logo

বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

ভিকারুননিসার শিক্ষিকা হাসনা হেনা কারাগারে

আইন-অপরাধ ডেস্ক | আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বরখাস্তকৃত শ্রেণিশিক্ষিকা হাসনা হেনাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাঈদ। বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৪টায় এ মামলার শুনানি শেষে জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, শিক্ষিকার আইনজীবী তার জামিনের আবেদন করলেও রিমান্ডের আবেদন করেনি পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় বুধবার রাতে শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (পূর্ব) একটি টিম রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করে। পল্টন থানায় অরিত্রীর বাবা আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার যে মামলা দায়ের করেছেন, সেই মামলার তিন নম্বর আসামি হাসনা হেনা।

ডিবির (পূর্ব) উপকমিশনার খন্দকার নুরুন্নবী বলেন, আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা পাওয়ার পরই অভিযুক্ত শিক্ষকদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু হয়। শিক্ষিকা হাসনা হেনার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে রাত ১১টার দিকে উত্তরায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, আমার কাজ হলো- কোনো মেয়ে ঝামেলা করলে তার বাবা-মাকে নিয়ে প্রিন্সিপালের কাছে দাঁড় করানো। এ ক্ষেত্রে মোবাইল পাওয়ায় আমি তাই করেছিলাম। এছাড়া আমার কোনো দায় নেই। অরিত্রির বাবা-মায়ের সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। অধ্যক্ষ আমাকে যা বলেছেন আমি তাই করেছি।

গত সোমবার চোখের সামনে বাবা-মায়ের অপমান সহ্য করতে না পেরে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ছাত্রী অরিত্রী অধিকারী আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার কিছুক্ষণ আগে তিনি তার মাকে জানান, মা এ লজ্জা নিয়ে বাঁচতে চাই না। বেলা সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শান্তিনগরে সপ্তম তলায় নিজ ফ্ল্যাটে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় অরিত্রীকে পাওয়া যায়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসকরা অরিত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ছাত্রীর গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদরে। অরিত্রির বাবা দিলীপ কুমার একজন সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী।

অরিত্রির মা-বাবা জানান, অরিত্রির স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। গত রোববার সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা চলার সময় তার কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এজন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের ডেকে পাঠায়। স্কুলে গেলে কর্তৃপক্ষ আমাদের জানান, অরিত্রি মোবাইল ফোনে নকল করছিল, তাই তাকে বহিষ্কারের (টিসি) সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সোমবার পরীক্ষার সময় অরিত্রির সঙ্গে তারা স্কুলে যান। পরে তাদের ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে নিয়ে গেলে তারা মেয়ের নকল করার ব্যাপারে ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু ভাইস প্রিন্সিপাল কিছু করার নেই বলে তাদের প্রিন্সিপালের রুমে যেতে বলেন। সেখানে গিয়েও তারা ক্ষমা চান। কিন্তু প্রিন্সিপালও তাতে সদয় হননি। পরে অরিত্রি প্রিন্সিপালের পায়ে ধরে ক্ষমা চাইলেও তাদের বেরিয়ে যেতে বলেন এবং পরদিন টিসি নিয়ে আসতে বলেন।

অরিত্রীর মা ও বাবার অভিযোগ, প্রিন্সিপাল তাদের অপমান করায় তার মেয়ে দ্রুত বাসায় চলে যায়। পরে তারা গিয়ে দেখে অরিত্রী নিজ রুমে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আছে। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, শাখাপ্রধান ও এক শ্রেণিশিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলা করার পর তাদের গ্রেফতারে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেফতার হন শ্রেণিশিক্ষিকা হাসনা হেনা।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম ‌