logo

মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

খালেদা-গয়েশ্বরের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ১১ জুলাই

অ্যাড. এমদাদুল হক লাল | আপডেট: ১১ জুন ২০১৮

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলটির স্হায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য ও বুদ্ধিজীবীদের জ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করার অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় আগামী ১১ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

আজ সোমবার এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম মো.আবু সাঈদ এদিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম মো. আমিনুল হকের আদালতে জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকি বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম মো. আমিনুল হক বাদির জবানবন্দী গ্রহণ শেষে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলায় বাদীর আর্জিতে উল্লেখ করেন, গত ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর শাহবাগে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত আলোচনা সভায় জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে সুকৌশলে এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে খালেদা জিয়া বলেন, তিনিতো (বঙ্গবন্ধু) বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি, তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না।

মামলার আর্জিতে আরো বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদদের নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির বিষয়ে বলেন, আজ বলা হয় এত লাখ শহীদ হয়েছে, এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে। খালেদা জিয়ার এ বক্তব্য বিভিন্ন মিডিয়ায় ও পরদিন দেশের সব জাতীয় দৈনিকে ফলাও করে প্রচার করা হয়। তা দেখে বাদী অত্যন্ত ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে গত ২৫ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রিজভী আহমেদ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা পাকিস্তানের বেতন ভাতা খেয়েছেন, তারা নির্বোধের মতো মারা গেলেন। আমার আমাদের মতো নির্বোধরা শহীদ বৃুদ্ধজীবী হিসেবে তাদের ফুল দেই, আবার না গেলে পাপ হয়। তারা (শহীদ বুদ্ধিজীবী) যদি বুদ্ধিমান হতেন তবে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিজ ঘরে থাকলেন কেন।

এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর মালেক একই অভিযোগে আর একটি মামলা দায়ের করেন। এর আগে নড়াইল জেলা আদালতে আরো একটি মামলা দায়ের হয়। তবে দু’টি মামলায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আসামি নয়।

ওই বক্তব্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও শহীদ বৃদ্ধিজীবীদের নিয়ে কটাক্ষ করে, স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যা মানহানিকর বলে উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেন। বাদীপক্ষে আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ মামলাটি পরিচালনা করেন।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/জেডআর/এফআর