logo

সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ | ৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

রাজধানীর অধিকাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ

মো. আখতারুজ্জামান | আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০১৮

রাজধানীজুড়ে অধিকাংশ ফার্মেসিতে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। পাওয়া গেছে পাঁচ বছর আগের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও। এমনি ভয়াবহ তথ্য ওঠে এসেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর পরিচালিত অভিযানে।

যে ওষুধে মানুষের রোগ ভালো হয় সেই ওষুধই যদি খাওয়ার অনুপযোগী হয় তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? ফার্মেসির ওষুধের মেয়াদ শেষ হলো কিনা তা দেখার জন্য মালিকদের প্রতি সরকারি এমন নিয়ম থাকলেও তা মানছেন না তারা।

যদিও ফার্মেসি মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, তাদের অসাবধানতার কারণে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ থেকে যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোক্তা যখন কোনো পণ্য ক্রয় করেন তখন যেন তারা যাচাই-বাছাই করে নেন। এটা একজন ভোক্তার অধিকার। আর ওষুধের বিষয়ে সেটা তো আরো বেশি হওয়া প্রয়োজন।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয় থেকে প্রতিনিয়ত দুটি করে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযান রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় করা হয় বলে জানা যায়।

এমন কয়েকটি অভিযানে দেখা গেছে যে, যেসব ফার্মেসিতে অভিযান পরিচালনা করেছে তার অধিকাংশেই ভেজালসহ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ গেছে। এসব ফার্মেসিকে তারা অর্থ জরিমানা করেছেন।

সম্প্রতি এমন কয়েকটি অভিযানের তথ্য তুলে ধরা হলো-

আজ ৬ নভেম্বর মঙ্গলবার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার অপরাধে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ল্যাব এইড ফার্মেসিকে ৪০ হাজার টাকা, অভিরূপ ফার্মেসিকে ৩০ হাজার টাকা, এআরকে ফার্মেসিকে ২০ হাজার টাকা এবং বেস্ট ফার্মেসিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

গত ৪ নভেম্বর রাজধানী উত্তরায় অভিযান পরিচালনাকালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে নিউ সানমুনকে ৪০ হাজার, লার্জ ফার্মাকে ৩০ হাজার এবং ইস্টার্ন মেডিসিনকে ১৫ হাজার জরিমানা করা হয়।

একই অপরাধে গত ৩ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুর-১২ এলাকার আনোয়ারা ফার্মাকে ১৫ হাজার এবং ফিরোজা ফার্মাকে ১৫ হাজার জরিমানা করা হয়।

গত ১ নভেম্বর মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করায় রাজধানীর ভাষানটেকের সিরাজ ফার্মেসিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

গত ৩১ অক্টোবর রাজধানীর রামপুরা বনশ্রী এলাকার তানভীর মেডিকেল ও স্কলার ফার্মায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

গত ২৩ অক্টোবর রাজধানীর কারওয়ানবাজার এলাকায় ২০১৩ সালের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের সন্ধান পায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এ অপরাধে জননী এবং নুরানি নামের দুই ফার্মেসিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

এ বিষয়ে ফেমাসনিউজের এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল জব্বার মন্ডলের। তিনি জানান, রাজধানীর অনেক এলাকার ফার্মেসিতে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। সবখানে প্রায় একই চিত্র। আমরা অনেক ফার্মেসিতে দুই, তিন এমনকী পাঁচ বছর আগের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া ওষুধ দেখেছি। এক-দুদিন কিংবা এক দুই মাস হলেও মেনে নেয়া যায় অসাবধানতার কারণে এমনটা হয়েছে।

আবদুল জব্বার মন্ডল বলেন, আমরা যখন দেখি যে- ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ তখন আমরা ধরেই নিই, তারা বাড়তি মুনাফার লোভে এসব ওষুধ বিক্রির জন্য রেখেছে। কারণ নিয়ম রয়েছে যে, কোনোভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ফার্মেসিতে রাখা যাবে না।

এ বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান ফেমাসনিউজের এ প্রতিবেদকে জানান, ভোক্তা অধিদপ্তরের এ উদ্যোগ ভালো। এতে করে রাজধানীর ফার্মেসিগুলোতে কিছু পরিবর্তন আসবে।

দুদকের সাবেক এ চেয়ারম্যান জানান, ভোক্তার অধিকার ভোক্তাকেই অাদায় করে নিতে হবে। আর এ জন্য সচেতনতার বিকল্প নেই। কারণ সরকার আইন করেছে কিন্তু আমি ভোক্তা হিসেবে সেই আইনের নিয়মগুলোর বিষয়ে যদি সচেতন না থাকি তাহলে আইন করে কোনো লাভ হবে না।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম