logo

সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮ | ৩০ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

খালেদার মামলায় বিচারকের প্রতি অনাস্থা ২ আসামির

আদালত প্রতিবেদক | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারকের প্রতি অনস্থার আবেদন দিয়েছেন দুই আসামি। এ সময় জিয়াউল ইসলাম মুন্নার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

আজ সোমবার রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত অস্থায়ী ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামানের আদালতে
যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল।

মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী সানাউল্লা মিয়া মামলার মুলতবি চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাকে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয়া হয়েছে। খালেদা জিয়া সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হোক।

এ সময় খালেদা জিয়ার জামিন বৃদ্ধির আরেকটি আবেদনও করা হয়। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে খালেদা জিয়াকে জেল কোড অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। এবং জামিন বৃদ্ধি করেন।

অপরদিকে আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খানের পক্ষে মামলার কার্যক্রম মুলতবি চেয়ে আবেদন করেন তাদের আইনজীবী। আবেদনে বলা হয়, গত ২০ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে মামলা চলবে বলে আদালত আদেশ দেন। যা আইনসম্মত হয়নি। এতে মামলা পরিচালনায় কোরাম সঙ্কট হবে। তাই আমরা এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।

এদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল মামলার যুক্তি উপস্থাপন করার আবেদন করেন। কাজল বলেন, আসামিপক্ষ যদি যুক্তি উপস্থাপন না করে তাহলে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হোক।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির মামলার কার্যক্রম মুলতবির আবেদন নামঞ্জুর করেন। এ সময় মুন্নার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম আদালতের প্রতি অনাস্থার একটি টাইপ করা আবেদন দেন।

এ সময় আদালত বলেন, আপনি কি আগেই জানতেন যে আবেদন নামঞ্জুর হবে? আপনি টাইপ করে কেন আনলেন। এ সময় মনিরুল ইসলামের আইনজীবীও লিখিত অনাস্থার আবেদন দেন।

তখন বিচারক পিপিকে বলেন, মুন্নার জামিনের বিষয় আপনি বলেন। পিপি বলেন, যেহেতু আসামির বিচারকের প্রতি আস্থা নেই। সেহেতু আবেদন নামঞ্জুর করেন। আদালত মুন্নার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে মামলার বিচার কার্যক্রম আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি রাখেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

অপর আসামিরা হলেন- খালেদার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। রায়ের পর থেকে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি