logo

মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad
সংবাদপত্রে ১৭ বছর

গণমাধ্যমে নারীর যুদ্ধের প্রতিচ্ছবি দেখেছি সানজিদার লেখায়

উম্মুল ওয়ারা সুইটি | আপডেট: ২০ মার্চ ২০১৮

ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই বইয়ের খোঁজ খবর রাখি। শেষের দিকে কিছু বই কিনি। অনেক হিসেব নিকেষ করতে হয়। ফেব্রুয়ারি এলেই মনে হয়, সারা বছর কিছু টাকা কেনো জমিয়ে রাখি না। পরিচিত মানুষের বইগুলো কিছু অন্তত কিনবো। আর একেবারেই না কিনলে যেনো মনটা খারাপ হয়ে যায়, সেই রকম পছন্দের কিছু বই কেনা যায়।

এই ফিরিস্তি দিয়ে লাভ নেই। এটা আমার প্রতিবছরের নিজের জন্য নিজের কাসুন্দি। যাই হোক, ফেব্রুয়ারির ১০ তারিখের পর, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  সাংবাদিক মুস্তফা মনওয়ার সুজনের ফেসবুকে একটি বইয়ের প্রচ্ছদ দেখে সিদ্ধান্ত নিলাম এই বইটি সংগ্রহ করবো। বইয়ের শিরোনাম আমাকে খুব আকৃষ্ট করেছে। সানজিদা সুলতানার ‘সংবাদপত্রে ১৭ বছর’। গণমাধ্যমে একজন নারী ১৭ বছর পার করেছেন এবং তা নিয়ে তিনি লিখেছেন। কৌতুহল বেড়ে গেলো। পেশাপগত কারণে বইমেলায় এবার যাওয়া হয়েছে কম।

এরমধ্যে ১৮ ফেব্রুয়ারি  রাত ১০টায় অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে সানজিদার বর্তমান কর্মস্থল ইত্তেফাকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। চায়ের দোকানে দেখা আমার কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে। আড্ডায় বসে গেলাম। কিছুক্ষণ পরই দেখলাম সানজিদা সুলতানা হেঁটে আসছেন। তিনি আমার বেশ পরিচিত। কুশল বিনিময় করে বললাম, মেলায় যাওয়ার সময় পাচ্ছি না। এই বইটি আমি সংগ্রহ করতে চাই। লেখকের কাছ থেকে বইটি নিতে পেরে আমার খুব ভালো লাগলো। আরো অনেক বই জমে আছে। কয়েকটি পাতা উল্টাতেই মনে হলো, সব সিরিয়াল বাদ দিয়ে এই বই পড়তে হবে।

মার্চের ৮ তারিখে রাত ১২টার দিকে বইটি হাতে নিলাম। ভেবেছিলাম লেখক তার এই ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন এবং সেখানে হয়তো অনেক সত্যকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার ঘটনা থাকবে কিন্তু লেখক এখানে অনেক নির্মম সত্যকে তুলে ধরেছেন। আমি তাকে সালাম জানাই।

পড়তে শুরু করলাম, আর থামিনি। বইটি শেষ করে বসে রইলাম। ইচ্ছে করছিলো, লেখককে ফোন দিতে। এতো স্পষ্টভাবে গণমাধ্যমে নারীর সমস্যাগুলোকে তুলে ধরেছেন। কিভাবে দীর্ঘ সময় কাজ করার পরও নারী সাংবাদিকরা হারিয়ে যান। কিভাবে সহকর্মীরা একজন নারী সাংবাদিককে বাধা দেয়। চাকরি যাওয়ার পর কিভাবে অচেনা হয়ে যায় চেনা সবকিছু।

সানজিদার লেখায় আমি আমাকে দেখেছি। কি কষ্ট নিয়ে এই পেশাকে ভালোবেসে সানজিদার মতো গণমাধ্যমকর্মীরা টিকে আছে, তা আমাদের জানা উচিত। শুধু কর্মস্থলেই নয়, একজন নারী সাংবাদিক কিভাবে পরিবারেও উদ্ভুত পরিস্থিতির শিকার হন, তাও উঠে এসেছে এই বইয়ে। পড়তে গিয়ে আমার একবারের জন্যও  মনে হয়নি, এই শব্দটি না হলে ভালো হতো। সাবলিল উপস্থাপনা এবং অপ্রয়োজনীয় কোনা বিষয় নেই। কতটা ভালোবেসে এই পেশায় টিকে থাকে সাংবাদিকরা তার প্রতিচ্ছবি এখানে আমি পেয়েছি। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, এই বই সবার পড়া উচিত।

সানজিদার লেখায় অনেকের সমালোচনা উঠে এসেছে, যারা আমার খুব প্রিয়। এরকম অনেকের ক্ষেত্রেই হবে। আমার অনেক বন্ধুর নাম রয়েছে এই বইয়ে, যারা সানজিদার ব্যথার কারণ হয়েছেন। আমার কিছুটা খারাপ লেগেছে, সত্যিই এরা কি সহকর্মীর বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন?

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক