logo

জয়কে হত্যা চেষ্টা মামলার প্রতিবেদন ১ নভেম্বর

সজীব ওয়াজেদ জয়প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা চেষ্টা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিরের জন্য আগামি ১ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য্য করেছে আদালত।

মঙ্গলবার এমামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য্য ছিল। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সহকারি পুলিশ সুপার মো. হাসান আরাফাত প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম মো. সারফুজ্জামান আনছারি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামি ১ নভেম্বর পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করেছেন।

গত ২০১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের নিদের্শে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরীর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন শফিক রেহমান। পরে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। শফিক রেহমানের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন মো. সানাউল্লাহ মিয়া ও মো. মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

এরআগেই সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ নির্দেশ দেন, জামিন চাইতে বিচারিক আদালতেই যেতে হবে শফিক রেহমানকে। একই সঙ্গে শফিক রেহমান আবেদন করার পর তার জামিন মঞ্জুর করার বিষয়টি বিবেচনার জন্য বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দিয়েছিল আপিল বিভাগ।

দীর্ঘদিন করাভোগের পর মামলায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ও সিনিয়র সাংবাদিক শফিক রেহমান দুই দফায় রিমান্ড শেষে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

গত ২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার হাসান আরাফাত দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কারাবন্দী সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীপুত্র জয়কে অপহরণ ও হত্যার চক্রান্তে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড দেয়ার আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবীর  আদালত মাহমুদুর রহমানকে জয়ের অপহরণ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয়া যাবে কিনা এ বিষয়ে মাহমুদুর রহমানের উপস্থিতি—তে শুনানির জন্য ২৫ এপ্রিল তারিখ ধার্য করেন। সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেফতারের পর ১৮ এপ্রিল সোমবার সকাল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে এ আবেদন করেছেন।

মামলার রিমান্ড ও গ্রেফতার আবেদন থেকে জানা গেছে,যুক্তরাষ্ট্রে দণ্ডিত বিএনপি নেতার ছেলে রিজভী আহমেদ সিজারের কাছ থেকে মাহমুদুর রহমানও প্রধানমন্ত্রীপুত্রের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়েছিলেন।

গত বছর সিজারকে দণ্ড দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের দেয়া রায়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলের ক্ষতি করার লক্ষ্যে তার ব্যক্তিগত তথ্য পেতে আসামি এফবিআইয়ের এক এজেন্টকে ঘুষ দিয়েছিলেন। ঘুষ দিয়ে তথ্য পাওয়ার পর তা সিজার বাংলাদেশি ‘একজন সাংবাদিককে’ তা সরবরাহ করেছিলেন এবং বিনিময়ে প্রায় ৩০ হাজার ডলার পেয়েছিলেন বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। ওই রায়ের পর জয়কে অপহরণের চক্রান্তের অভিযোগ তুলে ঢাকার পল্টন থানায় পুলিশ একটি মামলা করে, যাতে সিজারের বাবা প্রবাসী বিএনপি নেতা মেহম্মদ উল্লাহ মামুনসহ দলটির শীর্ষ নেতাদেরও আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের আগে যেকোনো সময় হতে এ পর্যন্ত বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংগঠন জাসাস এর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনসহ বিএনপি ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত অন্যান্য দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা রাজধানীর পল্টনের জাসাস কাযালয়ে, আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার আসামিরা একত্রিত হয়ে যোগসাজসে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমেরিকায় অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান গত  ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলাটি করেন।

গত ২০১৬ সালের ১৬ এপ্রিল সকালে রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসা থেকে সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে দুই দফায় তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিঞ্জাসাদ করেছে পুলিশ। গত ২২ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ড নেয় সফিক রেহমানকে। এ মামলার আসামি সফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমান জামিনে রযেছেন।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/শান্ত/মোশাই