logo

মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

যে কারণে এখনই মুক্তি মিলছে না খালেদার

বিশেষ প্রতিবেদক | আপডেট: ১৬ মে ২০১৮

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায়ে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে রয়েছেন তিনি।

এদিকে, খালেদা জিয়া কবে বা কখন কারামুক্ত হবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। তবে এটা নিশ্চিত যে, তিনি এখনই কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না।

কারণ হিসেবে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন আদেশ আপিল বিভাগে বহাল থাকলেও অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানোর কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখনই কারামুক্তি পাচ্ছেন না।

আজ বুধবার সকালে হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের রায়ে জামিন বহাল রাখার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।

দুদকের করা এ মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেন। তারপর থেকে খালেদাকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।

বিচারিক আদালতে রায়ের পর হাই কোর্টে তিনি জামিন পেলেও দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে তা আটকে যায়। আজ জামিন বহাল রাখার পাশাপাশি ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির আদেশ দেয়া হয়েছে।

রায়ের পর আপিল করে জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া, যার ওপর শুনানি নিয়ে গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট তাকে চার মাসের জামিন দেন।

এ জামিন স্থগিত চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে। শুনানি নিয়ে ১৪ মার্চ আপিল বিভাগ ওই জামিন স্থগিত করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে এ সময়ের মধ্যে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলেন। অন্যদিকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

আদালত আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। পরে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক লিভ টু আপিল করে।

গত ১৯ মার্চ আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত রেখে শুনানির জন্য ৮ মে নির্ধারণ করেন আপিল বিভাগ।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসান খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এ মামলায় অন্য আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই বন্দি রয়েছেন তিনি।

গত ১২ মার্চ খালেদার চার মাসের অন্তবর্তী জামিন মঞ্জুর করেন উচ্চ আদালত। কিন্তু ১৯ মার্চ আপিল বিভাগ ৮ মে পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করেন।

এদিকে, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছে দলটি। আগে চার দফায় বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন, অবস্থান, গণঅনশন, গণস্বাক্ষর অভিযান, স্মারকলিপি পেশ, কালো পতাকা প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে চলেছে দলটি।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি