logo

শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৬ ফাল্গুন, ১৪২৬

header-ad

খাদিজা আক্তারের গুচ্ছ কবিতা

| আপডেট: ৩১ মে ২০১৮

জীবন মৃত্যু মাঝে

আমি ভাবতে ভাবতে ভাসি
কাঁদতে কাঁদতে হাসি।
একদিন পেয়ে যাবো হয়তো ঠিকানা,
অসীমের ওপারে আমার আনাগোনা।
জীবনের গহবরে অসুন্দরের চিৎকার,
সম্মুখে এ কোন সুন্দরের সৎকার।
জীবন মৃত্যু মাঝে,
জীবনানন্দ হাসে!
নিরুদ্দেশ আমি যদি হারাই,
কে ধরবে বলো এ অধমের নাটাই?

পাথর শহর

তোমাদের ইট পাথরের শহর থেকে
চলে যাবো একদিন।
অন্য কোথাও, অন্য কোনোখানে।
জীর্ণ ভালোবাসার এই শীর্ণ মানবতা
আর কতোদিন?
আর কতোদিন, দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে সম্মুখে...
পরিত্যক্ত, দূষিত জলে ভেসে উঠে
মরা মাছের সফেদ চোখ
তোমাদের কোলাহলে বিলীন হয়,
মুমূর্ষু প্রকৃতির অদৃশ্য চিৎকার।
এইখানে, এখানে
পরিপাটি শহরের নখাগ্রে,
সাজানো গোছানো মৃত্যু!
তিমির নয়, হয়তোবা নক্ষত্র রাতে
নগ্ন পায়ে হেটে চলে...
প্রেমিকা, নাকি গণিকার দল?
অন্ধকার শেষ হলে টের পাই,
এখানে কাকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে...

হলুদ বিকেল

একদিন থেমে যাবে ঘড়ির কাটা।
নষ্ট সময়ের যতো ভ্রষ্ট স্বপ্নের মিছিলে,
একদিন পরাজিত আমি।
বিলীন হবে অদৃশ্য প্রেমের অযাচিত গ্লানি,
দূষিত রাতের তিমির পেরিয়ে,
মুছে যাবে চোখের ক্লান্তি।
তারপর আবার সবুজ হবে পৃথিবী,
নীল আকাশের নীচে জীবনের আয়োজন,
হলুদ বিকেলে এক কাপ চা, আর...?
তুমি আর আমি।

কথোপকথন

—গতরাতে বৃষ্টি হয়েছে খুব। তোমার ওখানে?
—না,হয়নিতো। মেঘের গর্জনে যতটুকু আশা উঁকি দিয়েছিলো পরে তা মিলিয়ে গেলো প্রকৃতির বৈরী আচরণে।
—তাই বুঝি?
—হুম।
—ভেজা রাতের আবেশ মাখানো আজ ঠা-া, কোমল,মায়াময় সকাল আমার এখানে।
—সে তোমার পৃথিবী বরাবরই তোমার সাথে সখ্যতায় মেতে উঠে।আর তাই বুঝি আজ কবিতার সাথে মিতালী?
—না।
—তাহলে?
—বৈষয়িক জীবনের জাগতিক টুকটাক কাজ শেষ করে এক কাপ অমৃত চা নিয়ে নজরুলের চিঠি শুনছি সাগর সেনের কণ্ঠে।
—বাহ্।নজরুলের চিঠি!
—হুম।
—ইশ্,আমিও যদি তোমার এক কাপ চায়ের অংশীদার হতে পারতাম,তাহলে আজ নিজেকে বড্ড ভাগ্যবান মনে করে পুলকিত হতাম। যাক্, এবার বলো...
—বলছি...
—বলো?
—কী যে দুর্দান্ত ভালোলাগা! আর নজরুলের বৈরাগী মনের সাথে পরিচিত হওয়া।
—সে চিঠিরর প্রাপক কে?
—নার্গিস।তুমি পড়েছো?শুনেছো কখনও?
—না।
—মিথ্যে,তুমি মাঝে মাঝে আমার কাছে না জানার মতো করে নিজেকে আড়াল করো,এটা তোমার এক ধরণের বিনয় প্রকাশ।
—আচ্ছা, এবার বলো এতে কি আছে...? সত্যি বলছি আমি নজরুলের চিঠি পড়িনি,জানিওনা ভালো।
—কি নেই তাই বলো?
—হুম শুনছি।
—আমি পারিনে অতো সুন্দর করে।সাগর সেনের মুখে নজরুলের চিঠি আবৃতি আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনি।ভাল্লাগেতো!
—আজকাল নজরুলের চিঠি শুনছো বুঝি?
—হুম... আগেও পড়েছি তাঁর মতিহার চিঠি। ফজিলাতুন্নেসাকে নিয়ে বন্ধু কাজী মোতাহার হোসেনের কাছে লিখা নজরুলের বেদনা ভেঁজা চিঠি।
—একটু কিছু বলো?
—‘ক’ফোটা রক্তে এক ফোটা চোখের জল হয়, তোমাদের বিজ্ঞানকি বলতে পারে বন্ধু?’ কি কঠিন জিজ্ঞাসা,ভাবতে পারো?
—হুম... যেন আগ্নেয়গিরি থেক বের হয়ে এলো।
—হ্যা, নজরুলতো আগ্নেয়গিরি... কখনও ধূমকেতু আবার কখনওবা অগ্নীবীণা...
—নজরুল এক পৃথিবী অভিমানের নাম!
—দারুণ বল্লেতো!
—তাই?
—হুম... জানো? নজরুল নার্গিসকে লিখেছিলো... ‘তুমি এই আগুনের পরশমানিক না দিলে আমি অগ্নিবীণা বাজাতে পারতাম না, আমি ধূমকেতুর বিষয় নিয়ে উদিত হতে পারতাম না।’
—কী বোঝাতে চাচ্ছ? কবির সকল শক্তিই নারী?
—হা... হা। সে তোমার বোঝার ভুল।
—মেনে নিলাম।

—তাহলে বলছি শুনো... ‘তুমি ভুলে যেওনা আমি কবি,আমি আঘাত করলেও ফুল দিয়ে করি, অসুন্দর, কুৎসিত সাধনা আমার নয়। আমার আঘাত বর্বরের কাপুরুষের আঘাতের মতো নিষ্ঠুর নয়।’
—কাকে উদ্দেশ্য করে?
—নার্গিস ।
—হুম।
—কি হুম...? সময় করে নজরুলের চিঠির নির্যাশ গ্রহণ করো...
—তুমি যখন বললে...
—তাই বুঝি? আমি বললেই...
—হুম...তুমি বললেই...।

ফেমাসনিউজ২৪/আরইউ