logo

শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

‘পরকীয়া’য় ভড়কে যাবার কিছু নেই!’

সাক্ষাৎকার গ্রহণ মাহতাব শফি | আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

কবি ও কথাসাহিত্যিক ফারজানা মিতু। সুন্দর গদ্য এবং মর্মস্পর্শী বর্ণনা যার উপন্যাসের প্রধানতম অনুষঙ্গ। লেখার প্রতি রয়েছে তার ভালোবাসা। গ্রন্থভুক্ত তার পঙক্তির পরতে পরতে পাওয়া যায় ভিন্নমাত্রা। সম্পর্কের বিশ্লেষণ এবং অভিজ্ঞতা বিচিত্র প্রভাব পাওয়া যায় তার লেখায়। বিষয় বৈচিত্র্যেও তা অনন্য। লেখনির মাধ্যমে তার বিস্তার ও দিক অন্বেষণ যথার্থই সাড়া জাগিয়েছে। প্রথম জীবনে ফারজানা মিতু কবিতা দিয়েই সাহিত্যচর্চা শুরু করেছিলেন। এরপর গল্প ও উপন্যাস।  অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৮-এ প্রকাশিত হয়েছে তার চারটি গ্রন্থ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত উপন্যাস ‘পরকীয়া’। এতে পাওয়া যাবে ভিন্ন জীবনের চিত্র। জীবনের নানাচিত্রে নান্দনিক উপন্যাসে রূপান্তর করেছেন ‘পরকীয়া’। তার লেখালেখি, বইমেলা, গ্রন্থ ও কথাসাহিত্যের নানা বিষয় নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে-

ফেমাসনিউজ : আপনার ছোটবেলার কথা জানতে চাইবো। সাহিত্যে এলেন কেন এবং কীভাবে?

ফারজানা মিতু : আসলে সাহিত্য মাধ্যমে কীভাবে চলে এলাম সেটা নিজেও সেভাবে বলতে পারবো না। নানা সময়ে ছোট করে ২-৩ লাইনের কথা লিখতাম, কখনও বন্ধুদের কার্ডে কিংবা চিঠিতে। আমার আম্মা যেহেতু লেখালিখি করতেন তাই সেগুলো পড়া হতো আর ওই বয়সেই মনে হতো, এই লাইনটা না হয়ে অন্যটা হলে ভালো হতো। সাহিত্য তখন থেকেই বোঝা শুরু। ক্লাস নাইন টেনে থাকতেই পড়া শুরু হয়েছিলো কঠিন সব বই। সমরেশ, শীর্ষেন্দু, সুনীল সবই একে একে শুরু। তারপর হুমায়ূন আহমেদ।

ফেমাসনিউজ : মেলায় এবার কী কী বই এসেছে?

ফারজানা মিতু : মেলায় এবার ৪টি বই এসেছে। দিব্যপ্রকাশ থেকে এসেছে ‘প্রযত্নে সে’ এবং ‘তোমার মুঠোয় বন্দী আমার আকাশ’। দেশ পাবলিকেশন্স থেকে ‘পরকীয়া’ আর অন্বয় প্রকাশ থেকে ‘ফেরা না ফেরার গল্প’।

ফেমাসনিউজ : নতুন বই সম্পর্কে বলুন

ফারজানা মিতু : আমি বরাবরই রোমান্টিক ঘরানার কাহিনী লিখি। তাতে কষ্ট, প্রেম, বিরহ আর না পাওয়াগুলোই উঠে আসে। এবারও তাই। তবে কাহিনীর বৈচিত্র্য অবশ্যই আছে। একেকটি বইয়ে একেক রকম স্বাদ দিতে চেয়েছি আর পাঠক সেই স্বাদটুকু পুরোটাই পাবে বলেই আমার বিশ্বাস।

ফেমাসনিউজ : পরকীয়ার পাঠক সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

ফারজানা মিতু : পরকীয়া বইটি ইতোমধ্যে অনেক পাঠকের হাতে পৌঁছেছে। রিভিউ যা পেয়েছি পাঠকের কাছে সেটা খুবই পজিটিভ। আমি বরাবরই বলেছি বই নিয়ে সমালোচনা করার আগে বইটি পড়ুন। পরকীয়া নাম দেখে ভড়কে যাবার কিছু নেই। বইটি না পড়লে কখনই জানতে পারবে না আমি বইটিতে কী বলতে চেয়েছি।

ফেমাসনিউজ : বছরের অন্য সময় প্রকাশ না করে মেলায় কেন?

ফারজানা মিতু : আমি ২০১৫-২০১৬ সালে অনেকগুলো বই মেলার বাইরের সময়ে এনেছি; কিন্তু মেলায় যেভাবে পাঠকের আগ্রহ আর উদ্দীপনা দেখতে পাই সেটা অন্য সময়ে সেভাবে দেখা যায় না। লেখক হিসেবে আমাদের কাছে পাঠকই প্রধান তাই এখন চেষ্টা করি মেলাতেই বই নিয়ে আসার।

ফেমাসনিউজ : লেখালেখি চর্চার ক্ষেত্রে প্রেরণা বা প্রভাব কার কাছ থেকে বা কীভাবে?

ফারজানা মিতু : আমি সবসময়ই বলে থাকি কারও প্রেরণা কিংবা প্রভাবে আমি লেখালিখিতে আসিনি। আমাকে সেভাবে প্রেরণা প্রথম অবস্থায় কেউ দেয়নি। এখন অনেকেই দিয়ে থাকে কাছের মানুষেরা ছাড়াও দূরের মানুষেরাও।

ফেমাসনিউজ : আমাদের দেশে বইমেলার প্রয়োজনীয়তা কী? আপনার দৃষ্টিভঙ্গী বলুন

ফারজানা মিতু: একটা জাতি কখনোই শিক্ষা ছাড়া এগিয়ে যেতে পারে না। আর বই প্রতিটা মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষের মতোই অপরিহার্য বলেই আমি মনে করি। একটা ভালো বই একজন মানুষের জীবনে নানাভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। আর আমাদের দেশে যেহেতু বই কেনার প্রচলনটা বইমেলাতেই বেশি তাই বইমেলার গুরুত্ব অপরিসীম। আর এই সময়েই লেখক আর পাঠক এভাবে কাছাকাছি আসতে পারে। লেখক আর পাঠকের এমন সেতুবন্ধন বইমেলা ছাড়া সম্ভব না।

ফেমাসনিউজ : প্রকাশকদের নিয়ে আপনার অভিমত কী?

ফারজানা মিতু: একটি ভালো বইয়ের ক্ষেত্রে প্রকাশকদের ভূমিকা অনেক। প্রকাশকই পারে একটু ভালো, নির্ভুল বই পাঠককে উপহার দিতে। প্রকাশকেরা যদি ঠিকভাবে বইয়ের প্রচারণা করেন; তাহলে সেটি যদি ভালো বই হয়, তবে অবশ্যই সেটা পাঠকের হাতে যেতে বাধ্য। এখন অনেক প্রকাশকই আছেন যারা ব্যবসার দিকটি আগে দেখেন। বইয়ের গুণগত মান তারা উপেক্ষা করে যান। আর আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে অনেক লেখককেই বলতে শোনা যায় তারা ঠিকমতো রয়্যালিটি পান না। তাই প্রকাশক যদি এই ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি দেন তাহলে লেখকেরাও উৎসাহ পাবেন লেখালিখির ব্যাপারে।

ফেমাসনিউজ : কোন কোন বিষয়ে মনঃক্ষুণ্নতা আছে আপনার?

ফারজানা মিতু : অবশ্যই আছে। মেলা আসলেই দেখা যায় কিছু পরিচিত লেখকের বাইরে অন্য লেখকের বই পাঠক কিনতে চান না। বয়স্ক লেখকদের মতো কিছু পাঠকেরও ধারনা নতুন লেখকেরা লিখতে পারেন না। এই চিন্তা থেকে সবাইকে বের হয়ে আসতে হবে।

ফেমাসনিউজ : লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

ফারজানা মিতু : লেখালিখি আমার সবটুকু জুড়েই, তাই লিখে যাবো যতোদিন পারি। এবার পরকীয়া নিয়ে বড় পরিসরে যেমন লিখেছি তেমনি সামনেও এমনকিছু আরও লেখার আশা রাখছি। প্রতিটা মুহূর্তে প্রতিটি লেখায় আমি নিজেকে ভাঙি আর গড়ি। আগামীতেও আরও সমৃদ্ধশালী লেখা দিতে পারবো বলেই আশা করছি।

ফেমাসনিউজ২৪/আরইউ