logo

শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

‘বিষাক্ত লবণে বাজার সয়লাব’

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০১৮

 

জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক সোডিয়াম সালফেটকে খাবার লবণ বলে চালিয়ে দিচ্ছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির নেতারা।

আজ বুধবার রাজধানীর তোফখানা রোডের একটি হোটেলে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক বিষাক্ত ‘সোডিয়াম সালফেটে বাজার সয়লাব: ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দেশীয় লবণ শিল্প’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়।  

সংবাদ সম্মেলনের লেখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি নুরুল কবির। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ইতোপূর্বে চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় থাকা দুই হাজার টন লবণ আটক করা তা পরীক্ষা করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ল্যাবে এ লবণ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায় জব্দকৃত লবণে সোডিয়াম ক্লোরাইডের পরিমাণ ৯১ দশমিক ৫ শতাংশ, সোডিয়াম সালফেট ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং আর্দ্রতার পরিমাণ মাত্র এক শতাংশ।

নুরুল কবির বলেন, সরকার সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি নিষিদ্ধ করে। তবে সোডিয়াম সালফেট আমদানি উন্মুক্ত রাখা হয়। সোডিয়াম সালফেট আমদানিতে ডিউটি কম থাকায় একটি ব্যবসায়ী চক্র চায়না থেকে আমদানী করছে। তারা দেশের কারখানার চাহিদার চেয়ে কয়েক লাখ মেট্রিক টন বেশি আমদানি করে থাকে। উতিরিক্ত অংশ প্যাকেটজাত করে দেশের বাজারে ছাড়ছে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তবে তারা সঠিকভাবে চক্রটিকে চিহ্নিত করতে পারেনি তবে এটা বন্ধ করতেই হবে। নতুবা লবণ হিসেবে সোডিয়াম সালফেট খেলে মানুষের লিভার, ক্যান্সার ও হার্টের সমস্যা হতে পারে৷ সংবাদ সম্মেলনের নেতারা কয়েকটি লবণের প্যাকেট দেখান যেগুলোতে সোডিয়াম সালফেট আছে বলে তারা দাবি করেন।

এ সময় লবণ মিল মালিক সমিতির নেতারা সরকারের কাছে দুটি দাবি পেশ করেন। প্রথমত জনস্বাস্থ্য বিবেচনা করে সোডিয়াম সালেফেট আমদানি নিষিদ্ধ করতে হবে। অথবা দেশীয় লবণ শিল্প রক্ষায় সোডিয়াম সালফেট আমদানিতে ১০০ ভাগ কাস্টমস ডিউটি আরোপ করার দাবি জানান। দ্বিতীয়ত চাহিদার প্রয়োজনে ঘাটতি পরিমাণ লবণ পূর্বের ন্যায় মিলমালিকদের মাধ্যমে সমহারে আমদানির অনুমতি দেয়ার দাবি জানানা।

লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, সোডিয়াম সালফেটের নামে ফিনিশড লবণ আমদানি, বৈষম্যমূলক শুল্কনীতি এবং বিসিকের তথ্য বিভ্রাটের কারণে দেশীয় লবণ শিল্প ও চাষীরা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এরই মধ্যে তিন শতাধিক মিল বন্ধ হয়ে প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হওয়ার পথে। আর সোডিয়াম সালফেট খাবার লবণ হিসেবে ব্যবহার করায় পুরোজাতি মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে।

অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, একটি অসাধু শ্রেণি সোডিয়াম সালফেট প্যাকেটজাত করে লবণ হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা নামী দামী ব্র্যান্ডকেও বেছে নিচ্ছে। এসিআই, মোল্লা সল্ট ও কনফিডেন্সের মতো ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার কিংবা তাদের প্যাকেটের প্রায় অনুরুপ নকল প্যাকেটে সোডিয়াম সালফেট বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে। সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন জায়গায় লবণের নামে সোডিয়াম সালফেট ছড়িয়ে পড়ছে। ঢাকার আশেপাশের জেলাগুলোত তা প্রকট। কারওয়ানবাজারসহ রাজধানীর সবগুলো বড় বাজার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লার কিছু কিছু দোকানে তা ছড়িয়ে গেছে।

ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম