logo

শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad
সাগর-রুনি হত্যা মামলা,

আজও দেয়া হলো না প্রতিবেদন

আদালত প্রতিবেদক | আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৮

বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন আজ মঙ্গলবারও দাখিল করেনি পুলিশ। ফলে আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২২ এপ্রিল ধার্য করেছেন।

মঙ্গলবার  মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার দিন ধার্য থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার ওয়ারেছ আলী প্রতিবেদন দাখিল না করায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা আক্তার  প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী  ২২ এপ্রিল ধার্য করেছেন।

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডেরপর বিগত ৬৭ মাসেও এ মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি। মামলার বিভিন্ন আলামতের সঙ্গে গ্রেফতার আট আসামি ও সন্দেহভাজন ২১ আত্মীয়-স্বজনের ডিএনএ টেস্ট প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করছে এ মামলার অগ্রগতি।

গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলেন- রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মো. সাইদ, মিন্টু, কামরুল হাসান ওরফে অরুণ, তানভীর ও পলাশ রুদ্র পাল। আসামি তানবীর ও পলাশ রুদ্র পাল জামিনে আছেন। জামিনে থাকা আসামি আদালতে হাজির ছিল।

২০১৪ সালের ১৬ মার্চ ঢাকার সিএমএম আদালত সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে চেয়ে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন তলব করেছিলেন। ২০১৪ সালের ২০ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারেছ আলী আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে মামলায় জব্দ আলামতের সঙ্গে ম্যাচিং করার জন্য গ্রেপ্তার আট আসামি ও সন্দেহভাজন ২১ আত্মীয়-স্বজনের নমুনা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনির ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। সেদিন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছিলেন।

শুরু থেকেই মামলাটির তদন্ত করেছিল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। লাশ উদ্ধারের পর ডিবি দুই নিরাপত্তাকর্মী হুমায়ুন কবীর ও পলাশ রুদ্র এবং কথিত বন্ধু তানভীরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এ ছাড়া কয়েকজন পেশাদার গ্রিল কাটা চোরকেও তখন সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

এদিকে, তদন্তের অগ্রগতি না হওয়ায় বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। ২০১৩ সালের  ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে মামলার তদন্ত সংস্থা ডিবি তদন্তে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে নেয়। তারপর আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় র‌্যাব। এরপর ২০১৩ সালের  ২৬ এপ্রিল ভিসেরা আলামতের জন্য দুজনের লাশ আজিমপুর কবরস্থান থেকে তোলা হয়। ভিসেরা পরীক্ষায় তাদের শরীরে বিষক্রিয়ার কোনো আলামত মেলেনি। র‌্যাব গত জুনের শুরুর দিকে সাগর ও রুনিকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি ছুরি, একটি ছুরির বাঁট, সাগরের মোজা, একটি কম্বল, সাগরের পরনের প্যান্ট, রুনির পরনের প্যান্ট ও অন্যান্য কাপড় থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরীক্ষাগারে পাঠায়। ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই দ্বিতীয় দফায় যে কাপড় দিয়ে সাগরের হাত ও পা বাঁধা হয়, সেই কাপড় ও রুনির টি-শার্ট পাঠানো হয়।

এ ছাড়া  ডা. নায়ারণ হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া পাঁচজনের ডিএনএ নমুনা মিলানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। এরই মধ্যে র‌্যাব গণমাধ্যমকে জানায়, রুনির টি-শার্ট থেকে একজন ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ বৃত্তান্ত পাওয়া গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রতিবেদন ও তদন্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে যথা শিগগিরই সম্ভব আদালতে চার্জশিট দেয়া হবে। এ পর্যন্ত গত ৬৭ মাসে ৫৫ বার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছানো হয়েছে।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআই