logo

সোমবার, ২৫ মে ২০২০ | ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭

header-ad

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী ল্যাবএইডে ভর্তি, কাটেনি শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০১৮

মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী এখনও শঙ্কামুক্ত নন। শ্বাসকষ্ট ও রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া ছাড়াও বয়সজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি। তার চিকিৎসা চলছে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে। এ ভাস্করের মেয়ে ফুলেশ্বরী প্রিয়নন্দিনী এসব কথা জানান।

প্রিয়নন্দিনী বলেন, মায়ের অবস্থা তেমন ভালো নেই। এখন ল্যাবএইডে ভর্তি আছেন। বাসায় আনার পরে শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল এবং হাত-পা ফুলে গিয়েছিল। তখন আমরা তাকে জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য নিয়ে যাই।

তিনি বলেন, মায়ের হাত-পা ফুলে যাওয়ায় প্লাস্টারে সমস্যা হচ্ছিল। তখন তার প্লাস্টারটা চেঞ্জ করার জন্য বিএসএমএমইউতে নিয়ে যাই। তারা নতুন করে প্লাস্টার করে দেয়। পরে, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে ল্যাবএইডে নিয়ে আসি।

প্রিয়ভাষিণীর বর্তমান শারীরিক সমস্যা নিয়ে ফুলেশ্বরী বলেন, মায়ের শ্বাসকষ্ট আছে, আবার রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম। তাকে রক্ত দেওয়া হয়েছে। এখনও তার পায়ে প্লাস্টার করা আছে। বুকে চাপ লাগায় তিনি শুয়ে থাকতে পারছেন না।

এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সহযোগী অধ্যাপক ও বাংলাদেশ স্টেমসেল অ্যান্ড রিজেনারেটিভ মেডিসিন সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) বলেন, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী এখন ল্যাবএইডে ভর্তি আছেন। তার ওল্ডেজ কমপ্লিকেশন্স আছে। তার রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ অনেক কমে গিয়েছিল। তার শ্বাসকষ্টও আছে। তাকে রক্ত দেওয়া হয়েছে। ডাক্তাররা তাকে দেখছেন।

৮ নভেম্বর বাড়ির বাথরুমে পড়ে আঘাত পান ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। সে সময় তাকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে ২৩ নভেম্বর বিএসএমএমইউয়ের হেপাটোলজি (লিভার) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের অধীনে ভর্তি করা হয় তাকে। গত ২০ ডিসেম্বর তাকে বাসায় নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। তবে এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে আবার বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে পরে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

তিনি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ছাড়াও লিভার, কিডনি, ইউরিন ও থাইরয়েডের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। গত ১০ ডিসেম্বর বিএসএমএমইউয়ের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নকুল কুমার দত্ত তার বাম পায়ের গোড়ালির সমস্যার কারণে অস্ত্রোপচার করেন।

১৯৪৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি খুলনায় জন্ম ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হন। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবদানের জন্য ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে মুক্তিযোদ্ধা খেতাব দেয়। এর আগে ২০১০ সালে তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পদক পান। ২০১৪ সালে একুশের বইমেলায় তার আত্মজৈবনিক গ্রন্থ 'নিন্দিত নন্দন' প্রকাশিত হয়।

ফেমাসনিউজ২৪/আরএ/আরইউ