logo

সোমবার, ২৫ মে ২০২০ | ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭

header-ad

‘যা চোখে দেখি, সেটার বর্ণনা দিয়ে আমার গল্প বানানোর অক্ষমতাকে ভরিয়ে তুলতে চাই’

সাক্ষাৎকার গ্রহণ মাসউদ আহমাদ | আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০১৮

২০০৬ সালে কলকাতার আনন্দ পুরস্কার পেলেন হাসান আজিজুল হক। একদিন সকালে ঢাকা থেকে আমাকে ফোন করলেন জহিরুল আবেদীন জুয়েল। জুয়েল ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের স্বত্তাধিকারী। আমার বইয়ের প্রকাশক। তিনি কুশল বিনিময়ের পর বললেন, আপনি যদি ব্যস্ত না থাকেন তাহলে একটু কাজ করে দিতে হবে।

কী কাজ?

জুয়েল বললেন, হাসান স্যার তো আনন্দ পুরস্কার পেয়েছেন। কলকাতা থেকে আনন্দবাজার পত্রিকার সাংবাদিক এসেছেন, স্যারের একটা ইন্টারভিউ নেবেন। তিনি তো কলকাতার লোক। রাজশাহীর কিছু চেনেন না। আপনি একটু সঙ্গে থেকে তাকে নিয়ে যান।

আমি বললাম, অবশ্যই।

ততদিনে জুয়েল ভাইয়ের সঙ্গেই হাসান স্যারের বাসায় অন্তত দুবার যাওয়া হয়েছে আমার। ফলে যেতে না-চাওয়ার কোনো কারণ ছিল না।

আমি তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আবদুল লতিফ হলে থাকি। কোনো ব্যস্ততা নেই। কাজেই সানন্দে রাজি হয়ে গেলাম। জুয়েল ভাই আমাকে আনন্দবাজারের সাংবাদিকের নাম ও ফোন নম্বর জানিয়ে দিলেন। খুব সম্ভবত বেলা এগারোটার দিকে সাংবাদিক ফোন করলেন। নাম বললেন। আমি জানালাম, আসুন প্লিজ।

বসন্ত রঙ ট্যাক্সিক্যাবে করে সাংবাদিক ও তাঁর ক্যামেরাম্যান যখন বিনোদপুর বাজারে এসে পৌঁছলেন, গাড়ি দেখেই চিনে ফেললাম। ঢাকা থেকে তাঁরা রিজার্ভ নিয়ে এসেছেন।

বিনোদপুর বাজার থেকে হাসান স্যারের বাসা সামান্য পথ। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে আমরা পৌঁছে গেলাম। হাসান স্যার আগে থেকেই অবগত ছিলেন। কাজেই প্রাথমিক আলাপটুকু দ্রুত ফুরিয়ে গিয়ে তা গড়িয়ে যেতে পারলো কাজের আলাপের দিকে।
হাসানের পুরস্কার পাওয়ার খবরটি আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পাতায় বেরিয়েছে সেদিনই। পত্রিকাটি সঙ্গে করে এনেছিলেন টিভির ওই সাংবাদিক। স্টার আনন্দ’র সেই সাংবাদিকের নাম ঋতব্রত ভট্টাচার্য (প্রিন্সিপাল করসপন্ডেট)। সুদর্শন। নায়কের মতন দেখতে; কিন্তু নায়ক নয় কেন তা মনেও হয়েছিল। সুন্দর কথা বলার ভঙ্গি তাঁর এবং হেয়ার স্টাইল। বুকের কাছে কয়েকটি সাদা শুভ্র চুল উঁকি দিচ্ছে আর তিনি কথা বলতে বলতে নিয়ম করে তা শার্টের বোতাম লাগানোর ছলে আড়াল করছেন হাত দিয়ে। এখনো যেন চোখে দেখতে পাই দৃশ্যটি।

পুরস্কার পেয়ে হাসান আজিজুল হকের অনুভূতি কী এবং অন্যান্য কথা... শর্ট নেওয়ার আগে ঋতব্রত ভরাট সুন্দর গলায় একটা ইন্ট্রো দিলেন। বললেন- ‘হাসান আজিজুল হক। ফিনিক্স পাখির মতো ঝলসে ওঠা সেই লেখক, যিনি মাটিকে শিল্পে রূপান্তর করেন...’; এমন বা কাছাকাছি ছিল তাঁর কথাটুকু।

এক ফাঁকে স্যার বললেন, তুমি মনে হয় আগে একবার এসেছিলে। আমি বললাম, জি স্যার। ইত্যাদির জুয়েল ভাইয়ের সঙ্গে। স্যার বললেন, হ্যাঁ। তাই তো চেনা চেনা লাগছে। তুমিই তাহলে এদেরকে নিয়ে এলে?

আমি বললাম, সকালে জুয়েল ভাই ফোন করে বলে দিয়েছিলেন...

স্যার বললেন, খুবই ভালো করেছো।

ডকুমেন্টরি বানাতে যা যা লাগে তাঁরা সেভাবে ক্যামেরা চালিয়ে তা করে গেলেন। একবার হাসান লেখার ভান করে কাগজ কলম নিয়ে বসলেন, গায়ে সেন্ডো গেঞ্জি, তারা সেটা ক্যামেরাবন্দি করলেন।

ঋতব্রত ভট্টাচার্য এক ফাঁকে আমাকে বললেন, ‘আপনি তো গল্প লেখেন। আমাকে আপনি গল্প দিতে পারেন। আমি দেশ-এ পৌঁছে দেব।’ আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। ভয়ও পেয়েছিলাম। তাই তাঁকে বললাম, দেশ-এ দেবার মতো গল্প এখনো লিখে উঠতে পারিনি। পরে কোনো একদিন পাঠাব।

কাজ শেষে খাবারের আয়োজন। এক টেবিলে বসে স্যারও সবার সঙ্গে খেতে খেতে গল্প শুরু করলেন। বললেন, ‘আমার আসল বাড়ি কিন্তু তোমাদের ওখানে, বর্ধমানে...।

এই ভণিতাটুকু এ কারণে যে, মানুষ ও লেখক হাসান আজিজুল হককে বার কয়েক খুব কাছ থেকে শুনে ও অবলোকন করে আমার যে অভিজ্ঞতা হলো তা কাজেরই ঠেকলো। আর তাঁর কথা-রুচি-বিবেচনা, মানুষকে দেখার ভঙ্গি ও চোখ দেখে আমার নিজের ভেতরে খানিক আলোড়নও উঠলো। ধীরে ধীরে তাঁর লেখা ও বক্তৃতা বুঝে ওঠা যেন বেশরকম সহজ হয়ে উঠলো আমার জন্য। কিছুদিন পর, টের পেলাম যে, তাঁর যে-কোনোরকম লেখাই কঠিন বা দুর্বোদ্ধ মনে হয় না।

একটা সময়ে এসে লেখা ও আলোচনার বাইরে তাঁকে অন্যভাবে দেখে ওঠার চেষ্টা করেছি। সেই চেষ্টাটুকু সাহিত্যিক রেখাচিত্রের আলোকেই। কিন্তু তার সবটুকু আগেই প্রকাশিত বা বিবৃত নয় হয়তো। হাসান আজিজুল হকের সঙ্গে যেতে যেতে পথে তাই চেনা মানুষের মুখে সেই চেনা আলোই অন্যভাবে, এক ধরনের মৃদু-অবগাহনে ভেসে গিয়ে...

গ্রামের বাড়িতে গেলে একবার রাজশাহী শহরে যাই। সুযোগ হলে হাসান স্যারের বাড়ি থেকে ঘুরে আসি। তিনি কাজে ব্যস্ত থাকলেও সময় দেন, কথা বলেন। কথা বলতে তিনি ভালোই বাসেন। তাঁর সাক্ষাৎপ্রার্থী যে কেউ এই কথা জেনে থাকবেন।
একবার কথাপ্রসঙ্গে জানতে চাইলাম, স্যার এই যে আপনি দীর্ঘদিন গল্প লিখছেন না, অথচ গল্প আপনার লেখালেখির প্রিয়তম মাধ্যম। কিন্তু সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাহিত্যসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রবন্ধ-বক্তব্য-সাক্ষাৎকার দেওয়া চলছেই। এটাকে কি এক ধরনের সমর্পণ বলব, বিশেষ কোনো প্রণোদনায়?

কাজের মেয়েটা পাকা পেঁপে এনে টেবিলে রাখলো। হাসান আজিজুল হক সেদিকে তাকিয়ে বললেন, খাও। তোমাদের ঢাকায় তো এমন ভালো জিনিস পাবে না। একটু থামলেন। বললেন, দেখো, সমাজে এখন যে চাঞ্চল্য জেগেছে, ভালো কিংবা মন্দ দেখি, তাতে করে আর চুপ করে থাকা সম্ভব নয়। অনেক বিষয়ে কথা বলতেই হচ্ছে। অনেক নতুন নতুন সংকট দেখতে পাচ্ছি। আমাদের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সংকট; এসব বিষয় নিয়ে লেখা অনেক সময় দায়িত্ব বলে মনে করেছি। ফলে এ জাতীয় লেখা এখন আমার সৃজনশীল লেখার চেয়ে বেড়ে গেছে। তাই বলে সৃজনশীল লেখা পেছনে পড়ে যায়নি। সামনেই আছে। কিন্তু আপাতত আমি সেসব স্থগিত রেখেছি। যেমন ছোটগল্প দীর্ঘকাল লিখেছি। তা ছাড়া আরও একটা কথা আছে, যেটার চর্চা তুমি করছ, ছোটগল্পের, লেখক হিসেবে সব সময় তোমাকে সচেতন থাকতে হবে, তুমি কি পুরনো খাবারই জাবর কাটছ, নাকি নতুন তাজা কোনো কিছু তৈরি করতে পারছ। আমার মনে হয় যেন শেষ গল্প লেখার পরে, আমার কোথায় যেন সমাপ্তি ঘটে গেছে। ছোটগল্পের জন্য আমাকে আলাদা একটা রাস্তা খুঁজতে হবে। সেটাতে আমার কোনো ক্লান্তি নেই বা তাতে আমার মনোযোগ আসবে না, তা নয়। আমি ওটা স্থগিত রেখেছি। কিন্তু ইতোমধ্যে আমার অন্যান্য লেখা, সেসব সৃজনশীল লেখাই, ওসবের এত উপলক্ষ চলে এলো যে লিখেই ফেলতে হলো। মাঝখানে উপন্যাস লেখার দিকে একটু ঝুঁকে পড়লাম। তারপরে ‘স্মৃতিকাহন’ নামের একটা লেখা শুরু করে দিলাম। লেখাটা আমাকে টানছে এবং আমি দেখলাম যে এটা লিখতে হবে। কাজেই আপাতত এখানেই আমার কলম চালনাটা হয়েছে আর কি।
আমি বললাম, কিন্তু আপনি একবার বলেছিলেন যে, গল্প আমার প্রিয় মাধ্যম। কাজেই এটাকে আমি সাবধানে ব্যবহার করতে চাই...

বাটি থেকে এক টুকরো পেঁপে তুলে নিলেন হাসান আজিজুল হক। নিয়েই মুখে পুরলেন না। জানালার দিকে তাকালেন। কিছু দেখলেন কিনা বোঝা গেল না। এবার একটু মুখে দিলেন। চিবোতে চিবোতে বললেন, হুম, এই কথাটা কীভাবে আমি বলেছি এবং কীভাবে তুমি নিয়েছ জানি না। প্রিয়তম মাধ্যম মানে, যেটাকে নিয়ে যখন লিখব তখন সেটাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করাটাই আমার স্বভাব। আমি বলেও থাকি, লেখালেখিটা একদিক থেকে আনন্দের বিষয়। কিন্তু যখনই তুমি লেখালেখির কাজে নিযুক্ত হয়েছ, তখন কিন্তু খুব কষ্টদায়ক অনুভূতির ভেতর দিয়েই যেতে হয়। কাজেই লেখাটা একদিক থেকে বেশ কষ্টের এবং যন্ত্রণার বিষয়ও। এটা মাথার ওপরে ভীষণভাবে চেপেও থাকে। তার ফলটা এই দাঁড়ায়Ñ যে মাধ্যমেই আমি কাজ করতে যাই না কেন, সেটা আমার সম্পূর্ণ মনোযোগ দাবি করে।

স্যার, লেখক তো নানারকম থাকেন। সাংবাদিকও তো লেখক। কিন্তু সাংবাদিকের হাতে থাকে কলম ও ক্যামেরা। তারা ঘটনার ছবি তোলেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ক্যাপশন লেখেন বা বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন। আর সাহিত্যিকের হাতে থাকে রঙতুলি; তিনি যা ঘটেনি ঘটতে পারতো, সেই সম্ভাবনা তার লেখায় তুলে আনেন জীবনঘনিষ্ঠ উপায়ে। তাহলে মূল প্রতিবেদন থেকে গল্পকারের আলাদা কাজটা কী হয়?

হাসানের মেয়েটা এসে একবার দরজায় দাঁড়ালো। স্যার বললেন, কী কিছু বলবে? মেয়েটা কিছু না বলে চলে গেল। তিনি বললেন, জীবনঘনিষ্ঠ আবার কী? গরিব মানুষ বলেই বা কী? দুটোই তো সমান। হতে পারে সে একজন শ্রমজীবী বা খুব সাধারণ মহিলা; যেমন, মা-মেয়ের সংসার বা বাড়ির চাকরানিকে নিয়ে লেখা গল্প। মা-মেয়ের সংসার- সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার পটভূমিতে লেখা। এ রকম অনেক গল্প আছে, যেমন ‘মন তার শঙ্খিনী’। একটি মেয়েকে নিয়ে লেখা গল্প। এগুলো আবার বিখ্যাতও হয়ে গেছে। কেমন করে হয়েছে, তা জানি না। কিন্তু কোনো রকমে সামনে নিয়ে এলাম আর কি। তারপর লিখতে লিখতে হয় দু-একটি নতুন নতুন ঘটনা উদ্ভাবিত হলো। লেখার ভেতর দিয়েই সেটা এসে গেল। সেটা যদি সম্পূর্ণ মিশে না যায়, ওপর থেকে চাপিয়ে দিয়ে কোনো গল্প লিখতে চাই না আমি। জানো, আমাকে বহুলোক মাঝেমধ্যে বলে, জানেন, এ রকম মজার ঘটনা ঘটেছে। আপনি এটা নিয়ে একটা গল্প লিখতে পারেন। অনেকে বলেছে। অজ¯্র। এ রকম বলা গল্প আমি একটাও লিখেছি কি না, সন্দেহ আছে। আর লেখার সময় আমি যেটা করতে চাই, সেটা একটা গোপন কথাই বটে। যেমন ক্যামেরাওয়ালা ছবি তুলে থাকে, কী আপনি বলতে চান? এই নেন আমার ছবি। আমি ঠিক তেমন করে আমার কলমটাকে ক্যামেরায় রূপান্তরিত করতে চাই। তাতে আমি ছবি তুলি, লেখার মাধ্যমে। ফলে যখন কেউ বলে, আপনার লেখা পড়ে বুঝতে তো অসুবিধা হয়; তখন একদিক থেকে আমার আশ্চর্যই লাগে। মন দিয়ে পড়লে তো আমার লেখা ছবির মতোই, আমি তো ছবির বিকল্প হিসেবেই লিখেছি। যে মানুষগুলোকে নিয়ে লিখেছি, সে মানুষগুলোকে তো চোখের সামনে দেখতে পাওয়ার কথা। আর সেই ছবিগুলো কিন্তু আলাদা নয়। চারপাশের যে পরিবেশ, আবহ- সেখান থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। কারণ, আমি পুরো পরিবেশসহ ছবিটা আঁকি। সেজন্য আমার গল্পে বর্ণনা একটু বেশি...

২.

...তখন বেলা পড়ে এসেছে। সন্ধ্যা নামার আগে তিনি বোধহয় একটু বেরোতে ভালোবাসেন। তাতে মানুষ দেখা আর শরীরে হাওয়া লাগানোর ছলে পায়ে হেঁটে দেহের কলকব্জায় রক্ত সঞ্চালন বা রক্তের প্রবাহ জারি রাখা যায়- জীবন সম্পর্কে সচেতন এবং অভিজ্ঞ মানুষের কত ব্যাপারই তো থাকে।

বিহাসের ভেতরে, যে ঘরে বসে কথা হচ্ছিল তাঁর সঙ্গে, বাড়িটির নাম ‘উজান’; একটা ঢিলেঢালা পায়জামা পরাই ছিলেন, তার ওপর একটা খাটো পাঞ্জাবি চাপিয়ে তিনি দাঁড়ালেন। বললেন, চলো, একটু হেঁটে আসি।

রাজশাহী এমনিতেই সবুজের শহর। শান্ত, প্রায় নিরিবিলি; একটা শহরের পক্ষে কি নিরিবিলি অবয়ব বা আবহ নিয়ে থিতু থাকা সম্ভব? না, বোধহয়। জীবনানন্দ দাশের ছোটবোন সুচরিতা দাশ ব্যক্তিগত ধরনের একটি লেখায় লিখেছেন, বরিশালের মতো শান্ত ও স্নিগ্ধ শহর ছেড়ে কলকাতায় গিয়ে দাদার খুব অসুবিধে হতো। তখন, আমি কেবলই ভাবতাম, শহর কীভাবে শান্ত ও স্নিগ্ধ হয়? কিন্তু বরিশাল শহরে গিয়ে আমার সেই কৌতূহল ও প্রশ্নের উত্তর পেয়েছিলাম। বরিশাল আসলেই তাই। অন্তত একসময় তেমনই ছিল। আর কি। রাজশাহীতে এলে, অনুসন্ধিৎসু যে কারও সেই কৌতূহলও প্রশমিত হবে- তা সহজেই ধরে নেওয়া যায়।

‘উজান’ থেকে বেরিয়ে আমরা ধীর পায়ে হাঁটতে থাকি।

গুণী ও সামাজিকভাবে পরিচিত মানুষের সঙ্গে হেঁটে যাওয়া কম ঝঞ্জাটের নয়। বিহাস হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় হাউজিং সোসাইটি। এখানে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত এবং অবসর নেবেন এমন শিক্ষকরাই আবাস গড়েছেন। ফলে এই ডেরায় গুণী ও বিশেষভাবে পরিচিত মানুষ প্রচুর আছেন। কিন্তু তাঁদের মধ্যে হাসান আজিজুল অন্যমাত্রার গুণী ও বিশেষভাবে সুপরিচিত। তাঁকে দেখেও না দেখার ভান করে কেউ চলে যাবেন বা কথা বলবেন না, কুশল বিনিময় করবেন নাÑ তা তো হয় না। ...স্যার কেমন আছেন? হাসান ভাই, শরীরটা ভালো? চাচ্চু তুমি কবে ফিরলে গো ঢাকা থেকে। ইত্যাদি চলতেই থাকে।

হেঁটে যেতে যেতে বসার জন্য খড়ের ছাওনির মতো চার চালার একটা জায়গা বা ঘর, যে ঘরে দেয়াল নেই; একটা টেবিল আর খান কয়েক চেয়ার আছে, এসে দাঁড়াই আমরা। ছয় সাত বছরের একটা ছেলে সাইকেলের পরিত্যক্ত গোল চাকা শক্ত কাঠি দিয়ে ঠেলতে ঠেলতে দৌড় দিলো, পাশ দিয়ে। মুখ দিয়ে শব্দ করলো ভুউউউ। স্যার সেদিকে তাকিয়ে বললেন, এই আস্তে। পড়ে গিয়ে চোট পাবি তো। এই এই।

ছেলেটা একবারের জন্য তাকালো না। ভ্রুক্ষেপও করলো না।

আমি মেলাতে পারলাম না। বিহাসের ভেতরে এমন আদুল গায়ের অপুষ্টিতে ভোগা, সুন্দর কিন্তু বিষণœ মুখের এই বাচ্চাটা কে? স্যার বললেন, ছেলেটা বাইরের। ওর মা হয়তো এখানে কোনো বাড়িতে কাজ করে। ফাঁক পেয়ে বেরিয়ে পড়েছে।
ছেলেটাকে দেখতে দেখতে হঠাৎই মনে এলো কথাটি- তাঁর ছেলেবেলাটা কেমন ছিল? কার, হাসান আজিজুল হকের? এই এতদিন পর তাঁর কি সে কথা মনে আছে?

এখানে যে মৃদু এবং নির্ভেজাল বাতাসটুকু পাচ্ছ, তাতে কিন্তু কোনো ফাঁকি নেই, বুঝলে? ঢাকা শহরের বাতাসে তো জীবনবিধ্বংসী সব ম্যাটেরিয়াল থাকে। তারচেয়ে বরং এখানে প্রকৃতির সান্নিধ্যে ভালোই আছি।

কথাটুকু পাড়লাম তখন, স্যার, আপনি নানা জায়গায় তো পড়াশোনা করেছেন। বহু বিচিত্র অভিজ্ঞতা আপনার জীবনে। কিন্তু খুব জানতে ইচ্ছে করছে যে, আপনি তখনো স্কুলে যেতে শুরু করেননি, সেই সময়ের কথা কিছু মনে পড়ে?
হাসান আজিজুল হক হাসলেন। আরে সেই সময়ের কথাই তো বেশি মনে পড়ে হা...হা...। স্কুল তো দূরের কথা, পাঠশালা বলো। রণ প-িতের পাঠশালায় যাচ্ছি আমি পাঁচ বছর বয়সে। তার আগের ঘটনা- মামার বাড়ি যাচ্ছি-আসছি। কাঠবিড়ালির মতো আমগাছে উঠছি, আম পাড়ছি, কখনও হয়তো সাপের ছোবলের মুখ থেকে বেঁচে গেলাম; তারপরও সাপটাকে না মেরে সেখান থেকে সরলাম না। মাঠে যাচ্ছি, ধান কুড়োচ্ছি, সেই ধান রেডি করে তা দিয়ে জুতো কেনার টাকা সংগ্রহ করছি। এমন বহু ঘটনাই আছে। তবে তুমি যদি বলো, যুগান্তকারী কোনো ঘটনা- সেসব কিছু বলতে পারব না। ঊনচল্লিশের দুর্ভিক্ষের কথা মনে পড়ে- পাশের কোনো গ্রামের অজস্র মানুষ শহরে চলে যাবে, খেতে পায়নি তারা; আমাদের গ্রামে এসেছে। কিন্তু বের হওয়ার মতো শরীরে পোশাক নেই বলে রাতের আগে বাড়িতে বা রাস্তায় ঢোকেনি। বাইরে জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে ছিল। সেই অর্ধউলঙ্গ নারী-পুরুষ-শিশুরা। খাবার চাইতেও আসতে পারেনি এমনই তাদের পোশাকের অবস্থা। এরই মধ্যে একটি মেয়ে বেরিয়ে এসেছিল, সেই মেয়েটি আমাদের বাড়িতে চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল, ভিক্ষা চায়নি। এখনো মনে পড়ে, ভরা যুবতী ছিল সে। তার দুটো স্তনই দেখা যাচ্ছিল, প্রায় খোলা। হাঁটুর উপরে কাপড়ের অনেকটাই ছেঁড়া, চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। তুমি যদি বলো, কিছু মনে পড়ে কিনা- এটা মনে পড়ে; মেয়েটি কীভাবে ঘাড়টা একটু বাঁকা করে, যুবতী একটা মেয়েÑ লজ্জা বা ইয়ে কিছুই সে বোধ করছিল না। তারপর কিছু খাবার দেওয়া হলো। খুব কষ্ট আমাদেরও হয়েছে, মধ্যবিত্ত পরিবার। তবে অমুকবেলা ভাত হলো না বা খাদ্য জুটলো না- এমন হয়নি।

বিহাসের ভেতরে নানারকম গাছ। ঔষধি গাছ যেমন আছে, ফলের গাছও কিছু কম নয় এবং সুপরিকল্পিত। একটা বাড়ি থেকে আর-একটা বাড়ির দূরত্ব, হেঁটে যাওয়ার রাস্তা এবং পরিবেশ অত্যন্ত মনোরম। পরিপাটি। হাঁটতে হাঁটতে বললাম, স্যার, মানুষ তো অসম্ভব স্মৃতিধর। ৯০ বছর বয়সের মানুষও তার ছেলেবেলার কথা হুবহু মনে করতে পারে। হাসান আজিজুল হক নামের লোকটি, জীবনের ৭৪টি বসন্ত পেরিয়ে, আকাশ নামক এই ছাদের নিচে বিশাল পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করে চলেছেন। এই বিশ্বায়নের যুগে আপনার ছেলেবেলা, বেড়ে ওঠার সঙ্গে কীভাবে সমান্তরাল করবেন?
কেউ মনে হয় ফোন করেছিল। স্যার কথা শেষে একবার আমাকে দেখলেন। বললেন, তুমি যেভাবে কঠিন কঠিন প্রশ্ন করছ, এভাবে কি আর চটচট করে জবাব দেওয়া যায়? ধরে নাও, আমি নিজের সঙ্গে তুলনা করছি না, উপমাটা দিচ্ছি। একটা খুব বড় গাছ, তুমি নিশ্চয়ই জানো ওটা একদিন এতটুকুন চারা ছিল; এখন অতটুকু চারাটা কীভাবে অতবড় মহীরুহ হলো তা কি দেখতে পাওয়ার বিষয়? যদি হয়েই থাকে, আমি মহীরুহ না হই একটা বুড়ো মানুষ তো হয়েছি। আমি তো কাঁচা বাঁশ থেকে পাকা বাঁশ হয়েছি, নাকি? হা হা... (অট্টহাসি)। এতটুকু কড়া বাঁশ, গায়ে তখন অনেক ছিলকা। বাঁশ বড় হচ্ছে ছিলকা পড়ে যাচ্ছে। এভাবে কঞ্চি হয়েছে। একদিন বাঁশটা পাকা বাঁশে পরিণত হয়েছে। বাঁশ কি বলতে পারে কখন কীভাবে হয়েছে। আমি নিজেও কি বলতে পারব। যখন পরিভ্রমণটা পেছন থেকে দেখি, অনেক রকম ব্যাপার মনে হয় বৈকি। শুধু এইটুকু মনে হয়, রবীন্দ্রনাথের সেই কথাটা সম্পূর্ণ মেনে নিয়েও- বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি; তারপরও বলব, আমি নিজেকে বহুদর্শী লোক বলি না। কিন্তু আমার নিজের কাছে আমার অভিজ্ঞতার ভা-ারটা, বোধের সঞ্চয়টা, চিন্তায় যাকে বলে নানান দিকে ছড়িয়ে যাওয়াটা- বেশ বড় একটা ভা-ার একটু একটু করে তৈরি হয়ে গেছে। তার একটা কারণ, জীবনটা দুই বাংলায় বিভক্ত না হয়ে যদি এক বাংলা থাকতো, তাহলে কথাটা এতোটা গুরুত্বের সঙ্গে বলতে হতো না। যেহেতু ১৯৪৭ সালে একদম রাজনৈতিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ এবং পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশ হয়ে গেল, আমার জীবনটা এর সবটায় বিস্তারিত। অর্থাৎ আমার গ-িটা তুলনামূলকভাবে বিস্তৃৃত। আর আমাদের এখানে যে প্রশ্নগুলো বার বার উঠেছে, যে প্রশ্নগুলোর কোনো সমাধান হয়নি; যে প্রশ্নগুলো ওঠা উচিৎ কিনা জানি না। আমি ইংরেজ, ইংল্যান্ডে কোনো ইংরেজকে এটা স্পষ্ট করে বলতে হয়? দরকার হয় বলার, আমি ইংরেজ? আমাদের এই বাংলাদেশে, পশ্চিম বাংলাতেও।

সন্ধ্যা নেমে আসছে। আমাকে ফিরতে হবে। আজ শহরেই থেকে যাব। বাড়িতে মা অবশ্য চিন্তা করবেন। কারণ বলেছিলাম, সন্ধ্যার আগেই ফিরব। আজ আর ঠিক ফেরা হবে না।

প্রতিতুলনাটা খুব ভালো করেছেন স্যার। এখন বলুন যে, আপনার ছেলেবেলা এবং এখনকার ছেলেবেলার মধ্যে বিশেষ কোন পার্থক্যগুলো চোখে পড়ে?

মুখে কেমন একটা ভঙ্গি করলেন তিনি। হাসান আজিজুল হক। সেই মুখে কথারা লুকিয়ে গেল না কি জড়ো হলোÑ ধরা গেল না। তখন একটা সুন্দরী তরুণী হেঁটে এলো আমাদের দিকে। সে হয়তো বাড়ি ফিরছে। স্যারকে দেখে দাঁড়িয়ে সালাম দিলো। কুশল বিনিময় করলো। স্যার বললেন, তোর মা কেমন আছে রে? আচ্ছা, যা বাড়ি যা। মৃদুপায়ে হাঁটতে হাঁটতে একটু বিরতি দিলেন তিনি। বললেন, এখনকার ছেলেমেয়েদের ছেলেবেলা দেখলে, তাদের জন্য আমার যে কী দুঃখ-কষ্ট-করুণা হয়, সেটা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। আমি স্রেফ বলব, তাদের কোনো ছেলেবেলা নেই। আমরা যত শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছি ততো এই বিষয়টা ঘটছে। যত গ্রামের দিকে এখনো তুমি যাবে, যত প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছবে, ততোই ছোট শিশুর জন্য একটু ছেলেবেলা বাঁধা থাকবে। শহর ছেলেবেলাকে লোপ করে দিয়েছে, আক্ষরিক অর্থে। খেলার জায়গা পর্যন্ত রাখেনি, খেলা বলে কোনো ব্যাপার নেই। আমি এটাকে বলি, গোয়াল আর মুরগি। আর একটা জগতে তাদের আমরা ঢুকিয়ে দিয়েছি, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট। আমরা বড় হয়ে হুইস্কি টুইস্কি অনেকে খাই। কিন্তু এখন পাঁচ বছরের শিশুকে হুইস্কির চেয়ে বড় জিনিস ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আরও আছে হার্ডড্রিংকস, ফাস্টফুড। এটার আরও কুফল সামনে পাবে।
স্যার, আমি আজ ফিরব। আর একদিন আসা যাবে। কিন্তু টুকরো আরও কটি কথা জানার আছে আমার। যেমন আপনার ‘শকুন’ গল্পটি, এটি লেখার আগের সমস্ত লেখা কিংবা আপনার উন্মেষকালে লেখা উপন্যাস ‘বৃত্তায়ন’; এটি যে আপনারই লেখা তা অস্বীকার করতে পারলে আপনি খুশি এবং ব্যক্তিগতভাবে আপনি তা-ই করেছেন। পরিণত এবং হিসাব মেলানোর এই প্রান্তে এসে ব্যাপারটাকে যদি ব্যাখ্যা করেন...

হাসান আজিজুল হক মিষ্টি করে তাকালেন। কিংবা গম্ভীর মুখে। কিন্তু তিনি যখন কথা বলেন, তাঁর কথা বলার ভঙ্গিতে বা কথার জাদুতে এমন কিছু থাকে, শুনে যেতে হয়। শুনতে ভালো লাগে। হাসান বললেন, দেখো, আমি যা-ই বলে থাকি না কেন, শেষ পর্যন্ত আমি এক জায়গায় বলেছি, আমার সবরকম লেখা, তা পাঠকের চোখে পরিণত লেখা, কাঁচা লেখা; সব লেখাই, শেষ পর্যন্ত আমি অস্বীকার করতে পারি না। কেননা, ওই সত্যটা ঠিক স্থির দাঁড়িয়ে থাকে- এসব আমারই লেখা। কাজেই ‘বৃত্তায়ন’ যে আমারই লেখা, তা আমি কোনোদিন অস্বীকার করিনি, করবও না। আমি লেখক হিসেবে যেখানে গিয়েছি, পৌঁছেছি লেখাতে, যে পথ থেকে পেছনে ফিরে এসেছি; এমনকি যে পথটা ধরে আমি বাকি পথ হাঁটিনি, সেই পথটাতে আমি ফিরতে চাইছিলাম না। সেই কারণে ওটাকে পুনরুজ্জীবিত করা, হয়তো এটাকে প্রকাশ করে আবার পাঠকের সামনে আনাটা, এটা আমার কাছে তেমন আগ্রহের বিষয় মনে হয়নি। কিন্তু যা-ই হোক পাঠকের আগ্রহ দেখা দিয়েছে এবং পাঠকের তরফ থেকে প্রকাশের আগ্রহ দেখা দিয়েছে। তাঁরা এটা বের করেছেন। সেই জন্য ও কথা আমাকে কেউ যেন না জিজ্ঞেস করেন, ওইটার পরে এটা; ওটা ভালো এটা খারাপ। এটার জবাব তো আমি দিতে পারব না। হ্যাঁ, ‘শকুন’ আগে লেখা হয়েছে, ‘বৃত্তায়ন’ তার বেশ কিছু পরে লেখা হয়েছে। তবু ‘বৃত্তায়ন’কে আমি স্বীকার করতে চাই না। ‘শকুন’ সম্পর্কে আমার সে রকম কোনো বক্তব্য নেই।

স্যার, একটা গল্প লিখতে লিখতে গল্পটা ঠিক কোথায় শেষ হবে, কোথায় থামা উচিৎ, এর কোনো নিয়ম কি আছে এক্সাক্টলি?
শোনো, একটা বিষয় আমার কাছে অদ্ভুত লাগে। গল্পের শুরু, তার মাঝখান, ভালো করে ওপরে উঠে যাওয়া, তারপর ঝপ করে শেষ করে দেওয়া ছোটগল্প সম্পর্কে প্রচলিত ব্যাপারগুলোর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি কখনো এমন করে চেষ্টা করিনি। গল্পটা কী করে শেষ হবে, লিখতে লিখতেই আমাকে বলে দেয়- আর লিখো না। এখানেই শেষ করো। এটা আমি আগে থেকে ঠিক করি না। দু-একবার ঠিক করেছি, কিন্তু পরে দেখেছি, সেভাবে হয় না। তার আগেই শেষ হয়ে যায়। অথবা সেটুকু লেখার পর আরও খানিকটা লিখেছি।

আকাশের সিঁড়ি বেয়ে সন্ধ্যা নামতে শুরু করেছে। সেদিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে বললাম, স্যার, আপনি একবার বলেছিলেন, ‘আমি বানিয়ে গল্প লিখতে পারি না। বাস্তবতাটা যা চোখে দেখি, সেটার বর্ণনা দিয়ে আমার গল্প বানানোর অক্ষমতাকে ভরিয়ে তুলতে চাই।’ আমাদের গল্প ভুবনের রাজপুত্র হাসান, এটা কি বিনয় করে বলছেন?

হুম। তা বলেছিলাম বৈকি। যদি এই কথাটা বলেই থাকি, তাহলে এটা পুরোপুরি বিশ্বাস করেই ফেলো না। এটা আবার নতুন করে বলা কেন? গল্প যেটাকে তৈরি করা বলে আর কি, সেভাবে তৈরি করা কোনো গল্পই আমার নেই। আমি সেই কথাটা খুব ভালো করে বলতে চেষ্টা করেছিলাম যে, আমার কোনো উদ্ভাবনী ক্ষমতা নেই। এখন এটা বিনয় না গূঢ় অর্থে সত্য, সেটার বিচার করুক পাঠক। আমি শুধু এটুকু বলতে পারি যে, আমি লেখার সময় যে বিষয়টা বুঝতে পারি- লেখাটা কেমন করে এগোচ্ছে এবং তাতে বুঝতে পারি যে, আমার নতুন নতুন উদ্ভাবন, ঘটনা এবং ঘটনার ক্রম সাজানো, একটা কৌতূহল তৈরি করা ইত্যাদি জিনিস সক্রিয়ভাবে কাজ করে না। আমার মনে হয়, আমার লেখার সময় লেখার অন্য বিষয় আছে এই গল্প তৈরি করা ছাড়াও; তাতে যদি একটা গল্প দাঁড়িয়ে যায়, যাবে। কিন্তু গল্প তৈরি করার দিকে আমি কলমটাকে চালনা করি না।

ফেমাসনিউজ২৪/আরইউ