logo

সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮ | ৭ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

বইমেলায় স্টলের অসম বণ্টননীতি নিয়ে প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০১৮

বইমেলায় কোনো প্রকাশনী বেশি ইউনিটের স্টল পেয়েছে, কেউ যা পাওয়ার কথা তা পায়নি, কেউ আবার স্টল বরাদ্দই পায়নি। এমনই অভিযোগ নিয়ে ঠিক এ পরিস্থিতির শিকার হয়ে কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থা মঙ্গলবার রাজধানীর কনকর্ড এম্পোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করেছে। এতে অংশ নেয় বেহুলাবাংলা, মেঘ ও টাপুরটুপুর।

বেহুলাবাংলার প্রকাশক চন্দন চৌধুরী বলেন, গত দুই বছর বইমেলায় প্রকাশনা সংস্থা হিসেবে অংশ নিয়েছে বেহুলাবাংলা। প্রকাশ করেছে দুই শতাধিক বই। সারা বছর বই প্রকাশের পাশাপাশি শুধু ২০১৭ মেলায়ই ৮৩টি নতুন বই প্রকাশ করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব ঘটনা নিয়ে ৭১টি উপন্যাস প্রকাশের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে বেহুলাবাংলা প্রকাশনী। সেই প্রকাশনার উদ্বোধন করেছিলেন কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন। এত সংখ্যক বই প্রকাশের পরও এক ইউনিটের স্টল বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে মেলায়। ফলে স্টলে বই সাজিয়ে রাখাটাই ছিল অনেকটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এর মধ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জম্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বেহুলাবাংলা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ১০০ উপন্যাস প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যেই এই কাজ শুরু হয়েছে। যা ২০২০ সালে সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, বেহুলাবাংলা এবছর (২০১৮ বইমেলায়) দেড় শতাধিক বই প্রকাশ করছে। যেখানে বিনয় মজুমদার বিষয়ক প্রবন্ধ সমগ্র, মঈন চৌধুরীর দর্শন বিষয়ক রচনা সমগ্র, নির্মলেন্দু গুণের সাক্ষাৎকার সমগ্রের মতো হাজার পৃষ্ঠার বইও রয়েছে। তিন ইউনিটের স্টল চাইলেও বেহুলাবাংলাকে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১ ইউনিটের স্টল। প্রকাশকের দাবি হলো তিন শতাধিক বই এক ইউনিটের স্টলে রাখা সম্ভব নয়।

মেঘ প্রকাশনী এই পর্যন্ত ৬৭টি বই প্রকাশ করেছে। এরমধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য বই রয়েছে। রয়েছে বেশ কিছু অনুবাদের বইও। ৫০টি বই থাকলেই যেখানে স্টল পাওয়ার নিয়ম সেখানে খড়িমাটিকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

মেঘ প্রকাশনীর স্বত্ত্বাধিকারী শাহিন লতিফ বলেন, নতুন প্রকাশকদের দাবিয়ে রাখার জন্যই এই প্রচেষ্টা। বাংলাবাজারের অনেক প্রকাশনী থেকে আমার প্রকাশনীর ভালো মানের বই রয়েছে। তবুও আমাকে স্টল দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে টাপুরটুপুর ছোটদের প্রকাশনী। এই প্রকাশনীরও অর্ধ শতাধিক বই রয়েছে। জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, মহাদেব সাহা, আখতার হুসেনদের বই থাকা স্বত্ত্বেও টাপুরটুপুর স্টল বরাদ্দ পায়নি।

টাপুরটুপুরের পরিচালক মহিউদ্দিন মাসুম বলেন, এই বৈষম্য মেনে নেয়া যায় না। সবচে অবাক ব্যাপার হলো, তারুণ্যনির্ভর প্রকাশনাগুলো যেখানে ঠিকভাবে স্টলের ইউনিট পাচ্ছে না, সেখানে মেলায় এবার প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ১১টি থেকে বাড়িয়ে ২৫টি করা হয়েছে। তাহলে কি আমরা বলব, বইমেলা বুর্জোয়াদের হাতে চলে যাচ্ছে! যদি নতুন স্টল বাড়ানোর জায়গা না থাকে কীভাবে ২৫টি প্যাভিলিয়ন করা হয়!

তাদের দাবি, আগামী ১১ জানুয়ারি ২০১৮ এর মধ্যে মেলার এই স্টলবন্টন পুনঃবিবেচনা করা হোক। আর তা না হলে, তারা ১৩ তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবে।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কবি গিরীশ গৈরিক, মাহমুব মিত্র ও মাহফুজ রিপন।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ