবং ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইনে তাদের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তানজিল, বিকেএসপির সহকারী পরিচালক (বরখাস্ত) অলিপ বিশ্বাস, অলিপের ভাই উৎপল ও জেনিথ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য হিসেবে ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরবরাহ করেন। এই ডিভাইস নিয়ে হলে ঢুকে পরীক্ষার্থীরা তাদের কাছে প্রশ্নপত্র পাঠান। চক্রের অন্য সদস্যরা দ্রুত উত্তরপত্র তৈরি করে আবার সেসব পরীক্ষার্থীর কাছে সরবরাহ করেন।

কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী পরিষদের সভাপতি আবুল কালাম আজাদও তার জামিন শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআই/আরবি