logo

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৯ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

জামিন স্থগিত খালেদার

আদালত প্রতিবেদক | আপডেট: ১৯ মার্চ ২০১৮

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের লিভ টু আপিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

এ আবেদনের ওপর গত রোববার শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য আজ সোমবারের জন্য রেখে দেন। এদিকে, এ শুনানিকে কেন্দ্র করে সুপ্রিমকোর্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে, গতকাল রোববার আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন পেলেও শিগগিরই মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা জিয়া। কারণ কুমিল্লার একটি নাশকতার মামলায় খালেদা জিয়াকে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (পিডব্লিউ) দেখানো হয়েছে।

আগামী ২৮ মার্চ ওই মামলায় তাকে হাজির করার জন্য কারাগারে এ সংক্রান্ত হাজিরা পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ওই মামলায় জামিন না হওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়া মুক্তি পাচ্ছেন না।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রোববারের কার্যতালিকার ৯ নম্বরে দুদক এবং ১০ নম্বরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি শুনানির জন্য রাখা ছিল আগেই। তবে রোববার আদেশ না দিয়ে সোমবারের জন্য রেখে দেয়া হয়। আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন স্থগিত চেয়ে গত বৃহস্পতিবার লিভ টু আপিল করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ।

গত সোমবার হাইকোর্ট থেকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়ার পরদিন মঙ্গলবারই আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে তা স্থগিত চেয়ে আবেদন করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ। ওইদিন আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর চেম্বার জজ আদালত আবেদন দুটি পরদিন শুনানির জন্য রেখে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। বুধবার খালেদা জিয়ার জামিন রোববার পর্যন্ত স্থগিত করে এই সময়ের মধ্যে লিভ টু আপিল আবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানসহ মামলার অপর পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। ওইদিন থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

এ মামলার অপর চার আসামি হলেন- সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। এদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।

চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছে দলটি। আগে চার দফায় বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন, অবস্থান, গণঅনশন, গণস্বাক্ষর অভিযান, স্মারকলিপি পেশ, কালো পতাকা প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে চলেছে দলটি।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআই/আরবি