logo

রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮ | ৭ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

লেখক ও চিন্তাবিদ আহমদ ছফার ৭৫তম জন্মদিন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ৩০ জুন ২০১৮

লেখক ও চিন্তাবিদ আহমদ ছফার ৭৫তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকসহ আরও অনেকের মতে, মীর মশাররফ হোসেন ও কাজী নজরুল ইসলামের পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি মুসলমান লেখক হলেন আহমদ ছফা। তার লেখায় বাংলাদেশি জাতিসত্তা প্রাধান্য পেয়েছে।

১৯৬০ সালে তিনি এলাকার নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ১৯৬২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হলেও অনিয়মিত ছিলেন। ১৯৬৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ থেকে প্রাইভেটে পরীক্ষা দিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে স্নাতক উত্তীর্ণ হন। এমএ পরীক্ষাও দেন প্রাইভেটে। ছাত্রাবস্থায়ই গোপনে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন।

প্রথাবিরোধী, নির্মোহ, অকপট দৃষ্টিভঙ্গীর জন্য আহমদ ছফা তার সময়ে বুদ্ধিজীবী মহলে বিশেষ আলোচিত ছিলেন। অনেকে তাকে বিদ্রোহী, বোহেমিয়ান, উদ্ধত, প্রচলিত ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাহীন ও বিতর্কপ্রবণ বলে অভিহিত করেছেন।

সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায় তিনি প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। গল্প, গান, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ, ইতিহাস, ভ্রমণকাহিনী মিলিয়ে তিরিশটির অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি। তার রচিত প্রতিটি উপন্যাসই ভাষিক সৌকর্য, বিষয়বস্তু ও রচনাশৈলীর অভিনবত্বে অনন্য। মানসিক, সাংস্কৃতিক ও আর্থসামাজিক সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অনুষঙ্গসহ ছফার চরিত্র সৃষ্টির তথা কাহিনীকথনের পারঙ্গমতা অসামান্য।

আহমদ ছফার প্রথম গ্রন্থ একটি উপন্যাস- সূর্য তুমি সাথী। প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম গ্রন্থ হিসেবে মুক্তধারা থেকে প্রকাশ পায় তার প্রবন্ধ গ্রন্থ জাগ্রত বাংলাদেশ। প্রকাশকাল শ্রাবণ ১৩৭৮ বা জুলাই ১৯৭১ সাল। তার রচিত ওঙ্কার (১৯৭৫) বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সর্বোত্তম সাহিত্যিক বহিঃপ্রকাশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে রচিত গাভী বিত্তান্ত (১৯৯৫) বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাসগুলোর একটি। পুষ্প বৃক্ষ ও বিহঙ্গ পুরাণ-এ (১৯৯৬) ছফা ঢাকা শহরের পরিপ্রেক্ষিতে ফুল, পাখি, বৃক্ষ তথা বৃহৎপ্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের এক নিজস্ব বয়ান হাজির করেছেন।

২০০১ সালের ২৮ জুলাই অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার সময় মহান এই বুদ্ধিজীবীর মৃত্যু হয়। জীবদ্দশায় এই লেখক বিভিন্ন পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। তবে ২০০২ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি